| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সামান্তা একাদশ শ্রেণিতে…’ ঢাকা কলেজ ২০২৬ – পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সামান্তা একাদশ শ্রেণিতে এমন একটি বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করছে যেখানে নাগরিকের অধিকার-কর্তব্য, রাষ্ট্র ও সরকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ রয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
'Civics' শব্দের অর্থ হলো পৌরনীতি।
বিশ্বের নাগরিক হিসেবে নাগরিকগণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে সকল অধিকার ভোগ করে তাই মানবাধিকার।
'মানবাধিকার' অধিকারেরই একটি বিস্তৃত রূপ, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সুতরাং, মানবাধিকার বলতে আইনগত ও নৈতিক অধিকারগুলোর মধ্যে সেইসব অধিকারকে বোঝায়, যা পৃথিবীর সকল মানুষ দাবি করতে পারে। এ অধিকারগুলো কোনো দেশ বা কালের সীমানায় আবদ্ধ নয়, সব দেশের সব কালের।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সামান্তা নির্বাচিত বিষয়টি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন, যার বিষয়বস্তু বিস্তৃত।
পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে দেখা যায়, এটি নাগরিকতার উদ্ভব, বিকাশ, বিবর্তন, সুনাগরিকতা, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। সমাজের মৌলিক প্রতিষ্ঠান যেমন-পরিবার ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যাবলি প্রভৃতি পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। এটি নাগরিকের অতীত, বর্তমান এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক নিয়েও আলোচনা করে। পৌরনীতি ও সুশাসন রাজনৈতিক, সাংবিধানিক অগ্রগতি ও বিকাশ সম্পর্কেও আলোচনা করে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, গণতন্ত্র, সরকার, নির্বাচন, জনমত প্রভৃতি বিষয়গুলোও পৌরনীতি ও সুশাসনে আলোচিত হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক নাগরিকতা, বিশ্বগ্রাম, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ও পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়।
উদ্দীপকের সামান্তা উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে এমন একটি বিষয় পাঠ করতে চায় যার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে একজন আদর্শ দেশপ্রেমিক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এ বিষয়টি মূলত পৌরনীতি ও সুশাসনকে নির্দেশ করে। কারণ পৌরনীতি ও সুশাসনের অধ্যয়ন নাগরিককে আদর্শ দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। আর পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তু ব্যাপক, যা উপরের আলোচনায় স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়।
উদ্দীপকের বিষয় তথা পৌরনীতির সাথে সুশাসনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
সুশাসন হলো অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও দক্ষ শাসনব্যবস্থা। এটি অর্থনেতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে পৌরনীতিতে বর্ণিত নাগরিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করে। সভ্যতা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অগ্রগতি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও কল্যাণমূলক করতে এ প্রত্যয়ের সূচনা ঘটে। অর্থাৎ সুশাসন হলো পৌরনীতির একটি আধুনিক প্রায়োগিক ধারণা।
সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা পৌরনীতির সাথে বর্তমানে সুশাসন প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে। পৌরনীতি রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের সম্পর্ক-সংক্রান্ত বিজ্ঞান; অর্থাৎ পৌরনীতি নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং উত্তম জীবনের দিকনির্দেশনা দেয়। অন্যদিকে, সুশাসন একটি নতুন ধারণা। এটি নাগরিককে কল্যাণকর, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থাসহ উত্তম জীবনের নিশ্চয়তাদানের একটি পন্থা। সুশাসন বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যা দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনি কাঠামো এবং অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ সুশাসন পৌরনীতির একটি প্রায়োগিক অংশ। পৌরনীতির জ্ঞান সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। পৌরনীতির উদ্দেশ্য হলো নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং উত্তম নাগরিক জীবনের দিকনির্দেশনা দেওয়া। আর সুশাসনের উদ্দেশ্য হলো শাসনপ্রক্রিয়াকে উন্নত ও কল্যাণমুখী করে গড়ে তোলা এবং নাগরিকদের উত্তম জীবন নিশ্চিত করা।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, পৌরনীতির জ্ঞান ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ এ দুটি বিষয় একে অপরের সাথে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্কিত।