| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সালমার মা ছাড়া…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সালমার মা ছাড়া সংসারে আর কেউ নেই। লেখাপড়াও বেশিদূর করতে পারেনি। আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই মধ্যবয়সী একজন লোকের সাথে সালমার বিয়ে দেয় তার মা। স্বামীর বাড়ি গিয়ে সালমা দেখে যে, সেই সংসারে সতীন ও তার এক পুত্রসন্তান রয়েছে। সালমার ভাগ্য বড়ই খারাপ। বড় বউ তাকে মোটেও সহ্য করতে পারেনা। সারাদিন সালমাকে খাটায়, ঠিকমতো খেতে দেয় না। স্বামীর কান ভারী করে সালমার বিরুদ্ধে। হঠাৎ সালমা একদিন বুঝতে পারে যে, তার স্বামী একজন চোরাকারবারি। সালমা এসব দেখে ভয় পায়। সে প্রতিবাদ করলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। একদিন সালমা মেরাজের সমস্ত কুকীর্তির কথা পুলিশের কাছে ফাঁস করে দেয়। মেরাজের
মুখোশ খুলে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
রহিমার পেটে চৌদ্দ প্যাঁচ।
শিলা বৃষ্টির পর মজিদসহ মহব্বতনগরবাসী সম্পর্কে উক্তিটি করা হয়েছে' বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।
মহব্বতনগরে শিলাবৃষ্টিতে ধান ক্ষেত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।সেই ধান ক্ষেত দেখে সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।তাদের দৃষ্টিতে কোন ভাব বা উদ্দেশ্য ছিল না।তখন মজিদ এই অবস্থা দেখে সকলকে বিশ্বাস রাখতে বলে। তখন সকলের দৃষ্টিদেখে মনে হয় যেন তাদের চোখের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের দৃঢ়তা প্রতিষ্ঠিত আছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মিরাজের বড় বউ এর সাথে লালসালু উপন্যাসে বর্ণিত রহিমার বিপরীত চরিত্র।
লালসালু উপন্যাসে রহিমা হচ্ছে মসজিদের প্রথম স্ত্রী। তিনি খুবই নরম স্বভাবের মানুষ ছিল।সে কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে না।শান্তভাবে থাকে এবং তার স্বামী হুকুম পালন করে। জমিলা যখন তার সতীন হিসেবে সংসার আসে তখন তাকে নিজের বোনের মত আদর যত্ন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায় মেরাজের বড় বউের আচরণ ছোট বউ এর প্রতি সহানুভূতি পূর্ণ ছিল না। বড় বউ সালমাকে দিয়ে সব কাজ করাতো,ঠিকমতো খেতে পর্যন্ত দিত না। তার বিরুদ্ধে স্বামীর কান ভারি করতো।কিন্তু লালসালু উপন্যাসে ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই আমরা মজিদের ছোট বউ জমিলার প্রতি রহিমার ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। জমিলাকে সন্তান তুল্য আচরণ করতো। তাই এসব দিক থেকে বলতে পারি যে সালমার প্রতি তার সতিনের নিষ্ঠুর আচরণই দেখতে পাওয়া যায়, যা রহিমার সঙ্গে তাকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সালমা এবং লালসালু উপন্যাসে বর্ণিত জমিলার জীবন চিত্র যেন একই সুতোয় বাঁধা। মন্তব্যটি যথার্থ।
লালসালু উপন্যাসে জমিলা হচ্ছে মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী। জমিলা লালসালু উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। নিঃসন্তান মজিদের সন্তান কামনা সূত্রে জমিলার আগমন ঘটে। প্রথম দেখায় স্বামীকে তার ভাবি শ্বশুর মনে হয়েছিল। অভাবের তাড়নায় এই সংগতিপূর্ণ সম্পর্ককে মেনে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসতে হয় জমিলাকে। উদ্দীপকে সালমা দারিদ্র্যের শিকার এক অসহায় নারী।অভাবের কারণে তাকে সতিনের সংসারে আসতে হয়।আর তার অবশ্যম্ভাবী পরিণাম হিসেবে তার কপালে জোটে সতীনের অত্যাচার ও নিপীড়ন। লালসালু উপন্যাসে জমিলা অবশ্য এই ক্ষেত্রে কিছুটা সহানুভূতি পেয়েছে কারণ নিঃসন্তান সতীনের কাছে জমিলা মাতৃতুল্য আচরণ পেয়েছে।
আলোচ্য উপন্যাসের জমিলা ও উদ্দীপকের সালমা উভয়েই পরিস্থিতির কারণে অসমবয়সি বরের সঙ্গে বিয়েকে মেনে নিতে বাধ্য হয়।স্বামীর বাড়ি এসেও তাদেরকে নানামুখী নির্যাতন ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। জমিলা স্বামী মজিদ চরিত্রে লক্ষ্য করা যায় স্বার্থপরতা ও ভন্ডামি।একই ধরনের বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি মেরাজের চরিত্রও লক্ষণীয়।উদ্দীপকের সালমা ও আলোচ্য উপন্যাসের জমিলা কেউ স্বামীর এই অন্যায় অপকর্মকে সমর্থন করে না, বরং ধীরতার সঙ্গে প্রতিবাদ করে।সেদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের সালমা এবং লালসালু উপন্যাসের জমিলার জীবনচিত্র যেন এক সুতায় গাঁথা।