| ㅤ | A. Nayan29 Oct 2026 (3 hours ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রিয়াদ গত ঈদের…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৮ – আরোহের প্রকারভেদ, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

রিয়াদ গত ঈদের ছুটিতে তার মামার বাড়িতে গেল। সেখানে তার মামাতো ভাই শফিকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে শফিকের ঘরে একটি সেলফে অনেকগুলো বই দেখে অবাক হলো। সে একে একে বইগুলো পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। সে দেখলো সেখানে ৫০টি বই আছে। বইগুলো সবই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। রিয়াদ শফিককে বললো, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জনপ্রিয় লেখক।’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
কলবিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নীতির ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপনের প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
যুক্তিবিদ মিল যে তিন প্রকার অপ্রকৃত আরোহের কথা বলেছেন তার প্রথম রূপটি হলো পূর্ণাঙ্গ আরোহ। যে আরোহের ক্ষেত্রে কোনো শ্রেণিভুক্ত সকল দৃষ্টান্তকে গণনার মাধ্যমে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্যে স্থাপন করা হয় তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। যেমন- একটি বাগানে কতকগুলো গাছ আছে। বাগানে ঢুকে প্রত্যেকটি গাছ প্রত্যক্ষ করে দেখা গেল এগুলো কমলা গাছ। এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো যে, এটি একটি কমলার বাগান। এভাবে পূর্ণাঙ্গ আরোহে যে শ্রেণি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তার প্রত্যেকটিকে গণনা করে বা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ আরোহকে পূর্ণগণনামূলক আরোহ বলা হয়।
উদ্দীপকে শফিকের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকের পূর্ণাঙ্গ আরোহের মিল রয়েছে। যে আরোহ অনুমানে সকল দৃষ্টান্তের পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণের ভিত্তিতে সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। যেমন- একটি ঝুড়িতে রাখা ১৫টি আঙ্গুরের স্বাদ পরীক্ষা করে বলা হলো, 'ঝুড়ির সকল আঙ্গুর হয় টক'। এই সার্বিক বাক্যটির সত্যতা পরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্রভাবে প্রতিটি আঙ্গুর খেয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। এ কারণে এটি পূর্ণাঙ্গ আরোহের দৃষ্টান্ত। উদ্দীপকে উল্লেখিত শফিক একটি সেলফের সকল বই পর্যবেক্ষণ করে। সে দেখে সেখানে ৫০টি বই আছে এবং সবগুলো বই-ই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। তার এ দৃষ্টান্ত পূর্ণাঙ্গ আরোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ তাকে প্রতিটি বই পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পূর্ণাঙ্গ আরোহে আরোহমূলক লম্ফ না থাকার কারণে তা প্রকৃত আরোহ নয়।
যে আরোহ অনুমানে প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণের ভিত্তিতে সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। পূর্ণাঙ্গ আরোহের অন্তর্গত প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করার পর সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বস্তুত আরোহ অনুমানের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আরোহমূলক লম্ফের (জানা থেকে অজানায় যাওয়া) উপস্থিতি। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকে। এ কারণে পূর্ণাজা আরোহকে প্রকৃত আরোহ বলা যায় না।
পূর্ণাঙ্গ আরোহ সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক দৃষ্টান্ত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে বলে এর সিদ্ধান্তকে যথার্থ অর্থে সার্বিক বলা যায় না। কারণ এর সিদ্ধান্ত কতকগুলো বিশেষ দৃষ্টান্তের সমষ্টি। যেমন: পঞ্চাশটি বইয়ের সবগুলো প্রত্যক্ষ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে, সকল বই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। এখানে জানা থেকে অজানায় যাওয়া হয়নি বরং জানা বিষয়ের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত পূর্ণাঙ্গ আরোহ প্রকৃত আরোহ নয়। কারণ ব্রিটিশ যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ আরোহ নিছক জ্ঞাত ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত সমষ্টিকরণ। এ কারণে, পূর্ণাঙ্গ আরোহ হলো অপ্রকৃত আরোহ।