| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রওশন আরা একজন…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৫ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রওশন আরা একজন কলেজ শিক্ষিকা। তাছাড়া গ্রামের নানা উন্নয়নমূলক কাজের সাথে তিনি যুক্ত। গ্রামের মানুষের বিপদের দিনে তিনি সব সময় পাশে দাঁড়ান। কিন্তু তার প্রতিবেশী জব্বার আলী তাঁকে সহ্য করতে পারেন না এবং নানাভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। তবে রওশন আরা কখনই জব্বার আলীকে নিজের শত্রু ভাবেন না, বরং তার বিপদের দিনেও তিনি সবার আগে এগিয়ে আসেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
• যে করিকে বিষে-ভরা বাণ দিয়েছে তাকে কবি বুকভরা গান দেন।
•'কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর' বলতে কবি অন্যের দ্বারা কষ্ট পেয়েও তাকে প্রতিদানে ভালোবাসা দান করাকে বুঝিয়েছেন।
• 'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার বিপরীতে একটি সাম্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা করেছেন। তাই সারা জীবন ধরে যারা তাঁকে দুঃখ-যন্ত্রণা দিয়েছে তিনি সেসব ভুলে তাদের ভালোবাসা দান করেন।
• উদ্দীপকের জব্বার আলী চরিত্রের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার আচরণিক বৈপরীত্য লক্ষ করা যায়।
• আমাদের সমাজে একশ্রেণির মানুষ আছে যারা আত্মকেন্দ্রিক। তারা সব সময় নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে, অন্যের ভালো সহ্য করতে পারে না। এর বিপরীতে রয়েছে নিঃস্বার্থ ও পরোপকারী মানুষ।
• 'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলোকপাত করেন। কবিতায় কবি পরম শত্রুর ক্ষতি না করার কথা বলে বরং মানবিকতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু উদ্দীপকের জব্বার আলীর মাঝে মানবিক কোনো বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেনি। উদ্দীপকে উল্লিখিত পরোপকারী রওশন আরা যিনি জব্বার আলীর বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, সে এই রওশন আরার উপকারের কথা চিন্তা করে না, উপরন্তু তার ক্ষতি করার চেষ্টায় রত থাকে। সুতরাং বলা যায়, ইতিবাচক আচরণের মধ্য দিয়ে সমাজে ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার যে কথা 'প্রতিদান' কবিতায় বলা হয়েছে তা উদ্দীপকের জব্বার আলী চরিত্রের বিপরীত।
• 'রওশন আরা যেন কবি ভাবনার প্রতিচ্ছবি'- উক্তিটি যথার্থ।.
• মানব-কল্যাণ সাধনই প্রকৃত মানবধর্ম। মানুষ একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে এসেই জগতে শান্তি স্থাপন করে। মানব-কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
• উদ্দীপকে কলেজ শিক্ষিকা রওশন আরা গ্রামের মানুষের বিপদের দিনে তিনি সবসময় পাশে থাকেন। এমনকি জব্বার আলী যে তার । ক্ষতি করার চেষ্টায় থাকে তার প্রতিও তিনি উদার। এই পরার্থপরতা ও প্রীতিময়তার চেতনাটিই 'প্রতিদান' কবিতার কবির ভাবনা। কবি মনে করেন, নিজের স্বার্থ, হিংসা, ক্ষোভ ভুলে গিয়ে পরার্থে বেঁচে থাকাতেই জীবনের সার্থকতা।
• 'প্রতিদান' কবিতায় কবি প্রতিকূল অবস্থায়ও মানবের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। মানুষের কাছ থেকে আঘাত যন্ত্রণা পেয়েও তিনি মানুষকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন, যা তার পরার্থপরতাকে নির্দেশ করে। এ বিষয়গুলো উদ্দীপকে রওশন আরার মাঝে প্রতিফলিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।