| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সালিম ও আরিফ…’ রংপুর ক্যাডেট কলেজ ২০২৩ – ফিকহশাস্ত্র, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সালিম ও আরিফ দুজন ব্যবসায়ী বন্ধু। সালিম সাহেব এবার একটি বিশেষ ইবাদাত পালনের জন্য মনস্থির করেছেন। সে আরিফকে বলে, চল দোস্ত আমরা এবার আল্লাহর ঘর যিয়ারত করে আি আরিফ বলে, সামনে একটি বড় চালান আসছে, সেখানে প্রায় লাখ পাঁচেক টাকার প্রয়োজন। তাছাড়া আমি তো প্রতি বছর আমার ব্যবসার টাকার একটি অংশ শরিয়ত নির্ধারিত খাতে ব্যয় করি। সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তখন সালিম বন্ধুকে উদ্দেশ করে বলেন, তোমার কথা ঠিক আছে। তবে এ ইবাদাতকে তুমি অবজ্ঞা করতে পার না। অতঃপর তিনি পবিত্র
কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করেন-
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجَ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক হলো— মানুষ একে অপরের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়ানো। পরস্পরের প্রতি এ সহানুভূতি ও কিছু দায়িত্ব পালন করাই হলো হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার অধিকার।
"সাওম (রোযা) ঢালস্বরূপ।” এখানে ঢাল বলতে কুপ্রবৃত্তি দমনকারী শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ ও কামভাবের বশবর্তী হয়ে অনেক মন্দকাজে লিপ্ত হয়। সাওম মানুষকে এসব কাজ হতে মুক্ত থাকতে শেখায়। ঢাল যেমন যুদ্ধের ময়দানে একজন যোদ্ধাকে তির, তলোয়ার ও বর্মের আঘাত থেকে সংরক্ষিত রাখে ঠিক তেমনি সাওম মানুষকে যাবতীয় অশ্লীলতা, পাপাচার ও কামনা-বাসনা থেকে বিরত রাখে। এজন্য মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “সাওম (রোযা) ঢালস্বরূপ।” (বুখারি ও মুসলিম)
আরিফের পালনীয় ইবাদাতটি হলো যাকাত ।
যাকাত আদায়ের ৮টি খাত : ১. ফকির, ২. মিসকিন; ৩. যাকাত আদায়কারি কর্মচারি; ৪. নও মুসলিমদের সংরক্ষণ ও মন আকৃষ্ট করা; ৫. দাসত্ব মোচন; ৬. ঋণগ্রস্ত; ৭. আল্লাহর পথে ব্যয়; ৮. মুসাফির। কুরআন ঘোষিত উপযুক্ত বণ্টন নীতিমালা অনুযায়ী যদি যাকাত বণ্টন করা হয়, তাহলেই সমাজের দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। যাকাত দারিদ্র্য বিমোচনে একিট কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। যাকাত ব্যবস্থা গরিব, অলস, অভাবগ্রস্তলোকদের পূর্ণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ধনীদের সংগ্রহ করে অভাবগ্রস্তদের মাঝে বণ্টন করার ফলে গরীব ও অভাবগ্রস্তরা আস্তে আস্তে স্বাবলম্বী হতে থাকে। ধনী-দরিদ্রের মাঝে বৈষম্য দূর হয়। দারিদ্র্য বিমোচন হয়। এমনকি যাকাতের অর্থ দ্বারা শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা করে বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় । এতে করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল লোকগুলো ধীরে ধীরে সচল হতে থাকে। পর্যায়ক্রমে সম্পদশালী লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে এভাবেই দারিদ্র্য বিমোচন হয়।
সালিম সাহেব হজ পালনের ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
উদ্দীপকের আয়াতটির অর্থ হচ্ছে, 'মানুষের মধ্যে যার সেখানে (আল্লাহর ঘরে) যাওয়ার সামর্থ আছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য। (সুলা আলে ইমরান : ৯৭) সুতরাং হজ একটি ফরজ ইবাদাত। তার গুরুত্ব অনেক। ইসলাম যে পাঁচটি মূল নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত তার মধ্যে হজ অন্যতম। হজের মাধ্যমে ক্ষমা ও আখিরাতে সাফল্য লাভ করা যায়। এই হজের মাধ্যমে মুমিন আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে । হজের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিম ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করে। পবিত্রতম পরবেশে তারা আল্লাহর কাছে আত্মনিবেদন করে। সাম্যবাদী চেতনার উন্নয়ন ঘটে এই হজ আদায়ের মাধ্যমে। হজ সম্মিলন মুসল্লি উম্মাহর এক বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর শান- শাওকতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বিক্ষিপ্ত শক্তিগুলো সংহত হয়। দিকে দিকে উম্মাহর সুখ্যাতি ও গৌরব ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়াও বহুকল্যাণ, উপকারিতা এবং হিকমত হজের মধ্যে নিহিত রয়েছে।