সান্তাহার রেল স্টেশনে সিগন্যাল ম্যান ফজু মিয়ার একমাত্র সন্তান অসুস্থ। তাই নিয়ে সে গত রাতে খুব ব্যতিব্যস্ত ছিল। এদিকে রাত ৩টায় ‘বাংলার দূত’ ট্রেনটি স্টেশনের দিকে ধেয়ে আসছিল। একই সময় বিপরীত দিক থেকে আন্তঃনগর ট্রেন এসে পড়লে সিগন্যাল না দেওয়ায় ট্রেন দুটি দুর্ঘটনায় কবলিত হয়।
‘রানার’ কবিতায় টাকাকে ছোঁয়া যাবে না।
প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে কবি রানারের যথা সময়ে ডাক পৌছে দেওয়ার তাড়ার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
রানারের কাজ সূর্যোদয়ের পূর্বেই গন্তব্যস্থলে ডাক পৌছে দেওয়া। এ কাজটি তাদের নিময়ানুবর্তী হয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হয়। এজন্য সূর্যোদয়ের পূর্বে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। অন্যথায় তা দায়িত্বে অবহেলা বলে গণ্য হবে; যা তার জীবন ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারার ব্যর্থতার কথা ভেবে তারা সূর্য ওঠার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত থাকে।
উদ্দীপকে ফজু মিয়ার কার্যক্রমে ফুটে ওঠা দিকটি দায়িত্ব পালনে অবহেলার দিক থেকে ‘রানার’ কবিতায় বৈসাদৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
‘রানার’ কবিতায় রানারের কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়েছে। রানার অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল। দায়িত্ব পালনে রানার কোনো অবহেলা করে না। রানার জানে তার কাঁধে অনেক মানুষের সুখ-দুঃখের খবর আছে। এমনকি অনেকের টাকা-পয়সাও আছে। এগুলো যথাসময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য রানার বৃথা সময় নষ্ট না করে সম্মুখপানে ছুটে যায়।
উদ্দীপকের ফজু মিয়া তার দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। কারণ তার দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবে পালন করেননি। তার একমাত্র সন্তান অসুস্থ। এ বিষয়টি তিনি অন্য কোনোভাবেও সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে স্বীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যা ‘রানার’ কবিতায় রানারের কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিপরীত। তার কাজটি রানারের কাজের বৈসাদৃশ্যতা প্রমাণ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ফজু মিয়ার কার্যক্রমে ফুটে ওঠা দিকটি দায়িত্ব পালনে অবহেলার দিক থেকে ‘রানার’ কবিতায় বৈসাদৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
"রানারের সংসার ভাবনা যেন ফজু মিয়ার সংসারের ব্যতিব্যস্ততাকেও হার মানিয়েছে"- 'রানার' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
'রানার' কবিতায় রানারের কর্মকান্ডের পাশাপাশি তার সাংসারিক জীবনের চিত্রও ফুটে ওঠেছে। রানার অত্যন্ত অল্প টাকায় ডাকহরকরার কাজ করে। এ কাজের পারিশ্রমিক কম হলেও পরিশ্রম ও দায়বদ্ধতা অত্যন্ত বেশি। সময়মতো চিঠিপত্র নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছাতে হয়। জীবনের খুঁকি নিয়ে টাকার বোঝা বহন করতে হয়। রানারের সংসারে চরম অভাব-অনটন থাকা সত্ত্বেও উক্ত টাকা সে ছুঁয়েও দেখে না। কারণ অন্যের টাকা খরচ করার কোনো অধিকার তার নেই।
উদ্দীপকের ফজু মিয়া রেল স্টেশনের সিগন্যালম্যান। তার একমাত্র সন্তান অসুস্থ হলে সে অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে সে সিগন্যালম্যানের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়। রাত তিনটার দিকে কোনো সিগন্যাল না থাকায় দুটি ট্রেন দুদিক থেকে ধেয়ে আসে এবং মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রেন দুটি দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। উদ্দীপকের ফজু মিয়ার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করার কারণেই মূলত উক্ত দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্দীপকের ফজু মিয়ার সংসারের ব্যতিব্যস্ততার চেয়ে 'রানার' কবিতার রানারের ব্যতিব্যস্ততা অনেক বেশি। ফজু মিয়া তার অসুস্থ সন্তানের জন্য যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। কিন্তু রানার তার দায়িত্ব যথাযথাভাবেই পালন করেছে। তার সংসারে অভাব-অনটন রয়েছে কিন্তু টাকার বোঝা থেকে সে কোনো টাকা আত্মসাৎ করেনি; বরং দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে যে পারিশ্রমিক পাবে তা দিয়েই রানার তার সাংসারিক প্রয়োজন মেটায়। মূলত রানার তার সাংসারিক অভাব-অনটন দূর করার জন্যই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, রানারের সংসার ভাবনা যেন ফজু মিয়ার সংসারের ব্যতিব্যস্ততাকেও হার মানিয়েছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ বলেই প্রতীয়মান হয়।
