| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সাহিত্য হচ্ছে সৃজনশীল…’ রাজশাহী কলেজ ২০২৬ – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সাহিত্য হচ্ছে সৃজনশীল মনের তরঙ্গায়িত কথামালার লিখিত গাঁথুনি। মনের উল্লাসে সাহিত্যিকরা সাহিত্য রচনা করে গেছেন। আর সাহিত্যের পরশে যার মন দোলায়িত হয় তিনি আপনাআপনিই সাহিত্য পড়বেন। মূলত সাহিত্য হচ্ছে একধরনের মনের খেলা। বাস্তব জীবনের বাস্তব খেলা। এ খেলায় শুধু সাহিত্যে নিবেদিতপ্রাণ খেলোয়াড়ই পরশ নেবেন। কিন্তু বর্তমানে এর উল্টোটাই দেখা যায়। যার মধ্যে সাহিত্যভাবনার ছিটেফোঁটাও নেই, তাকেও সাহিত্য গেলানো হয়। ফলে স্বভাবতই সাহিত্যের মতো উন্নত বিষয়ের প্রতি তার অরুচি ও বিতৃষ্ণা জন্মে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
নারদের উপদেশে বাল্মীকি 'রামায়ণ' রচনা করেন।
শিক্ষকেরা কাব্য পড়িয়ে তার শবচ্ছেদ ও টীকা-ভাষ্যে নিমগ্ন থেকে কাব্যের আসল রস উপভোগের পথ রুদ্ধ করে দেন বলে প্রমথ চৌধুরী উক্ত অভিযোগটি করেছেন।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী বলেন, শিক্ষকেরা কাব্য পড়ান কিন্তু তা আস্বাদন করতে দেন না। তারা টীকা-ভাষ্যের সাহায্যে কাব্যের নিগূঢ় তত্ত্ব জানান কিন্তু কাব্যের প্রকৃত রূপ চিনতে দেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা কাব্যের আসল রস থেকে বঞ্চিত হয় এবং কেবল শুষ্ক জ্ঞান অর্জন করে।
উদ্দীপকে সাহিত্যকে মনের খেলা ও স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের মাধ্যম হিসেবে দেখার ভাবনা 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত শিল্পীর মনোভাব ও কর্মকুশলতা তুলে ধরেছেন। প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত সাহিত্যিকের সাহিত্য সৃষ্টিকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সৌন্দর্য সৃষ্টির মাধ্যমে আনন্দের সঞ্চার করাই তার একমাত্র উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকটি সাহিত্যের প্রকৃত স্বরূপ ও তা উপভোগের স্বাভাবিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছে। এখানে সাহিত্যকে সৃজনশীল মনের তরঙ্গায়িত কথামালা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে প্রমথ চৌধুরীর 'আত্মার লীলা' ধারণাটির মিল রয়েছে। উদ্দীপকে যাদের সাহিত্যভাবনা নেই তাদের সাহিত্য গেলানোর কথা বলা হয়েছে, যা প্রবন্ধের স্কুলমাস্টারি ও শিক্ষার কৃত্রিম চাপের সমালোচনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় রচনাই স্বীকার করে, স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহিত্যের রস আস্বাদন না করলে তার প্রতি অরুচি জন্মে। তাই উদ্দীপকের মূল সুর ও বক্তব্য প্রবন্ধের সাহিত্যের স্বরূপ ও উপভোগের স্বাভাবিকতা নিয়ে আলোচনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
"উদ্দীপকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে, পুরো অংশ নয়"- উক্তিটি সঠিক, কারণ উদ্দীপকে প্রবন্ধের ব্যাপক তাত্ত্বিক ভিত্তি ও বিশ্লেষণের পুরো অংশ অনুপস্থিত।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বড়ো শিল্পী ও ইতর শিল্পীর অধিকারের পার্থক্য প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রবন্ধের মূল অংশ জুড়ে রয়েছে সাহিত্যের উদ্দেশ্য নিয়ে দার্শনিক ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।
উদ্দীপকে সাহিত্যকে মনের খেলা ও স্বতঃস্ফূর্ত উপভোগের মাধ্যম হিসেবে দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহিত্য পাঠই সাহিত্য উপভোগের স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু প্রবন্ধে ইতর শিল্পী ও স্কুলমাস্টারের তীব্র সমালোচনা ও যুক্তি আছে, যা উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপক কেবল সাহিত্যের স্বরূপ ও বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার একটি দিক স্পর্শ করেছে, প্রবন্ধের ব্যাপক পরিধি স্পর্শ করেনি।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সাহিত্যের উদ্দেশ্য, স্বরূপ, উপভোগের পদ্ধতি এবং শিক্ষার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। দেখিয়েছেন স্কুলমাস্টার কীভাবে সাহিত্যের আসল রস থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখে। উদ্দীপকে প্রবন্ধের দার্শনিক ভিত্তি, উদাহরণ, সাহিত্যের নিষ্কাম কর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।