রনি অল্পবয়সেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। ভাই-বোন, মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের সার্বিক সহযোগিতা পেয়ে সে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করার চেষ্টা করে। স্কুলে ভর্তি হলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় পড়াশোনা করতে থাকে। গত এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ’ প্লাস পেয়ে সে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়।
'সুভা' গল্পে সুভার বাবার নাম বাণীকণ্ঠ।
সুভাকে নিয়ে তার পিতার বিদেশযাত্রার উদ্যোগ নেওয়ার কারণে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
'সুভা' গল্পের সুভা জন্ম থেকেই বাক্ প্রতিবন্ধী। কথা বলতে না পারার কারণে তার পিতা-মাতা তাকে নিয়ে সারাক্ষণ বিচলিত থাকতেন। গৃহপালিত পশু ও বাড়ির বিড়াল শাবক ছিল তার বন্ধুর মতো। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে চান। সেখানে সুভার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না। পিতা-মাতাকে সে বলতেও পারছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত যখন কলকাতায় যাওয়ার উদ্যোগ শুরু হলো এবং চূড়ান্ত হলো তখন সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
উদ্দীপকের রনির সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো অবজ্ঞা ও অসহযোগিতা।
সুভা বাক্প্রতিবন্ধী ছিল। তাই সে সমাজ ও পরিবারে প্রতিনিয়ত অবহেলার শিকার হতো। তার সামনেই সবাই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। তার মা তাকে নিজের ত্রুঢ়িম্বরূপ মনে করতেন। তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে বিরক্ত ছিলেন। কেউ তার সঙ্গে খেলত না। অথচ প্রতবিন্ধী হিসেবে তার পরিবার ও সমাজের কাছে সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রাপ্য ছিল।
উদ্দীপকের রনি অল্পবয়সেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। বাবা-মা, ভাই-বোন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে এবং শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহয়তায় পড়াশোনা করে এসএসসি পরীক্ষায় সে 'এ' প্লাস পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পে জন্মগত বাক্প্রতিবন্ধী। সে অনুরূপ সুযোগ পায়নি। কারণ তার বাবা তাকে নিয়ে সব সময় চিন্তা করতেন। মা সুভাকে নিজ গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। সমাজ-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের কাছেও সে অবহেলিত হয়েছে। সে স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রনির সঙ্গে 'সুভা' গল্পে সুভার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো অসহযোগিতা।
সুভা রনির মতো অনুকূল পরিবেশ পেলে তার জীবন আনন্দ ও সাফল্যে ভরে উঠত, অই "সুভা যদি রনির মতো অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে তার জীবন এমন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠত না" মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পের সুভা একজন হতভাগ্য বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। তাই সে ছিল পিতামাতার হৃদয়ভার। সে কথা বলতে পারত না বলে তার সামনেই সবাই এমনভাবে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত যে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপম্বরূপ বিবেচনা করে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে চাইত। এমনকি তার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত ছিলেন। অথচ তার প্রয়োজন ছিল একটু সহযোগিতাপূর্ণ ভালোবাসা।
উদ্দীপকের রনি টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিকলাঙ্গ এক কিশোর। এই প্রতিবন্ধিতা তার জীবনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। সকলের সহযোগিতার ফলে অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার জন্যই রনি 'এ' প্লাস পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও অনুকূল পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। তাই তার জীবন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠেছে।
'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভা তার মা, আত্মীয়স্বজন থেকে যে ধরনের মানসিক সহায়তা ও সহানভূতি পায়নি। বরং মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেছেন। সুভা যদি সবার সহানুভূতি পেত, জীবনযাপনে উৎসাহ লাভ করত, সমাজ তাকে যদি ভৎসনা না করত, প্রতাপ যদি তার মর্ম বুঝত, তাহলে তাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না। তাই বলা যায়, সুভা যদি রনির মতো অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে তার জীবন এমন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠত না। মন্তব্যটি যথার্থ।
