| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘রুনু ও ঝুনু…’ যশোর বোর্ড ২০১৭ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

রুনু ও ঝুনু দু’বোন। রুনুর দুই সন্তান। ঝুনুর কোনো সন্তান নেই। তাই ঝুনু রুনুর সন্তানদের মাতৃস্নেহে বড় করে। কিন্তু এ স্নেহ বেশি দিন স্থায়িত্ব লাভ করে না। কারণ রুনু-ঝুনুর বাবা তাঁর সমস্ত সম্পত্তি রুনুর দুই সন্তানকে উইল করে দেন। এতে ঝুনু মনঃকষ্ট নিয়ে বলে, আগে জানলে রুনুর সন্তানদের ছোটবেলায় মেরে ফেলতাম।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে চারটি অঙ্ক রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে ক্যাপ্টেন ক্লেটন সৈনিকদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন- 'ভিকটরি অর ডেথ, ভিকটরি অর ডেথ।'
১৭৫৬ সালের ১৯শে জুন ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে বাঙালিদের সঙ্গে ইংরেজদের যুদ্ধ হচ্ছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্যদের কাছে ইংরেজরা পরাজিত হয়ে পড়ছিল। তাদের উৎসাহ দিতে ক্লেটন আলোচ্য কথাটি বলেছিলেন। কারণ তাঁর মতে যুদ্ধে জয়লাভ অথবা মৃত্যুবরণ, এটাই ব্রিটিশ সৈনিকদের প্রতিজ্ঞা।
উদ্দীপকের ঝুনুর সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগমের মিল রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম (মেহেরুন্নেসা) নবাব আলিবর্দি খানের জ্যেষ্ঠা কন্যা। তাঁর অন্য দুই কন্যা শাহ বেগম ও আমিনা বেগম। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন আমিনা বেগমের ছেলে। ঘসেটি বেগমের কোনো সন্তান না থাকায় তিনি সিরাজউদ্দৌলার ভাই একরামউদ্দৌলাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, একরামউদ্দৌলা নবাব হলে মাতা হিসেবে রাজকার্য পরিচালনা করার সুযোগ পাবেন তিনি। কিন্তু একরামউদ্দৌলা বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করেন।
উদ্দীপকের রুনু ও ঝুনু দু'বোন হলেও তারা আমিনা বেগম ও ঘসেটি বেগমের কথাই মনে করিয়ে দেয়। কারণ ঝুনুর সন্তান না থাকায় সে রুনুর সন্তানদের মাতৃস্নেহে বড় করেছে। কিন্তু তার এই স্নেহ বেশি দিন স্থায়ী হয় না। ঝুনুর মতো ঘসেটি বেগম শুধু সিরাজউদ্দৌলার ভাইকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তা নয়, বরং সিরাজউদ্দৌলাকেও ছোটবেলা থেকে আদর-যত্নে লালিত করেছেন। কিন্তু তাঁর পিতার ইচ্ছায় সিরাজের নবাব হওয়াটাকে মেনে নিতে পারেননি ঘসেটি বেগম। সম্পত্তির অংশীদার হতে না পেরে, সিরাজউদ্দৌলাকে হটিয়ে ক্ষমতা পাওয়ার সুযোগ না পেয়ে একসময় তিনি এটাও মনে করেন যে, আগে জানলে ছোটবেলায় দুধের শিশু সিরাজউদ্দৌলাকে প্রাসাদ চত্বরে আছড়ে মেরে ফেলতে দ্বিধা করতেন না। তাঁর এ ধরনের অন্যায় অভিপ্রায় ঝুনুর মনেও প্রতিধ্বনিত হয়, যা উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকটি কেবল 'ঘসেটি বেগম' চরিত্রটিকে চিত্রিত করার ফলে তা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক চিত্রকে ধারণ করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বর্ণিত হয়েছে পলাশির যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা হরণ হওয়ার সামগ্রিক দৃশ্যপট। এখানে সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম ছিল নাটকের মূল উপজীব্য। পাশাপাশি বাংলার বিশ্বাসঘাতক ও ইংরেজ বেনিয়াদের দৌরাত্ম্যও আলোচ্য।
উদ্দীপকে আলোচিত হয়েছে রুনু ও ঝুনু নামক দু'বোনের কথা। তারা মূলত আলোচ্য উপন্যাসের ঘসেটি বেগম ও আমিনা বেগমের কথা স্মরণ করায়। ঝুনুর স্বার্থপর আচরণ ঘসেটি বেগমের অনুরূপ। আবার ঘটনাক্রমে মিল রয়েছে ঝুনু ও ঘসেটি বেগমের মধ্যে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক শুধু স্বার্থপরতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়নি। পারিবারিক জীবনের স্বার্থপর ঘটনাপ্রবাহ নাটকের একটি অংশের আলোচ্য। কিন্তু মূল অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলার বিপন্ন স্বাধীনতা ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম। মূলত নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেমই নাটকের মূল উপজীব্য। তবু বিশ্বাসঘাতকদের জন্য পরাজিত অবস্থায় নাটকের সমাপ্তিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পাই আমরা। তাই যথার্থই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক চিত্র মাত্র।