| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রোদে রাঙা দুই…’ a – ঋতু বর্ণনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রোদে রাঙা দুই আঁখি শুকায়েছে কোটরে,
ক্ষুধার আগুন যেন জ্বলে ওঠে জঠরে!
মনে হয় বুঝি তার নিঃশ্বাস মাত্রে
তেড়ে আসে পালাজ্বর পৃথিবীর গাত্রে!
ভয় লাগে হয় বুঝি ত্রিভুবন ভস্ম
ওরে ভাই ভয় নাই পাকে ফল শস্য!
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
কৈলাস হচ্ছে হিমালয়ে অবস্থিত শিবের বাসস্থান।
➤ 'দাদুরী শিখীনি রব' বলতে মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাককে বোঝানো হয়েছে।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর নানা দিক তুলে ধরেছেন। এগুলো উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে কবি ঋতুগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি বর্ষা ঋতু সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, এ সময় মেঘ গর্জন করে। ফলে মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় আর তাতে চারদিক বৃষ্টির জলে ভরে যায়। তখন মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরী ডাকে। সেগুলোর ডাক মানুষের মনে অনেক ভাব জাগায়।
সারকথা: 'দাদুরী শিখীনি রব' বলতে কবি বর্ষাকালে মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরী ডাকার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার গ্রীষ্ম ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। প্রতিটি ঋতু তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হয়। এ ঋতুগুলোর বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রকৃতি নব নব সাজে সজ্জিত হয় এবং মানবমনে তার প্রভাব পড়ে।
➤ উদ্দীপকে বলা হয়েছে দুই আঁখি রোদে রাঙা হয়ে শুকিয়ে কোটরে চলে গেছে। ফলে পেটে ক্ষুধার আগুন। সূর্যের প্রচন্ড তাপে যেন পৃথিবীর গায়ে জ্বর নেমে আসে। মনে হয় যেন ত্রিভুবন পুড়ে যাবে। প্রকৃতির এমন অবস্থা মূলত গ্রীষ্ম-ঋতুকে নির্দেশ করে যা 'ঋতু বর্ণন' কবিতার একটি বিশেষ দিক। এ কবিতায় কবি গ্রীষ্ম ঋতুর বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, গ্রীষ্মকালে সূর্য প্রচন্ডভাবে তাপ দেয়। রৌদ্রের এ তাপে কোথাও ছায়া থাকে না। এ সময় ছায়া যেন পায়ের তলায় আশ্রয় নেয়। গ্রীষ্ম ঋতুর এসব বৈশিষ্ট্যই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। তাই বলা ওঠে, উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার গ্রীষ্ম ঋতুর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
সারকথা: উদ্দীপকে সূর্যের প্রচন্ড উত্তাপ ছড়ানোর বিষয়টি 'ঋত বর্ণন' কবিতার গ্রীষ্ম ঋতুর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ না, উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতফিলন ঘটেনি বলে আমি মনে করি।
➤ বাংলা ষড়ঋতুর মধ্যে গ্রীষ্ম ঋতু অন্যতম। এ ঋতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সূর্যের প্রচন্ড তাপে চারদিক উত্তপ্ত হওয়া। এর ফলে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়। তবে এ ঋতুর দখিনা স্নিগ্ধ বাতাস মানবমনকে আকুল করে তোলে।
➤ উদ্দীপকে রোদের তাপে পৃথিবীর অচলাবস্থার কথা বলা হয়েছে। সূর্যের প্রচন্ড তাপে যেন ক্ষুধার অগুন জ্বলে ওঠে, পৃথিবীর গয়ে জ্বর নামে। পৃথিবী যেন পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। প্রকৃতির এমন অবস্থা মূলত গ্রীষ্ম ঋতুকে নির্দেশ করে যা 'ঋতু বর্ণন' কবিতার একটি দিক। তবে এ কবিতায় গ্রীষ্ম ঋতুর আরও কিছু বিশেষ দিক তুলে ধরা হয়েছে যা উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে ওঠেনি। এ কবিতায় গ্রীষ্মের খরতাপের সঙ্গে সঙ্গে কবি এর স্নিগ্ধ বাতাসে নর-নারীর মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠার দিকটি তুলে ধরেছেন যা উদ্দীপকে নেই।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি গ্রীষ্ম ঋতুর খরতাপের দিকটি তুলে ধরেছেন। তবে পাশাপাশি তিনি এ ঋতুর বিশেষত্বও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, গ্রীষ্ম ঋতু চন্দন ও চাঁপা ফুলের মালা গলায় দিয়ে স্নিগ্ধ দখিনা বাতাস নিয়ে আসে। ফলে এ সময় নর-নারীর মধ্যে ভাবের উন্মেষ ঘটে। এজন্য তারা উভয়ে মিলে আনন্দময় সময় কাটায়। গ্রীষ্ম ঋতুর এ বিষয়গুলো আলোচ্য কবিতায় ফুটে উঠলেও উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি গ্রীষ্ম ঋতুর সমগ্র ভাব তুলে ধরেনি।
সারকথা: উদ্দীপকে গ্রীষ্ম ঋতুর খরতাপের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। অন্যদিকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি এ দিকটির পাশাপাশি গ্রীষ্ম ঋতুর সৌন্দর্য ও এর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গ্রীষ্ম ঋতুর সমগ্র ভাব ফুটে ওঠেনি।