| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রিফাত তার মনের…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রিফাত তার মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রকৃতির বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ছবি আঁকে। লাবিবা খুবই মিশুক, সে একা থাকতে পারে না। সৃষ্টিকর্তার প্রতি রয়েছে তার গভীর বিশ্বাস।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
Edward Spranger মূল্যবোধকে ছয় ভাগে ভাগ করেছেন।
শিশুর মূল্যবোধ গঠনের ব্যাপারে তার সঙ্গীদল বা খেলার সাথীরা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
বিদ্যালয়ে একই শ্রেণির ছাত্র বা পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্য একই বয়সী দলকে সমবয়সী দল বলা যায়। সমবয়সীদের প্রশংসা, নিন্দা, সমর্থন সব কিছুর প্রতি শিশুরা অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। সমবয়সী দলের আদর্শমান শিশুর আচরণকে নির্ধারণ করে থাকে। নিজেদের সম্বন্ধে ধারণা গঠনেও সমবয়সীদের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এজন্য সমবয়সী দলকে মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যম বলা হয়।
রিফাতের মধ্যে সৌন্দর্যবোধ বা নান্দনিক মূল্যবোধ লক্ষ করা যায়।
মানুষ মাত্রই সৌন্দর্যপ্রিয়, অর্থাৎ সৌন্দর্য সত্য, সত্যই সুন্দর। নান্দনিক বা সৌন্দর্য মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বা বিচার বিশ্লেষণ দ্বারা পরিচালিত না হয়ে তার মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা ও আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সৌন্দর্যপ্রিয় ব্যক্তি তার মানসিকতা থেকে কোনটি বেশি আকর্ষণীয় তা খুঁজে পায়। এরা প্রকৃতির মধ্যে সর্বদা সৌন্দর্য খুঁজে পেতে চায়। যেমন-চিত্রশিল্পী প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ছবি আঁকার মাধ্যমে তার মনের ভাব ফুটিয়ে তোলে। তবে এরা সৃজনশীল নয়, কোনো নতুন উদ্ভাবনী কৌতূহল তাদের নেই। সবই সৌন্দর্য বলে প্রত্যক্ষ করে।
উদ্দীপকে রিফাত তার মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রকৃতির বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ছবি আঁকে। সুতরাং বলা যায় তার মধ্যে সৌন্দর্যবোধ বা নানন্দিক মূল্যবোধ লক্ষ করা যায়। কেননা সৌন্দর্যবোধ বা নান্দনিক মূল্যবোধ প্রাপ্ত ব্যক্তিরা সর্বদা সৌন্দর্য খুঁজে বেড়ায়।
লাবিবার মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ লক্ষণীয়।
সামাজিক মূল্যবোধ সামাজিক আচরণবিধির সাথে সম্পৃক্ত। সমাজের যেসব আচরণের প্রতি অধিকাংশ মানুষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে সেসব ক্ষেত্রে অভিন্ন মনোভাব প্রকাশ করাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে। সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সহজেই সকল ধরনের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ও প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। মানুষের প্রতি এদের প্রবল ভালোবাসা থাকে।
এরা দয়ালু, পরোপকারী, সহানুভূতিশীল এবং নিঃস্বার্থ হয়ে থাকে। এরা কখনো নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করেন না। অন্যদিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এবং তার সান্নিধ্য অর্জনে নির্ধারিত আচরণ প্রকাশ করা। এ মূল্যবোধ মূলত সৃষ্টিকর্তা ও কিছু ধর্মীয় বিধি-বিধানভিত্তিক বিশ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে এবং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। ব্যক্তির, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে লাবিবা খুবই মিশুক, সে একা থাকতে পারে না। লাবিবার এরূপ বৈশিষ্ট্য সামাজিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করে। কারণ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলে। আবার লাবিবা আধ্যাত্মিক প্রকৃতির। সৃষ্টিকর্তার প্রতি তার রয়েছে গভীর বিশ্বাস। তার এ বৈশিষ্ট্যটি ধর্মীয় মূল্যবোধকে নির্দেশ করে। কারণ ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা ধার্মিক হয়।
পরিশেষে বলা যায়, লামিয়ার মধ্যে একাধিক মূল্যবোধ তথা সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিদ্যমান।