রূপার বাবা মহিব, সাহেব আলী পিরের একজন অন্ধভক্ত। আজ পির সাহেব রূপাদের বাসায় এসেছেন। পির সাহেব আসলে রূপার মা রেনুকা বেগম পিরের আরামে থাকার ব্যবস্থাসহ পছন্দনীয় খাবার তৈরিতে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে যান। সন্ধ্য্যাবেলা রূপা হাদে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। ঘরে এসে কিছুক্ষণ পরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু বিষয়টি পির সাহেবের কান পর্যন্ত পৌছে গেছে। রূপাকে ঘরে নিয়ে এসে পির সাহেব ঝাড়ফুঁক দিতে থাকেন। এতে রূপা রেগে গিয়ে বলে, আমি ডাক্তারের কাছে যাবো।
সূর্যাস্ত আইন হলো এমন একটি আইন যে আইনে নির্ধারিত দিনে সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্বেই সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়।
বজরা আর নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লাগায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েও মরতে মরতে বেঁচে যাওয়ায় বহিপীর বলেন, ‘খোদার ভেদ বোঝা সত্যই মুশকিল।’
ঝড়ের সময় বজরা আর নৌকা একই সঙ্গে খালের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করে এবং তখন নৌকা ও বজরার মধ্যে ধাক্কা লাগে। ধাক্কা খেয়ে নৌকাটা আধা ডোবা হয়ে যায়। আর বহিপীর দুর্ঘটনার কবলে পড়লে মরতে মরতে বজরায় আশ্রয় পেয়ে বেঁচে যান। এজন্য তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিলেন।
উদ্দীপকে ‘বহিপীর’ নাটকের যে বিশেষ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে তা হলো সামাজিক কুসংস্কার।
‘বহিপীর’ নাটকে সামাজিক কুসংস্কারের দিকটি ফুটে উঠেছে। কারণ সমাজের লোকরা কুসংস্কারের কারণে বহিপীরের আনুগত্য করে। পিরের সেবা করাকেই তারা পূণ্যের কাজ মনে করে। কিন্তু তাদের বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভুল। কারণ পির প্রথার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। ভড পিরেরা ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে। কুসংস্কারে বিশ্বাসী ব্যক্তিরাই কেবল পিরের অন্ধ অনুকরণ করে থাকে।
উদ্দীপকের রূপা মাথা ঘুরে ছাদে পড়ে যায়। এজন্য পির সাহেব তাকে ঝাড়-ফুঁক দেন। কিন্তু রূপা ঝাড়-ফুঁকে বিশ্বাসী নয়। অথচ তার পরিবার ঝাড়-ফুঁকেই বিশ্বাস করে। পির সাহেবের খেদমত করার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। ভালো খাবারের আয়োজন ও পিরের আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করতেই সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মূলত রূপার পরিবার কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এজন্য তারা পিরের অন্ধ অনুসকরণ করে আসছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘বহিপীর’ নাটকের যে বিশেষ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে তা হলো সামাজিক কুসংস্কার।
"উদ্দীপকের রূপা প্রতিবাদ করলেও সে ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা নয়।"- মন্তব্যটিকে যৌক্তিক বলা যায়।
‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা সৎ মায়ের প্রতিহিংসার শিকার হয়। তার সৎ মা ও বাবা বহিপীরের অন্ধভক্ত। তারা বহিপীরের খেদমতের জন্য বহিপীরের সাথে তাহেরার বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু তাহেরা মন থেকে এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। এজন্য তাহেরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
উদ্দীপকের রূপার বাবা সাহেব আলী পিরের অন্ধভক্ত। একদিন পির সাহেব তাদের বাসায় আসে। তার বাবা-মা পিরের সেবাযত্নের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। সন্ধ্যাবেলা রূপা ছাদে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। আর এ খবরটি পিরের কানে পর্যন্ত পৌছে। পির সাহেব তখন রূপাকে ঝাড়-ফুঁক করেন। এতে রূপা রেগে গিয়ে বলে, আমি ডাক্তারের কাছে যাব।
‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার বাবা-মা বহিপীরের অন্ধ অনুসারী ছিল। কিন্তু তাহেরা পির প্রথার বিশ্বাসী ছিল না। এজন্য সে বহিপীরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়নি। বিবাহ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য তাহেরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বাড়ি থেকে পালানোর মাধ্যমে তাহেরার প্রতিবাদী চেতনার পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু উদ্দীপকের রূপা পিরের প্রতি রাগান্বিত হয়ে প্রতিবাদ করলেও তাহেরার মতো দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারেনি। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যৌক্তিক বলা যায়।
