| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রিকশাচালক সাহেব আলির…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রিকশাচালক সাহেব আলির মেয়ে সালেহা। প্রাইমারির পর পড়া হয়নি তার। বয়স হয়তো ১২ কি ১৩। বড়ই চঞ্চলা। তিন বোনের মধ্যে সে-ই বড়। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে একদিন বিয়ের প্রস্তাব আসে সালেহার। ছেলে থাকে বিদেশে, দালানবাড়ি, অনেক টাকার মালিক। তবে শর্ত একটা, “আপাতত মোবাইল ফোনে বিয়ে; ছেলে দেশে ফিরলে বউকে তুলে নেবে ঘরে। যতদিন না ফিরবে ততদিন বউয়ের খরচপত্র বাবদ টাকা পাঠিয়ে দেবে।” এমন প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার উপায় ছিল না দরিদ্র সাহেব আলির। নিয়ম মেনে বিয়ে। তারপর কয়েক বছর পর দেশে ফিরল ছেলে। ছেলের বয়স এখন পঞ্চাশ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'কাঁদো নদী কাঁদো' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস।
"লালসালু" উপন্যাসে মাজারের খাদেম মসজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী হচ্ছেন জমিলা মসজিদে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে কিশোরী জমিলাকে বিয়ে করে। মজিদের প্রত্যাশা ছিল জমিলা তার সব আদেশ নির্দেশ পালন করবে তার প্রথম বিবি রহিমার মত। কিন্তু দিনে দিনে জমিলার মধ্যে বেপরোয়া ভাব প্রকাশ পেতে থাকে। কেননা সে মসজিদের ভন্ডামি ধরতে পেরেছিল।মসজিদের বিরুদ্ধে মূলত ঝামেলা নিরবে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। তাই জমিলাকে "লালসালু" উপন্যাসের প্রতিবাদী চরিত্র বলা হয়।
উদ্দীপকে সালেহার সঙ্গে লালসালু উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য হচ্ছে প্রতিবাদী ও সাহসী মনোভাব।
"লালসালু" উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মসজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা। মজিদ মোদ্দাচ্ছের পীরের মাজারের খাদেম বলে গ্রামের সবাই তাকে মান্য করে। তাই জমিলার মধ্যেও মসজিদ ধর্ম পালন ও স্বামীর নির্দেশ মেনে চলার মতো বিষয়গুলো আশা করেছিল। কিন্তু জমিলা অল্পদিনের মধ্যেই মসজিদের ভন্ডামি বুঝতে পারে। ফলে মসজিদ তাকে শাস্তি দিলেও সে তা না মেনে নিজের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে সালেহার বিয়ে হয় প্রবাসী একবৃদ্ধের সঙ্গে। দালান বাড়ি, অর্থ সম্পদ দেখে গরীব রিক্সা চালকের মেয়ে হয়ে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। মোবাইলে বিয়ে হওয়ায় ছেলে বিদেশ থেকে আসার পর দেখা যায় তার বয়স ৫০ বছর তখন তার আর কিছুই করার থাকে না।অন্যদিকে উপন্যাসে আমরা দেখি যে জমিলার বাবা এক পীরের সাথে বিবাহ দিলে জমিলা সেই পীরের ভন্ডামি ধরে ফেলে। তখন জমিলা নিজের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিবাদী ও সাহসী মনোভাব প্রদর্শন করে। আর এই দিকটিই তাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
উদ্দীপকে কেবল বৃদ্ধ হয়েও অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে যাকে আলোচ্য উপন্যাসের ক্ষুদ্র সংস্করণ বলা যায় না।
"লালসালু" উপন্যাসের মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বলে নিজের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তার করে। সে গ্রামের মানুষের ধর্মান্ধতার সুযোগে মাজারকে কেন্দ্র করে সবার উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে সক্ষম হয়। আবার সে সন্তান লাভের আশায় স্ত্রী হিসেবে অল্প বয়সী জমিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই বৃদ্ধ প্রবাসী টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে অল্প বয়সে সালেহাকে বিয়ে করে নিজেকে না দেখে মোবাইলে বিয়ে সম্পন্ন করে দেশে ফিরলে মেয়ে তুলে নেয়া হবে এবং মাসে মাসে তার খরচ দিবে এমন কথায় সবাইকে বোকা বানায় কিন্তু ছেলে বিদেশ থেকে আসার পর দেখা যায় তার বয়স ৫০ বছর তখন আর সালেহার কিছু করার থাকে না।
লালসালু উপন্যাসে মজিদ চরিত্রের ভন্ডামীর দিকটি লক্ষ্য করা যায়। সে শস্যহীন অঞ্চল থেকে মহব্বত নগর গ্রামে আসে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। এখানে এসে গ্রামের মানুষের সরলতার সুযোগে মজিদ নিজের মাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায় সাফল্য লাভ করে। সন্তান লাভের আশায় সে অল্প বয়সী জমিলাকে বিয়ে করে।উদ্দীপকের সাথে কেবল এই একটি দিকের মিল পাওয়া যায়।গ্রামীণ সমাজে নানা কুসংস্কারচ্ছন্ন দিক উপন্যাসে আলোচিত হয়েছে। যা উদ্দীপকের কোথাও চিত্রায়িত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রতারণার দিক দিয়ে উদ্দীপকটিতে লালসালু উপন্যাসের একটি খণ্ডাংশের ইঙ্গিত রয়েছে মাত্র, যা আলোচ্য উপন্যাসে ক্ষুদ্র সংস্করণ হয়ে উঠতে পারিনি।