| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সামিয়া ও ফারিয়া…’ সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ ২০২৬ – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সামিয়া ও ফারিয়া দুই বোন। সামিয়া ছোটোবেলা থেকেই পড়ালেখায় মনোযোগী। অন্যদিকে ফারিয়া মনে করে মেয়েদের পড়ালেখা করে কী হবে? তাদের কাজ হচ্ছে স্বামীর সংসার করা। সামিয়া নিজের জন্য ভাবে না, তার দুশ্চিন্তা বোনকে নিয়ে। সে ভাবে, পড়ালেখা না করার কারণে সে স্বামীর সংসারে পদে পদে বঞ্চনার শিকার হবে, কখনোই মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনে সক্ষম হবে না। ফারিয়ার এ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
'স্ত্রীজাতির অবনতি' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা একটি প্রবন্ধ।
স্বামীর স্থলে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হলে নারীরা নিজেদের দাসী না ভেবে স্বামীর অর্ধাঙ্গী ভাবতে পারবে এবং মানসিক দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হবে।
আমাদের সমাজে স্বামী শব্দের অর্থ প্রভু। এ শব্দটি অবচেতনভাবেই নারী ও পুরুষের মধ্যে একধরনের অসমতা ও দাসত্বের মনোভাব তৈরি করে। অন্যদিকে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে নারীরা নিজেদের কেবল অধীন না ভেবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অংশীদার বা অর্ধাঙ্গী হিসেবে ভাবতে পারবে। এ কারণে স্বামী বা প্রভু শব্দের স্থলে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দ প্রচলিত হওয়া উচিত।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি নারীদের অনগ্রসরতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তাদের অজ্ঞানতা এবং অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন, যা উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখিকা নারীদের অজ্ঞানতা, অশিক্ষা ও মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্তির কথা বলেছেন। রোকেয়ার দৃষ্টিতে মানসিক দাসত্ব বলতে নারীদের নিজস্ব ব্যক্তিত্বের অভাব, অন্ধ-অনুকরণপ্রিয়তা, উচ্চশিক্ষার প্রতি অনীহা এবং অবরোধ প্রথার আড়ালে স্থবির জীবনযাপন।
উদ্দীপকে সামিয়া সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মাথা উঁচু করে সমাজে বাঁচতে চায়। কিন্তু তার বোন ফারিয়া নারীশিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে অক্ষম। তার ধারণা নারীর একমাত্র লক্ষ্য স্বামীর সংসার পরিচালনা করা। সামিয়া তার বোনের এই সংকীর্ণ চিন্তা নিয়ে বিচলিত। কারণ পরিবর্তনশীল সমাজে ফারিয়া অবহেলিত ও অসম্মানিত হবে পদে পদে। অথচ ফারিয়া নিজেই এই সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদাসীন। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও ঠিক এমনই একশ্রেণীর নারীর চিত্র ফুটে উঠেছে, যারা নিজেদের অজান্তেই দাসত্বের নিগড় বন্দি হয়ে আছে, যা উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে নারী জাতির দুর্গতি নিয়ে যে গভীর দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে একই দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ উদ্দীপকে সামিয়ার চিন্তাধারায় প্রতিফলিত হয়েছে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখিকা দেখিয়েছেন, নারীদের এই পশ্চাৎপদতার জন্য কেবল পুরুষ দায়ী নয়, বরং নারীর দীর্ঘদিনের মানসিক দাসত্ব তাদের অকর্মণ্য করে রেখেছে। নিজেদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে নারীরা যুগ যুগ ধরে পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ফারিয়ার পশ্চাৎপদতা, শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ এবং পুরুষ জাতির প্রতি অন্ধ আনুগত্য সামিয়াকে দারুণভাবে ব্যথিত ও চিন্তিত করেছে। পুরুষশাসিত এই সমাজ কাঠামোতে নারীরা যেখানে অবজ্ঞার শিকার এবং ব্যক্তিত্বহীন হিসেবে বেঁচে থাকে, সেখানে ফারিয়ার এমন উদাসীনতা সামিয়ার মনে দুশ্চিন্তার আবির্ভাব ঘটাই স্বাভাবিক। নারী জাতির দুর্গতি দেখে এমন দুশ্চিন্তা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও প্রতিফলিত হয়েছে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে দেখা যায়, নারীরা পুরুষের আধিপত্যকে নিঃসঙ্কোচে মেনে নিয়ে এক অসম্মানজনক জীবন অতিবাহিত করছে। মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েও তাদের মধ্যে কোনো সচেতনতাবোধ নেই। উদ্দীপকের ফারিয়াও নিজের ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে সচেতন নয়। তাই ফারিয়ার একটি মর্যাদাহীন অন্ধকার ভবিষ্যৎ জীবনের কথা ভেবে সামিয়া চিন্তিত হয়ে ওঠে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখিকার মতো।