| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।…’ ক্যাডেট কলেজ – যৌবনের গান, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নিজেদের অধিকার নিয়ে সবাই যখন আন্দোলন করে তখন সে হলে বসে বসে ভাবে আর। মনে মনে বলে, যা ব্যাটা; তোরা আন্দোলন কর, ফল আমরাই ভোগ করব। কোনো সাহসী কাজে কখনই সালামকে দেখা যায় না। এমনকি তার সামনে কেউ অন্যায় করলেও সে না দেখার ভান করে চলে যায়। নিজের স্বার্থ ছাড়া সে কিছু বোঝে না। বন্ধুদের সঙ্গে যখন সে আড্ডা দিতে যায় তখনো ভাবে এতে তার কী কী লাভ হবে। অর্থনৈতিকভাবে বেশ দ্বাবলম্বী হলেও মানসিকভাবে সে খুবই দীন। তার বন্ধুরা তাকে কোনোদিন কোনো ফকিরকে ভিক্ষা দিতেও দেখেনি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
মোহনিদ্রা শব্দের অর্থ আসক্তি বা মোহরূপ নিদ্রা, অচেতনতা, জড়তা।
➤ যৌবন হলো এমন একটি সম্মোহনী শক্তি, যা মানবদেহে প্রাণচাঞ্চল্য আনে, মানুষের কর্মশক্তি বাড়ায়, মানুষকে অদম্য সাহসী করে তোলে এবং নতুনকে গ্রহণ করতে অনুপ্রেরণা জোগায়।
➤ যৌবন হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার এবং তা মানুষের জীবনকে করে গতিশীল ও প্রত্যাশাময়। দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্যম, অপরিসীম ঔদার্য, অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও অটল সাধনার প্রতীক যৌবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সংস্কারের বেড়াজাল ছিন্নভিন্ন করে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় সমাজ-প্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় মুক্তজীবনের পথে। যৌবনের অন্য নাম তারুণ্য। তারুণ্য একটি স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তি। তরুণের মনে যদি শক্তি ও সাহস না থাকে তবে তাকে যুবক বলা যায় না। আর কারও মনে যদি শক্তি এবং সাহস থাকে তবে বৃদ্ধ হলেও সে যুবক। প্রকৃতপক্ষে এটিই হলো যৌবনের স্বরূপ।
সারকথা: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে তারুণ্যের অদম্য সাহস, কর্মশক্তি, প্রাণচাঞ্চল্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে।
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের দুরন্ত দুর্বার যৌবনের প্রশস্তির দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ দৈহিক শক্তি-সামর্থ্য নয়, মনের শক্তি দিয়ে যৌবন ও বার্ধক্যকে চিহ্নিত করতে হবে। বার্ধক্য মানে হলো মিথ্যা, পুরানো আর জীর্ণ। ফলে নতুন কিছু চিন্তা করা বা নব সৃষ্টিতে ত্যাগের বাসনা বার্ধক্যের ধারক-বাহকদের মনে আসে না।
➤ উদ্দীপকে সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নিজেদের অধিকার নিয়ে সবাই যখন আন্দোলন করে তখন সে হলে বসে বসে কেবল ভাবে। কোনো সাহসী কাজে কখনই সালামকে দেখা যায় না। এমনকি তার সামনে কেউ অন্যায় করলেও সে না দেখার ভান করে চলে যায়। অর্থনৈতিকভাবে বেশ স্বাবলম্বী হলেও মানসিকভাবে সে খুবই দীন। পক্ষান্তরে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক বলেন, দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্যম, অপরিসীম ঔদার্য, অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও অটল সাধনার প্রতীক যৌবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে মুক্তজীবনের পথে। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে উল্লিখিত যৌবন ধর্মের এসব বৈশিষ্ট্যের বিপরীত মেরুতে উদ্দীপকের সালামের অবস্থান।
সারকথা: যৌবনে মানুষ থাকবে প্রাণচঞ্চল কিন্তু ন্তু এই বিষয়টি উদ্দীপকের সালামের মধ্যে অনুপস্থিত যা আলোচ্য প্রবন্ধের সাথে অমিল।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক যৌবনের প্রশস্তি বন্দনা করতে গিয়ে যৌবন ও বার্ধক্যের স্বরূপও চিহ্নিত করেছেন।
➤ তারুণ্য মানেই নবশক্তির অনাবিল রূপ। সত্য প্রতিষ্ঠায় বা অন্যায় প্রতিরোধে তারা অকুতোভয় ভূমিকা নেয়। মানবতা তাদের মর্মস্পর্শী। পক্ষান্তরে বার্ধক্য মানে হলো মিথ্যা, পুরানো আর জীর্ণ। বার্ধক্য নব আগমনকে পছন্দ করে না, পুরানোর আরাধনা করে।
➤ উদ্দীপকে সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কোনো সাহসী কাজে কখনই সালামকে দেখা যায় না। এমনকি তার সামনে কেউ অন্যায় করলেও সে না দেখার ভান করে চলে যায়। নিজের স্বার্থ ছাড়া সে কিছু বোঝে না। তার বন্ধুরা তাকে কোনোদিন কোনো ফকিরকে ভিক্ষা দিতেও দেখেনি। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধানুসারে উদ্দীপকে সালামের এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বার্ধক্যের স্বরূপ। কেননা বার্ধক্যকে কোনো বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক পুরানোকে ধরে থাকা ভীতু মনমানসিকতাকে বার্ধক্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বার্ধক্য সম্পর্কে বলেছেন, বার্ধক্য তাই- যা পুরানোকে আঁকড়ে পড়ে থাকে। বৃদ্ধ তারাই যারা নবযাত্রার চলার ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। বৃদ্ধ তারাই যারা নতুন সূর্যোদয় দেখেও ঘুম থেকে জাগে না। আর উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোই বার্ধক্যের স্বরূপ। উপর্যুক্ত বৈশিস্টোর অধিকারী ব্যক্তিরাই বৃদ্ধ। উদ্দীপকের সালাম এমনই একজন বার্ধক্যের জীর্ণ ধ্বজাধারী।
সারকথা: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক বার্ধক্য বলতে তাদের বুঝিয়েছেন যারা আসলে চিন্তা-চেতনায় পশ্চাৎপদ। বার্ধক্য আসলে মনে থাকে। সেটা শরীরের ফ্রেমে মাপা যায় না।