| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রোমের একচ্ছত্র অধিপতি…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রোমের একচ্ছত্র অধিপতি জুলিয়াস সিজার। তাঁর সিনেটররা ব্যাপারটা মেনে নিতে
পারেননি। তারা সিজারকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রুটাসও এই
হীন চক্রান্তে যোগ দেন। সিনেটে নৃশংসভাবে নিহত হন সিজার। মৃত্যুকালে বন্ধু ব্রুটাসের
হাতেও উদ্যত ছুরি দেখে বিস্মিত সিজার বলে ওঠেন, ‘ব্রুটাস, তুমিও!’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
ওয়াটসনের সই জাল করে দিয়েছে লুসিংটন।
নবাবের ক্ষমতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ায় ক্লাইভ প্রশ্নোত্তর উক্তিটি করেছে।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ক্লাইভ ও ওয়াটস নারীর ছদ্মবেশে মীরজাফরের সঙ্গে দেখা করতে আসে। কিন্তু এভাবে ছদ্মবেশে দেখা করাটাকে বিপজ্জনক মনে করে মীরজাফর। কিন্তু ক্লাইভের বিশ্বাস, নবাবের প্রধান সেনাপতি সহ প্রধান অমাত্যরা যখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তখন সেই বিপজ্জনক হওয়ার ক্ষমতা নেই। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ক্লাইভ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের জুলিয়াস সিজার 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজ চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়।
"সিরাজউদ্দৌলা" নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা একজন সাহসী দেশপ্রেমীক। কিন্তু তার কতিপীয় কাছের মানুষ ছিলেন বিশ্বাসঘাতক। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ইংরেজদের সাথে হাত মিলায়।মির্জাফর থেকে মোহাম্মদি বেগ পর্যন্ত কতিপয় বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সেদিন বাংলার শেষ নবাব কে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই রোমের একচ্ছত্র অধিপতি জুলিয়াস সিজার। তার সিনেটররা ব্যাপারটা মেনে নিতে পারেনি। তারা সিরাজকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রুটাসও এই হীন চক্রান্তে যোগদান করে।তার বন্ধুর যোগদান সে বিশ্বাসই করতে পারেননি। কিন্তু হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে ব্রুটাস অন্যদের সঙ্গে মিলে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হত্যা করেন।আরে দিকটি উদ্দিপকের জুলিয়াস সিজার কে আলোচ্য নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ব্রুটাসরা কেবল রোমেই নয়, এ বাংলাতেও বিচরণ করছে।" উদ্দীপক ও সিরাজউদ্দৌলা নাটকের আলোকে উক্তিটি যথার্থ।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মীরজাফর ছিলেন বাংলার প্রধান সেনাপতি। তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলার মসনদে আহরণ ও ক্ষমতার লোভে ইংরেজদের সাথে হাত মিলান। ফলে পলাশের প্রান্তরে তার সৈন্য বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজয় ঘটে। পরবর্তী সময়ে মিরজাফর ইংরেজদের সহায়তায় বাংলা মসনদে বসে সিরাজকে বন্দী করা নির্দেশ দেয়।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে ব্রুটাস "সিরাজউদ্দৌলা" নাটকের মীরজাফর চরিত্রটিকে মনে করিয়ে দেয়। জুলিয়াস সিজার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। তখন তিনি কতিপয় সিনেটরের রোষের শিকার হন। এই চক্রান্তকারীদেরসঙ্গে সিজারের আপনজনও ছিল। যার মধ্যে ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রুটাসও।এমন বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মীরজাফরের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়।সিরাজউদ্দৌলা নাটকের নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি মীরজাফরসহ অন্যান্য অমাত্যগণরা ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করেও শেষ পর্যন্ত নবাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। আর যে মোহাম্মদী বেগকে সিরাজউদ্দৌলার বাবা নিজ সন্তানের মত লালন পালন করেছিলেন। সেই চরম বিশ্বাসঘাতকের পরিচয় দিয়ে নবাবকে হত্যা করে। অনুরূপভাবে উদ্দীপকের ব্রুটাসও বিশ্বাসঘাতকতা করে সিজারের প্রতি।সুতরাং এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় ব্রুটাসেরা কেবল রোমেই নয়, এ বাংলাতেও বিচরণ করছে।