সাপ ধরার মন্ত্র শিখে মৃত্যুঞ্জয় মস্তবড় সাপুড়ে হয়ে উঠল। একদিন সাপ ধরতে গেলে, বিষধর সাপের দংশনে সে আহত হয়। তার শ্বশুরের দেওয়া সব তাবিজ-কবজ তার হাতে বেঁধে দেওয়া হলো আর সেই সাথে বহু সংখ্যক ওঝা মিলে বহু দেব-দেবীর দোহাই এবং ঝাড়ফুঁক করেও তাকে বাঁচাতে পারল না।
গ্রামে ঈশ্বর নাপিত নাড়ি দেখতে জানত।
"মা মরেছে ত যা নিচে নেবে দাঁড়া"- অধর রায়ের এমন উক্তির কারণ অশৌচের ভয়।
কাঙালী মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য মায়ের মৃত্যুর পর কাঠের ব্যবস্থা করতে জমিদারের কাছারি বাড়ি যায়। কাছারি বাড়ির কর্তা গোমস্তা অধর রায় সেই সময় সন্ধ্যাহ্নিক শেষ করে বাইরে আসেন। কাঙালী তাকে দেখে কান্নাকাটি করে এবং মায়ের মৃত্যুর কথা বলে। অধর রায়ের মনে হয় কাঙালী মড়া ছুঁয়ে এসেছে, সে এখানকার কিছু ছুঁয়ে ফেলতে পারে। এ কথা ভেবে অশৌচের ভয়ে অধর রায় কাঙালীকে উদ্দেশ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।
উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের অবৈজ্ঞানিক বা টোটকা চিকিৎসা দেওয়ার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
সঠিক চিকিৎসা মানুষের জীবন বাঁচায়। রোগ নির্ণয় করতে না পারলে এবং সঠিক চিকিৎসা না করালে মানুষ অকালমৃত্যুর শিকার হয়। এদেশের গ্রামাঞ্চলে এখনও টোটকা চিকিৎসা দেওয়া হয়, যা সাময়িকভাবে মানুষকে সুস্থ করলেও রোগ নির্মূলে ব্যর্থ হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায় সাপুড়ে মৃত্যুঞ্জয় সাপ ধরতে গিয়ে সাপের দংশনে আহত হয়। তার শ্বশুর ও অন্যান্য ওঝা মিলে ঝাড়ফুঁক করে মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচানোর চেষ্টা করে যা চিকিৎসাশাস্ত্র সমর্থন করে না, ফলে তার মৃত্যু হয়। উদ্দীপকের মতো 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পেও টোটকা চিকিৎসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কাঙালীর মা অভাগী অসুস্থ হলে প্রতিবেশীরা তাকে দেখতে আসে এবং বিভিন্ন ধরনের টোটকা চিকিৎসার উপায় বলে। কেউ হরিণের শিঙ ঘষা জল, কেউ গেঁটে-কড়ি পুড়িয়ে মধুতে মাড়িয়ে খেতে বলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভাগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এভাবে উদ্দীপকে আলোচ্য গল্পের প্রতিবেশীদের টোটকা চিকিৎসার। দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও গল্পের মূল বিষয়টি অনুপস্থিত। মন্তব্যটি যথার্থ।
এই পৃথিবীতে সব মানুষ সমান। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে বিভেদের দেয়াল তুলে রাখে। এই বৈষম্যের নির্মমতা মানব সমাজে এমনভাবে জেঁকে বসেছে যে মানুষ প্রতিনিয়ত নিষ্পেষিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে অবৈজ্ঞানিকভাবে ঝাড়ফুঁক ও দেব-দেবীর দোহাই দিয়ে মৃতুঞ্জয়কে বাঁচানোর চেষ্টা করার কথা। কিন্তু ওকারা শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়। উদ্দীপকের এই অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসাপদ্ধতির দিকটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কবিরাজি চিকিৎসা ও টোটকা চিকিৎসার বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয়। যেখানে কাঙালী তার মায়ের চিকিৎসার জন্য কবিরাজের কাছ থেকে বড়ি নিয়ে আসে এবং প্রতিবেশীরা তাদের জানা টোটকা চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা করে। কিন্তু এই বিষয়টি আলোচ্য গল্পের মূল বিষয় নয়। আলোচ্য গল্পের মূল বিষয় হলো সামন্তবাদের নির্মম রূপ এবং নিচু শ্রেণির হতদরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণা, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে একদিকে প্রকাশ পেয়েছে অধর রায়ের মতো ধনী জমিদার গোমস্তাদের নির্মমতা-নির্দয়তা, অন্যদিকে প্রকাশ পেয়েছে কাঙালী-অভাগীদের মতো নিচু শ্রেণির সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ। এছাড়াও প্রকাশ পেয়েছে বর্ণবৈষম্য, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকে কেবল আলোচ্য গল্পে প্রকাশিত চিকিৎসাব্যবস্থার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
