রুমেলের বয়স ১৭ বছর, তার উচ্চতা ১৩৫ সে.মি. এবং ওজন ৬০ কেজি। সে সকালের নাস্তায় খিচুড়ি খেতে পছন্দ করে।
শস্যদানা, ফলমূল এবং সবজির অপাচ্য তন্তুযুক্ত অংশই হলো রাফেজ।
পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া জীব বাঁচতে পারে না। জীবদেহের ভৌত ভিত্তি প্রোটোপ্লাজমের শতকরা ৯০ ভাগই পানি। এ কারণেই পানিকে 'ফ্লুইড অফ লাইফ' বলা হয়।
উদ্দীপকে রুমেল সকালের নাস্তায় খিচুড়ি খেতে পছন্দ করে অর্থাৎ তার পছন্দকৃত খাবারটি হলো খিচুড়ি।
খিচুড়িতে থাকে ভাতের শর্করা, ডালের প্রাটিন আর সবজির ভিটামিন। তাই সুষম পুষ্টিতে অনন্য এ খাবার। খিচুড়িতে প্রোটিন ও শর্করার ভারসাম্য সঠিকভাবে থাকে। তাই খিচুড়িকে পরিপূর্ণ খাবার বলা হয়। খিচুড়ি তৈরি করা হয় ডাল ও চাল দিয়ে। খিচুড়িতে ব্যবহৃত ডাল, যেমন মুগ বা মসুর বা ছোলা রাফেজের ভালো উৎস, কারণ ডালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আঁশ। খিচুড়ি খেলে শরীরে শর্করা, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। খিচুড়ি রান্নায় নানা ধরনের সবজি যোগ করলে এর স্বাদ ও পুষ্টি দুটিই বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে হজমেও সহায়ক হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পরিপাক ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই এ সময় সহজে হজম করা যাবে এমন খাবার খেতে হবে। আবার শিশুদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল থাকে, তাই তারা সব ধরনের খাবার হজম করতে পারে না। খিচুড়ি সহজপাচ্য বলে শিশু ও বৃদ্ধ সবাই খিচুড়ি ভালোভাবে হজম করতে পারে। তাই বলা যায়, রুমেলের নাস্তায় পছন্দকৃত খাবার খিচুড়ি খুবই পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য।
উদ্দীপক অনুসারে,
রুমেলের বয়স = ১৭ বছর
রুমেলের ওজন = ৬০ কেজি
রুমেলের উচ্চতা = ১৩৫ সে.মি. = ১.৩৫ মিটার
∴ রুমেলের BMI
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য মানব শরীরে সঠিক BMI থাকা প্রয়োজন। সুস্বাস্থ্যের জন্য BMI-এর আদর্শ মান হচ্ছে ১৮.৫ ২০.৯। অথচ রুমেলের BMI হচ্ছে ৩২.৯২ যা সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান থেকে অনেক উপরে। রুমেলের BMI -এর মান থেকে বোঝা যায়, সে স্থূলতার প্রথম স্তরে রয়েছে। তার বয়স ও উচ্চতার তুলনায় ওজন অনেক বেশি। এমন বেশি ওজন বজায় থাকলে তার পরবর্তীতে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
BMI-এর মানকে আদর্শ পর্যায়ে আসতে রুমেলকে তার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। তাকে অধিক চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল, দুধ ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং মাছ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া রুমেলকে পরিশ্রমী হতে হবে। প্রতিদিন তাকে এক ঘণ্টা মাঝারি মানের শরীরচর্চা যেমন- হাঁটা, জগিং, দৌড়, সাঁতার কাটা, খেলাধুলা ইত্যাদি করতে হবে। তাহলেই এক সময় তার ওজন তার বয়স ও উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মাত্রায় চলে আসবে।
