A. Nayan
A. Nayan
18 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘রিপন সাহেব একজন…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫ – সমন্বয়, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: ময়মনসিংহ বোর্ড📅 সাল: ২০২৫⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

রিপন সাহেব একজন ব্যবসায়ী। পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করা সত্ত্বেও দেহের ওজন কমে যাচ্ছে এবং দুর্বলতা অনুভব করছেন। ইদানিং ঘন ঘন প্রস্রাবও হচ্ছে। তাঁর বাবার বয়স ৫৫ বছর। তিনি হাত ও পায়ের কাঁপুনির জন্য দাঁড়াতে ও হাঁটতে অসুবিধা বোধ করেন এবং মাংসপেশিতে ব্যথা অনুভব করেন।

উত্তর:

অ্যাক্সলেমা: অ্যাক্সনের মূল অক্ষের আবরণীকে অ্যাক্সলেমা বলে।

উত্তর:

প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলতে উদ্দীপনার আকস্মিকতা এবং তার কারণে স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়াকে বোঝায়। হঠাৎ করে আঙ্গুলে সুচ ফুটলে অথবা হাতে গরম পানি পড়লে আমরা দ্রুত হাতটি উদ্দীপনার স্থান থেকে সরিয়ে নিই, এটি প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফল। যেসব উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে সুষুমা কাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় সেগুলোকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে।

উত্তর:

রিপন সাহেবের বাবা পারকিনসন রোগে আক্রান্ত। পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাত ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়। এই রোগের কারণ ও এর উপসর্গগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলো:

কারণ: স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন। ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পারকিনসনের কারণে রোগীর মাংসপেশি আরও অকার্যকর হয়ে উঠে, ফলে রোগীর চলাফেরা, লেখালেখি ইত্যাদি কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

উপসর্গ: পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকট রূপে দেখা দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগী হালকা হাত বা পা কাঁপা অবস্থায় থাকে। ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়। এছাড়াও চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা, কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া, নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া, যেমন চেয়ার থেকে উঠা কিংবা হাঁটতে শুরু করার সময় অসুবিধে হওয়া- এই ধরনের নানা উপসর্গ দেখা দিতে, শুরু করে।
ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণ, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করার মাধ্যমে রোগী অনেকটা সুস্থ থাকে।

উত্তর:

উদ্দীপকের রিপন সাহেবের রোগটি হলো ডায়াবেটিস রোগ। এই রোগটি হয় ইনসুলিনের অভাবে। এ রোগটি সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে। এটি সংক্রামক বা ছোঁয়াছে নয়। চিকিৎসা করে ডায়াবেটিকস রোগ নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়িন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে তিনটি 'D' যথা- Discipline (শৃঙ্খলা), Diet (খাদ্য নিয়ন্ত্রণ), Dose (ঔষধ সেবন) মেনে চলা অত্যাবশ্যক। নিচে তার বর্ণনা দেয়া হল:

i.শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবন ব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া-

  • নিয়মিত ও ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা।
  • রোগীর দেহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া।
  • নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা।
  • দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া একান্ত কর্তব্য।

ii. খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা। মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ও সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়।

iii. ঔষধ সেবন (Dose): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর শ্বসনের হার কমে যায়, ফলে পানি স্বল্পতার কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে রোগী বেহুশ হয়ে পড়ে। অনেক সময় রোগীর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে।

অতএব, বহুমূত্র বা ডায়াবেটিকস রোগ নিরাময় করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়- কথাটি যথার্থ।

9 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘রিপন সাহেব একজন…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫ – সমন্বয়, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)”