| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সাখাওয়াত ও স্বপন…’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০২৬ – যৌক্তিক সংজ্ঞা, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সাখাওয়াত ও স্বপন ক্লাসে প্রতিদিন পড়া শিখে আসে। একদিন আমিন স্যার যুক্তিবিদ্যার ক্লাসে সাখাওয়াতকে জিজ্ঞেস করেন, “পদ মানে কী?” সাখাওয়াত জবাব দেয়, “যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকে পদ বলে।” তখন স্বপন দাঁড়িয়ে বলল, “পদ বলতে সরল-অসরল, জাত্যর্থক-অজাত্যর্থক, সাপেক্ষ-নিরপেক্ষ, সার্বিক-বিশেষ ইত্যাদি পদকেই বোঝানো হয়। যুক্তি গঠনের জন্য পদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থের স্পষ্ট উল্লেখকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।
সংজ্ঞায় সমার্থক শব্দ ব্যবহার করার কারণে চক্রক সংজ্ঞা হয়।
সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞেয় পদ এবং সংজ্ঞার্থ পদ একই হওয়া যাবে না। যদি কোনো পদের সংজ্ঞায় সেই পদটিকেই বা তার কোনো সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হয়, তবে তাকে চক্রক সংজ্ঞা বলে। মূলত সংজ্ঞেয় পদকে নতুন কোনো তথ্যের মাধ্যমে স্পষ্ট না করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই কথা বলার কারণে চক্রক সংজ্ঞা হয়, যা সংজ্ঞার স্পষ্টতা নষ্ট করে।
সাখাওয়াতের কথায় পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের উল্লেখ এসেছে কারণ সে পদের একটি যৌক্তিক ও আবশ্যিক পরিচয় তুলে ধরেছে সে।
যৌক্তিক সংজ্ঞা হতে হলে পদের আবশ্যিক ও সাধারণ গুণাবলি বা জাত্যর্থের উল্লেখ থাকতে হয়। পদের ক্ষেত্রে তার জাত্যর্থ হলো এমন একটি শব্দ বা শব্দসমষ্টি যা কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
উদ্দীপকে সাখাওয়াত বলেছে, "যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকে পদ বলে।” এখানে 'পদ' শব্দটির আবশ্যিক গুণ বা যোগ্যতা (উদ্দেশ্য ও বিধেয় হওয়া) উল্লেখ করা হয়েছে। এটি পদের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বহন করে, যা পদের জাত্যর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ। তাই সাখাওয়াতের বক্তব্যে পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের প্রতিফলন ঘটেছে।
সাখাওয়াত ও স্বপনের কথাগুলোতে পদ সম্পর্কে একই ধরনের বিবৃতি প্রকাশ পায়নি; বরং একজন পদের সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং অন্যজন পদের বর্ণনা দিয়েছেন।
যৌক্তিক সংজ্ঞায় পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। এর মাধ্যমে পদের অপরিহার্য অর্থ প্রকাশ পায়। এ কারণে বলা হয়, সংজ্ঞা হলো পদের অপরিহার্য অর্থ প্রকাশের মাধ্যম। যেমন: 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা হলো 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব'। উদ্দীপকে সাখাওয়াতের বক্তব্যে পদের একটি সাধারণ পরিচয় বা সংজ্ঞা ফুটে উঠেছে। তিনি পদকে তার ব্যবহারের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন। এটি পদের প্রকৃতি বা অপরিহার্য অর্থ প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, বর্ণনা হলো কোনো পদের উপলক্ষণ অথবা অবান্তর লক্ষণ অথবা জাত্যর্থের অংশ বিশেষের সাথে একত্রে উল্লেখ করার মাধ্যম। অর্থাৎ বর্ণনা সুনির্ধারিত বা সুনির্দিষ্ট নয়। এ কারণে একটি পদের একাধিক বর্ণনা হতে পারে, আবার ব্যক্তিভেদে ভিন্নও হতে পারে। যেমন উদ্দীপকের স্বপন পদের বিভিন্ন প্রকারভেদ যেমন: সরল-অসরল, জাত্যর্থক-অজাত্যর্থক, সাপেক্ষ-নিরপেক্ষ ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন। এটি মূলত বর্ণনা।
পরিশেষে বলা যায়, সাখাওয়াতের বক্তব্য হলো পদের সংজ্ঞায়নমূলক, আর স্বপনের বক্তব্য হলো পদের বর্ণনা। উভয়ের আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হওয়ায় তাদের বিবৃতিতে পদ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন দিক উন্মোচিত হয়েছে।