| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রফিকের সংসারে সচ্ছলতা…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – নেকলেস, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রফিকের সংসারে সচ্ছলতা না থাকলেও শান্তিতেই ছিল তারা। কিন্তু লোভে পড়ে উপরি পাওনার আশায় কোম্পানির মাল পাচারে সহযোগিতার দায়ে দারোয়ানের চাকরিটা চলে যায় তার। সংসারে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য। বাধ্য হয়ে ‘রফিকের স্ত্রী কল্পনাকে পরের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করতে হয়। রাত অবধি হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সে ঘরে ফেরে। তার চেহারায় মলিনতার ছাপ দেখতে পেয়ে কষ্ট পায় রফিক। তবে মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারে না। কারণ সে জানে, তার এ শাস্তি আত্মকৃত। কাউকে সে দোষ দিতে পারে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৮
পরিষদের অফিসে চাকরি করত।
অনিদ্রা, অনাহার ও অতিরিক্ত পরিশ্রম করার কারণে মাদাম লোইসেলকে এখন বয়স্কা বলে মনে হয়।
বান্ধবীর কাছ থেকে ধার করা হীরার হার মাদাম লোইসেল বল নাচের অনুষ্ঠানে গিয়ে হারিয়ে ফেলে। সেই হার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের অনেক দেনা হয়। দেনা শোধ করার জন্য স্বামী-স্ত্রী দুজনেই অমানুষিক পরিশ্রম করে। অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে মাদাম লোইসেলের বাইরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে তাকে এখন বয়স্কা বলে মনে হয়।
উদ্দীপকের কল্পনার সাথে 'নেকলেস' গল্পের 'মাদাম লোইসেলের সাদৃশ্য আছে।
সংসার জীবনে মানুষকে বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিচরণ করতে হয়। কখনো কখনো নেমে আসে দুঃখের ঘনঘটা। কিন্তু পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনের যেকোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব।
'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেল ছিল শ্রমবিমুখ আরামপ্রিয় নারী। বিলাসী জীবনযাপনের প্রতি তার অনেক বেশি আগ্রহ ছিল। নেকলেস হারানোর ঘটনায় তার জীবন পাল্টে যায়। জীবনের কঠিন বাস্তবতা অনুধাবন করে সে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে এবং সব কাজ নিজেই করে। তার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সহযোগিতা করে। জীবনের কষ্ট ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে তার চেহারায় মলিনতার ছাপ ফুটে ওঠে। উদ্দীপকের কল্পনার মাঝেও পরিশ্রম করার দিকটি বর্ণিত হয়েছে। স্বামীর বিপদে তাকে অন্যের বাড়িতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছে। সংসারে নেমে আসা চরম দারিদ্র্য এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে কল্পনার চেহারায় মলিনতার ছাপ পরিলক্ষিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্দীপকের কল্পনার সাথে 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের সাদৃশ্য আছে।
উদ্দীপক ও 'নেকলেস' গল্প একই বৃক্ষের দুটি ফল- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের অতিরিক্ত লোভ বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেক সময় বড় বিপদ ডেকে আনে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ নিজের ক্ষমতার কথা চিন্তা না করে আকাঙ্ক্ষিত বস্তুর দিকে ধাবিত হয় বলে অতি দ্রুত ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। এমন মানুষ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে ভয় পায়।
উদ্দীপকে রফিকের অতিরিক্ত লোভ তার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোভের কারণে সে চাকরি হারায়। শান্তির সংসারে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য। তার স্ত্রীকে অন্যের বাড়িতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। স্ত্রীর মলিন চেহারা দেখে তার অনুশোচনা হয়। সে নিজেকে দোষী ভাবে। কারণ তার কারণেই আজ তাদের এই করুণ অবস্থা। 'নেকলেস' গল্পেও মাদাম লোইসেলের অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। নিজেকে ধনী প্রমাণ করার জন্য বান্ধবীর কাছ থেকে হীরের হার ধার করে এনে অনুষ্ঠানে যায়। হারটি হারিয়ে যাওয়ায় নতুন হার কিনে বান্ধবীকে দেয়। এই হারের টাকা পরিশোধ করতে তাদের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। কিন্তু মাদাম লোইসেল অনুতপ্ত হলেও কাউকে দোষ দিতে পারে না। কারণ তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণেই আজ তাদের এই অবস্থা।
উদ্দীপকের রফিক এবং 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেল উভয়ই তাদের অতিরিক্ত লোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হয়। তাদের সংসারে নেমে আসে কষ্টের ঘনঘটা। উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে কষ্টে নিমজ্জিত হওয়ার বিষয়টি উদ্দীপক এবং 'নেকলেস' গল্প উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সেই বিচারে বলা যায়, উদ্দীপক এবং 'নেকলেস' গল্প একই বৃক্ষের দুটি ফল।