রফিক ও সফিক মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে উদ্ভিদ কোষ পর্যবেক্ষণ করছিল। রফিক একটি গোলাকার অঙ্গাণুতে সুতার মতো কিছু দেখতে পেল। সফিক ডিম্বাকৃতি দুটি অঙ্গাণু দেখতে পেল। একটি শক্তি সরবরাহ করে, অন্যটি খাদ্য প্রস্তুত করে।
রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালিকার প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে। এ উপাদানগুলোকে সম্মিলিতভাবে লসিকা বলে।
রক্তকে তরল যোজক কলা বলা হয়। কারণ রক্তে বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এ টিস্যুর প্রধান কাজ হলো বিভিন্ন দ্রব্যাদি (যেমন- অক্সিজেন, খাদ্য, রেচন পদার্থ) দেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করে। এছাড়া রক্ত দেহের গাঠনিক, যান্ত্রিক ও প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালনের পাশাপাশি অন্যান্য কলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এদের পুষ্টি জোগানো, বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্ত জমাট বাধায় সহায়তা করে তাই একে যোজক কলা বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রফিক যে উপাদানটি পর্যবেক্ষণ করেছিল তা হলো ক্রোমাটিন তন্তু। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয়। তখন এদের আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়। নিচে ক্রোমোজোমের গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। এটি নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে বিস্তৃত এবং সূত্রাকার ক্রোমাটিন দিয়ে গঠিত। প্রজাতির বৈশিষ্ট্যভেদে কোষে ক্রোমোজোমের ডিপ্লয়েড সংখ্যা ২ থেকে ১৬০০ পর্যন্ত হতে পারে। একটি ক্রোমোজোম দৈর্ঘ্যে সাধারণত ৩.৫ থেকে ৩০.০০ মাইক্রন এবং প্রন্থে ০.২ থেকে ২.০ মাইক্রন পর্যন্ত হয়। ক্রোমোজোমে একটি বাহু, গৌণ কুঞ্চন, সেন্ট্রোমিয়ার, ক্রোমোনেমাটা এবং ধাত্র থাকে। আর ক্রোমোজোমের সাথে নিউক্লিওলাসের যে অংশ লাগানো থাকে তার ঐ অংশটিকে বলা হয় স্যাটেলাইট। এর প্রান্তে টেলোমিয়ার থাকে। ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউক্লিক এসিড (DNA ও RNA), প্রোটিন (হিস্টোন ও নন-হিস্টোন) ও অন্যান উপাদান।
উদ্দীপকের সফিকের দেখা অঙ্গাণু দুটি হলো যথাক্রমে মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্ট। মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট সমন্বিতভাবে উদ্ভিদে শক্তি সরবরাহ করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করা। ক্লোরোপ্লাস্ট তথা প্লাস্টিডের গ্রানা অংশে সূর্যালোক আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক, বায়ু থেকে গৃহীত এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে যা শ্বসনিক বস্তুরূপে ব্যবহৃত হয়। শ্বসন প্রক্রিয়ায় এই শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে , এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। অপরদিকে, মাইটোকন্ড্রিয়ায় শ্বসনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র সংঘটিত হয়। এই পর্যায়গুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সহায়তায় উৎপন্ন শর্করা ব্যবহৃত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা হয়। জীব তার বিভিন্ন কাজে এ শক্তি ব্যবহার করে থাকে। এভাবেই মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট শক্তি সরবরাহ করে।
