| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রুবিনা ছোটোবেলা থেকে…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৬ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

রুবিনা ছোটোবেলা থেকে দেশি মুরগির মাংস খেতে পছন্দ করে। গরুর মাংসে অতিরিক্ত তেল বা চর্বির কারণে খুব কম খায়। এছাড়া অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার সবসময় এড়িয়ে চলে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
অগ্ন্যাশয় রসে বিদ্যমান নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক এনজাইম 'ট্রিপসিনোজেন' যখন ডিওডেনামে প্রবেশ করে, তখন ক্ষুদ্রান্ত্রের মিউকোসা স্তর থেকে নিঃসৃত 'এন্টেরোকাইনেজ' নামক এনজাইমের প্রভাবে এটি সক্রিয় 'ট্রিপসিন'-এ পরিণত হয়।
আমাদের গৃহীত খাদ্যের মধ্যে গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, ভিটামিন এবং পানি সরাসরি দেহকোষ দ্বারা শোষিত হতে পারে। এই খাদ্য উপাদানগুলো ইতিমধ্যে সরল ও দ্রবণীয় অবস্থায় থাকে, তাই এদের রাসায়নিকভাবে ভেঙে আর ছোটো করার প্রয়োজন হয় না। মূলত পরিপাক হলো জটিল খাদ্যকে সরল উপাদানে পরিণত করার প্রক্রিয়া, কিন্তু এই উপাদানগুলো আগে থেকেই সরল হওয়ায় পরিপাক ছাড়াই সরাসরি রক্তে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণেই এ ধরনের পুষ্টি উপাদান গ্রহণের পর কোনো পরিপাক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
উদ্দীপকে রুবিনার মুরগির মাংস খাওয়ার পছন্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে উদ্দীপকের আলোকে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্যের পরিপাক প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
রুবিনা চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললেও তার পছন্দের মুরগির মাংসে থাকা স্নেহ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক মূলত পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পন্ন হয়। পাকস্থলীতে যৎসামান্য গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ থাকলেও স্নেহ জাতীয় খাদ্যের প্রধান পরিপাক শুরু হয় ক্ষুদ্রান্ত্রে। যখন চর্বিযুক্ত খাদ্য ডিওডেনামে প্রবেশ করে, তখন যকৃৎ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস স্নেহ কণাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দুতে পরিণত করে, যাকে ইমালসিফিকেশন বলা হয়। এরপর অগ্ন্যাশয় রস থেকে নিঃসৃত লাইপেজ এনজাইম এই ইমালসিফাইড স্নেহ কণাকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। এছাড়া আন্ত্রিক রস থেকেও লাইপেজ নিঃসৃত হয় যা অবশিষ্টাংশ স্নেহ পদার্থকে আর্দ্র বিশ্লেষিত করে। ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ের ভেতরে থাকা ল্যাকটিয়াল নালির মাধ্যমে এই পরিপাককৃত স্নেহ উপাদানগুলো শোষিত হয়। উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার পরিপাক করা তুলনামূলক জটিল এবং এটি শরীরের মেদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মূলত পিত্তরস ও লাইপেজ এনজাইমের সমন্বিত ক্রিয়াই রুবিনার গৃহীত খাবারের স্নেহ অংশকে সরল উপাদানে পরিণত করে। এভাবে দেহের বিপাকীয় কার্যে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে স্নেহ জাতীয় খাদ্য।
উদ্দীপকের আলোকে রুবিনার অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা যে কারণে যুক্তিসঙ্গত, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকে রুবিনা মুরগির মাংস পছন্দ করলেও অতিরিক্ত তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলে, যা স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। চর্বি বা লিপিড একটি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাদ্য উপাদান, যা দেহের শক্তির যোগান দিলেও অতিরিক্ত গ্রহণে স্থূলতা বা মেদবৃদ্ধি ঘটায়। এই অতিরিক্ত চর্বি রক্তনালির গাত্রে জমা হয়ে 'অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস' নামক অবস্থা সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীকালে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিপাক করা তুলনামূলক সময়সাপেক্ষ এবং এটি লিভার বা যকৃতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে 'ফ্যাটি লিভার' হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রুবিনার মতো মুরগির মাংসের লিন প্রোটিন গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও এর সাথে থাকা চামড়া বা অতিরিক্ত তেল পরিহার করা উচিত। অতিরিক্ত চর্বি রক্তের কোলেস্টেরল ও এলডিএল (LDL)-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ধমনিতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখতে এবং ডায়াবেটিস বা পিত্তথলির পাথর হওয়া রোধ করতে কম চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস অপরিহার্য। তাছাড়া নিয়মিত অতিরিক্ত চর্বি খেলে পরিপাকতন্ত্রে গোলযোগ ও অম্লভাব দেখা দিতে পারে। রুবিনা যে পরিপাকের প্রয়োজনে বা স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চর্বি এড়িয়ে চলে, তা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ সঠিক। মূলত সুস্থ হার্ট এবং সচল বিপাকীয় প্রক্রিয়ার জন্য রুবিনার এই অভ্যাসটি একটি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যকর পদক্ষেপ। এভাবেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস নির্বাচনের মাধ্যমে সে দীর্ঘমেয়াদী অসংক্রামক রোগগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। সুতরাং, রুবিনার এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।