| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সামিরা একজন পোশাক…’ ঢাকা কলেজ ২০২৬ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সামিরা একজন পোশাক কর্মী। দীর্ঘদিন যাবৎ তার সহকর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ মালিক তার প্রতিষ্ঠানে পুরুষ শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি করলেও নারী শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি করেনি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
আইন দ্বারা স্বীকৃত অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিককে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে কর্তব্য বলে।
অধিকার ও কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক।
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। আর অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে রাষ্ট্রের প্রতি যে সকল দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে বলা হয় কর্তব্য। অধিকার ও কর্তব্য শব্দ দুটি আপাতদৃষ্টিতে বিপরীতমুখী মনে হলেও এদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। অধিকার ভোগ করলে কর্তব্য পালন করতে হয়। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি হয় না। তাই বলা হয়, অধিকার কর্তব্যের মধ্যেই নিহিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নারী শ্রমিক অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
যে অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের জীবনকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নিরাপদ করে তোলে তাকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। কর্মের অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, বিশ্রাম বা অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিক সংঘ গঠন করার অধিকার প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে বর্ণিত নারী শ্রমিক জামিলা এই অর্থনৈতিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সামিরা একজন পোশাক কর্মী। দীর্ঘদিন যাবৎ তার সহকর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ মালিক তার প্রতিষ্ঠানে পুরুষ শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি করলেও নারী শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি করেনি। অর্থাৎ নারী শ্রমিক ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার অর্থনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় নারী শ্রমিক সামিরা অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
উদ্দীপকে মালিক পক্ষ সামিরাকে অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। সামিরার প্রতি মালিক পক্ষের এই আচরণ নিঃসন্দেহে সমাজ ও রাষ্ট্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অর্থনৈতিক অধিকারের স্বীকৃতি ও সংরক্ষণের মাধ্যমে রাষ্ট্র নাগরিকদের আত্মবিকাশে সাহায্য করে। অর্থনৈতিক অধিকার উপভোগের মাধ্যমে একজন নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে এবং জীবন সুন্দর ও সার্থক হয়। নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র সামিরাকে অর্থনৈতিক অধিকার হিসেবে চাকরি করার সুযোগ প্রদানের পাশাপাশি উপযুক্ত মজুরি প্রদানেরও বিধান করেছে, যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত অধিকার। কিন্তু সামিরা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত সঠিক মজুরি লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কেননা মালিক পক্ষ তার প্রতিষ্ঠানে পুরুষ শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি করলেও নারী শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি করেনি। এর ফলে সামিরাসহ অন্যান্য নারী শ্রমিকদের কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাবে এবং কাজের মান নিম্নমুখী হবে, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ব্যাহত করবে।
তৈরি পোশাক খাতের বেশিরভাগ কর্মীই নারী। তারা কর্মক্ষেত্রে না এলে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। শুধু তা-ই নয়, এর ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নও পিছিয়ে পড়বে। নারী-পুরুষ বৈষম্য বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, সামিরার প্রতি মালিক পক্ষের আচরণ অনৈতিক ও বেআইনি। সামিরার প্রতি মালিক পক্ষের এই আচরণ সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকে ব্যাহত করবে।