| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সাহিত্য সম্বন্ধেও এই…’ সিলেট এমসি কলেজ ২০২৬ – বাঙালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সাহিত্য সম্বন্ধেও এই কথা খাটে। আমরা যদি আপনার উচ্চতার অভিমানে পুলকিত হইয়া মনে করি যে, এই-সব সাধারণ লোকদের জন্য আমরা লোকসাহিত্য সৃষ্টি করিব তবে এমন জিনিসের আমদানি করিব যাহাকে বিদায় করিবার জন্য দেশে ভাঙা কুলা দুর্মূল্য হইয়া উঠিবে। ইহা আমাদের ক্ষমতায় নাই। আমরা যেমন অন্য মানুষের হইয়া খাইতে পারি না, তেমনি আমরা অন্য মানুষের হইয়া বাঁচিতে পারি না। সাহিত্য জীবনের স্বাভাবিক প্রকাশ, তাহা তো প্রয়োজনের প্রকাশ নহে। চিরদিনই লোকসাহিত্য লোক আপনি সৃষ্টি করিয়া আসিয়াছে। দয়ালু বাবুদের উপর বরাত দিয়া সে আমাদের কলেজের দোতলার ঘরের দিকে হাঁকরিয়া তাকাইয়া বসিয়া নাই। সকল সাহিত্যেরই যেমন এই লোকসাহিত্যেরই সেই দশা, অর্থাৎ ইহাতে ভালো মন্দ মাঝারি সকল জাতেরই জিনিস আছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
যশের জন্য লিখলে যশও হয় না, লেখাও ভালো হয় না।
লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বোঝানো। তাই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সরলতাকেই সব অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার বলেছেন।
লেখার উদ্দেশ্য হলো লেখকের চিন্তার সাথে পাঠকের মনের সংযোগ ঘটানো। সহজ ভাষায় সরল উপস্থাপনের মাধ্যমে লেখকের চিন্তার মধ্যে পাঠকের প্রবেশকে সহজ করা সম্ভব। তাই যিনি সোজা কথায় নিজের মনের ভাব সহজে পাঠককে বোঝাতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক। লেখার সারল্য লেখাকে সহজবোধ্য করে। এ কারণে প্রাবন্ধিক সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার বলেছেন।
উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনার যে বিষয়ে যার অধিকার নেই, সেই বিষয়ে হস্তক্ষেপ নিষেধ করার দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় লেখক নতুন লেখকদের যে পরামর্শ দিয়েছেন তা অবশ্যপালনীয়। তিনি বলতে চেয়েছেন- যে বিষয়ে যার অধিকার নেই, সেই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা তার পক্ষে অকর্তব্য।
উদ্দীপকে লোকসাহিত্য সৃষ্টিতে আধুনিক সাহিত্যিকদের উচ্চতর বোধ নিয়ে প্রবেশের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। লোকসাহিত্য সাধারণ মানুষের সরল মনের অভিব্যক্তি, তাতে আধুনিক সাহিত্যের তত্ত্বকথা জুড়ে দিলে তার হানি ঘটা স্বাভাবিক। তাই লেখক আধুনিক সাহিত্যিকদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধেও লেখক তাঁর পরামর্শের এক পর্যায়ে উল্লেখ করেছেন, যে বিষয়ে যার অধিকার নেই, সেই বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য। বিষয়টি উদ্দীপকের লেখকের লোকসাহিত্যে আধুনিক লেখকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তার অনুরূপ বলা যেতে পারে।
উদ্দীপক ও 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনা উভয় ক্ষেত্রেই লেখকদ্বয় লেখার মানোন্নয়নের বিষয়ে নব্য লেখকদের ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছেন।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় লেখক নতুন লেখকদের আদর্শ কী হওয়া উচিত সেই বিষয়ে অত্যাবশ্যকীয় পরামর্শ দিয়েছেন। সর্বোপরি তিনি লেখার বস্তুনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যার প্রতিটি উপদেশই পালনীয়।
উদ্দীপকে লোকসাহিত্য রচনার ব্যাপারে লেখক আধুনিক সাহিত্যিকদের যে পরামর্শ দিয়েছেন তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। লোকসাহিত্য সাধারণ মানুষের সরল মনের অভিব্যক্তি। তাই কোনো আধুনিক সাহিত্যিক যেন এতে তার পাণ্ডিত্য প্রকাশের জন্য তত্ত্বকথার সংযোগ না ঘটান সেই বিষয়ে লেখক সতর্ক করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধেও লেখক যে বিষয়ে যার অধিকার নেই সেই বিষয়ে তার হস্তক্ষেপকে অকর্তব্য বলে মনে করেন। কেননা তাতে রচনা হয়ে পড়ে সাময়িক সাহিত্য।
উদ্দীপকের লেখক রচনা বিশ্বাসযোগ্য ও মানসম্মত করার পরামর্শ দিয়েছেন। লোকসাহিত্যের সরল আবেদন হারালেই তা হয়ে পড়বে কৃত্রিম। আলোচ্য প্রবন্ধেও লেখক লেখার মানদণ্ড ও বস্তুনিষ্ঠতা সম্পর্কে তরুণ লেখকদের পরামর্শ দিয়েছেন। সাহিত্য রচনায় সত্য ও সৌন্দর্যকে লেখক অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা অসত্য বা নীতিবিরুদ্ধে হলে লেখার আবেদন সর্বজনীন হয়ে উঠবে না। এছাড়া লিখতে হবে নিজের অধিকৃত বিষয়কে কেন্দ্র করে, নচেৎ লেখা হয়ে পড়বে কৃত্রিম ও সাময়িক। উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে লেখকদ্বয় লেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে লেখার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।