| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রোগীর নাম: P…’ ২০২৬ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রোগীর নাম: P
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
সিগারেটের ধোঁয়ায় অ্যালভিওলাসের প্রাচীর যে ক্ষতি হয় তার ফলে অ্যালভিওলাস আয়তনে বেড়ে যায় এবং কোনো কোনো স্থান ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা স্থান সৃষ্টি করে এগুলোই এমফাইসেমা।
DMD হলো ডুশিনী মাসকুলার ডিস্ট্রফি বা X-ক্রোমোজোম বাহিত একটি বংশগত রোগ যা মূলত শিশুদের পেশি ক্ষয় করে। ডিস্ট্রফি জিনের মিউটেশনের ফলে শরীরে বিশেষ এনজাইমের অভাব ঘটে, যার কারণে মাংসপেশিগুলো ধীরে ধীরে চর্বি ও তন্তু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে শক্ত হয়ে যায়। আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত ১০ বছর বয়সের মধ্যেই তাদের স্বাভাবিক হাঁটাচলা বা চলন শক্তি হারিয়ে ফেলে। এই রোগে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত ২০ বছরের বেশি বাঁচে না। এটি একটি মারাত্মক শারীরিক জটিলতা যা শুধু জিন থেরাপির মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব যদি সঠিক সময়ে শনাক্ত করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত P রোগীর দুপুরে ও সন্ধ্যায় রক্তচাপ ১৪০/৯০ mm.Hg ও ১২০/৮০ mm.Hg যা যথাক্রমে উচ্চ রক্তচাপ ও স্বাভাবিক রক্তচাপকে নির্দেশ করে। উচ্চ রক্তচাপ থেকে স্বাভাবিক রক্তচাপের পরিবর্তনে উচ্চচাপ ব্যারোরিসেপ্টয় ভূমিকা পালন করে। নিচে উচ্চ রক্তচাপ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
অনুপ্রস্থ অ্যাওর্টিক আর্চ এবং ডান ও বাম অন্তঃস্থ ক্যারোটিড ধমনির ক্যারোটিড সাইনাস-এর উচ্চ রক্তচাপ ব্যারোরিসেপ্টর অবস্থান করে। রক্তের চাপ বেড়ে গেলে অর্থাৎ রক্তনালির প্রসারণ ঘটলে সেখানকার ব্যারোরিসেপ্টরগুলো উদ্দীপ্ত হয় এবং এ উদ্দীপনা মস্তিষ্কের মেডুলায় সঞ্চালিত হয় এবং এখানে ভ্যাসোমোটর কেন্দ্রটি দমিত হয়। ফলে সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু বরাবর হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিতে মোটর বা আজ্ঞাবহ উদ্দীপনা পরিবহনের হার হ্রাস পায়। আজ্ঞাবহ উদ্দীপনার কমতিতে হৃৎপিন্ডের পাম্পিং ক্রিয়া এবং রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্ত সংবহনের মাত্রা কমে যায়। এভাবে রক্তচাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত P রোগী মুধ্যকর্ণের সংক্রমণজনিত জটিলতা অর্থাৎ ওটিটিস মিডিয়ায় আক্রান্ত। ওটিটিস মিডিয়া হলো মধ্যকর্ণের একটি প্রদাহজনিত সমস্যা যা মূলত ইউস্টেশিয়ান নালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। ওটিটিস মিডিয়ার লক্ষণ, কারণ, প্রতিরোধ এবং প্রতিকার নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
রোগের লক্ষণ: শিশুদের ক্ষেত্রে কানে তীব্র ব্যথা হওয়া, কান টানা, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করা এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা প্রধান লক্ষণ। অনেক সময় ১০৪° F-এর বেশি স্থায়ী জ্বর থাকতে পারে। কান থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ ও রক্ত বের হওয়া এবং শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা যায়। পুঁজ পড়ার কারণে কান সব সময় ভেজা থাকে এবং বিশ্রী গন্ধ হয়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে কানে প্রচণ্ড চাপ ও ব্যথা অনুভূত হয় এবং কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হতে পারে। এ ছাড়া প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার কারণে শ্রবণশক্তি সাময়িকভাবে কমে যায় এবং ঘুমাতে অসুবিধা হয়।
কারণ: ওটিটিস মিডিয়া প্রধানত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের সংক্রমণের ফলে হয়। এর মধ্যে Streptococcus pneumoniae, Haemophilus influenzae, Moraxella catarrhalis এবং RSV ভাইরাস অধিক সংক্রমণ ঘটায়। এই রোগের মূল কারণ হলো ইউস্টেশিয়ান নালি বন্ধ হয়ে মধ্যকর্ণের ফাঁকা স্থানে ইনফেকশন হওয়া। এ ছাড়া কানে দূষিত পানি প্রবেশ করলে বা কোনো আঘাতজনিত কারণে জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি।
প্রতিরোধ: এই রোগ প্রতিরোধের জন্য শিশুকে জন্মের পর কমপক্ষে ১২ মাস মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে। বোতলের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুকে উঁচু করে ধরে খাওয়াতে হবে যাতে দুধ কানে না পৌঁছায়। শিশু অবস্থায় নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন প্রদান করলে এই রোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ছাড়া বায়ুদূষণ এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশুকে অন্যের ধূমপানের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা এবং গোসলের সময় কানে যেন পানি না ঢোকে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিকার: আক্রান্ত কানে নরম ও উষ্ণ কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিলে সাময়িকভাবে ব্যথা কমতে পারে। তবে স্থায়ী উপশমের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ড্রপ, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। যারা ঘন ঘন এই রোগে আক্রান্ত হয়, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা টিমপেনোস্টোমি টিউব নামক বিশেষ নালির সাহায্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এতে কান থেকে পুঁজ বের হওয়া বন্ধ হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।