| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সারা বন কুড়ালের…’ a – কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সারা বন কুড়ালের শব্দে মুখর। হিন্ডাল, হোগলা আর উলুখড়ের বন নিঃশেষ হচ্ছে। বড়ো বড়ো গাছ কুড়ালের ক্রমাগত আঘাতে প্রাচীন ভাইড়ালেরর মতো আর্তনাদ করে লুটিয়ে পড়ছে। এগিয়ে চলেছে মানুষ। এগিয়ে চলেছে সভ্যতা। এখানে মোরেলদের আবাদ চলবে। ফসল ফলবে। গড়ে উঠবে মনুষ্য বসতি। মহারাজ গলার ঘণ্টার শব্দ ছড়িয়ে এগিয়ে চলেছে। আবাদি এলাকার কাজ পরিদর্শনে বেরিয়েছে সাহেব হেনরি। আগে-পিছে ঘোড়ায় চলছে মোহন খাঁ আর কালু বাওয়ালি। কালু বাওয়ালি নামকরা শিকারি। একবার বাঘের সঙ্গে খালি হাতে লড়াই করছিল সে। দুপাশে কয়েদিরা একজন ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে গাছ কাটছে। কুড়ালের একবার বাঘের সোনকান করে শব্দ তুলছে তাদের পায়ের শিকল। হেনরি হাতির ওপর বসে বলল- এই। আজকের মধ্যে এই এলাকাটা সাফ করতে হবে। বুঝলি?
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৫
দীনেশ কিস্কুর উঠোনে হুড়মুড় করে কলের জিনিস ট্রাকটর ঢুকে পড়বে।
➤ "বস্তিটস্তি উঠে যাবে আর ট্রাকটর চলতে থাকবে ঘরবাড়ি-ভিটেমাটির উপর দিয়ে।"- কথাটি কপিলদাসের মনোভাবনা।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস সলিমউদ্দিনের কাছে জানতে পারে সাঁওতাল বস্তি ভেঙে সেখানে ধান চাষ করা হবে। তখন কপিলদাসের মনে পড়ে তাদের বস্তি উঠে যাওয়ার বিষয়টি। তখন সে ভাবে, শেষ পরিণতি কি এমন হবে যে ঘর- বাড়ির উপর দিয়ে ট্রাকটর চলবে? আশু ভবিষ্যতের দুঃসময়ের কথা ভেবে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আর তার ভাবনার এই বিষয়টি ঘুরপাক খেতে থাকে। এরকম অবস্থায় কপিলদাস মনে মনে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
সারকথা: ভবিষ্যতের কথা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে কপিলদাস তার ভাবনা থেকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
➤ উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সাঁওতালদের বস্তি ভেঙে ধান চাষ করতে চাওয়ার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ সভ্য হয়েছে। মনুষ্য তৈরি এই সভ্যতা সব সময় সৃষ্টির কথা বলে না; মাঝে মাঝে ধ্বংসের কথাও বলে। সভ্যতার নামে বনজঙ্গল কেটে বড় বড় অট্টালিকা তৈরি করে। যার ফলে প্রকৃতিসহ অনেক জনজীবনও বিপন্ন হয়।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে টাঙন নদীর তীর ধরে গড়ে ওঠা সাঁওতালদের গ্রাম। সেখানে তারা সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করে। একদিন ম্যানেজার মহাজন সাঁওতালদের বস্তি ভেঙে সেখানে ধান চাষের উদ্যোগ নেয়। সভ্যতার আধুনিক যন্ত্রের জাঁতাকলে পিষ্ট করতে চায় তাদের প্রাণের বসতি। উদ্দীপকেও মোরেলরা মনুষ্য বসতি গড়ার নামে সুন্দরবন কেটে সাফ করতে তৎপর হয়েছে। এভাবে উদ্দীপকটি গল্পের সাঁওতালদের বস্তি ভেঙে ধান চাষ করতে চাওয়ার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: সভ্যতার নামে প্রকৃতির স্বাভাবিকতা। নষ্ট করার দিকটি উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে ফুটে উঠেছে।
➤ হ্যাঁ, উদ্দীপকের হেনরি এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের পরিষ্কার জামা-কাপড় পরা লোকটার উদ্দেশ্য একসূত্রে গাঁথা।
➤ আধুনিকায়ন সভ্যতার মানে সভ্যতার অগ্রযাত্রা, ক্ষতিসাধন নয়। তাই আধুনিকায়নের নামে ধ্বংসযজ্ঞ কখনই কাম্য নয়। যারা সভ্যতার নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তারা প্রকৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এরা কোনো বিষয় বিবেচনা না করে শুধু সভ্যতার নামে ধ্বংস করতেই জানে।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের ম্যানেজার মহাজনরা সভ্যতার আধুনিকায়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস ও অমানবিক কাজ করে। এই গল্পে কপিলদাস মুর্মু টাঙন নদীর তীরে বসে তার অতীতের কথা ভাবে। তখন সে দেখে কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে কীসব যেন হিসাব করছে। সেখানে পরিষ্কার পোশাক পরা লোকটি যে ম্যানেজার মহাজন তা সে বুঝতে পারে। তারপর একদিন সে খবর পায় সাঁওতাল বস্তি ভেঙে সেখানে ধান চাষ করা হবে।
➤ উদ্দীপকের হেনরির নির্দেশে সারা বন কেটে উজাড় করা হচ্ছে। প্রকৃতি বিপন্ন হোক বা যা-কিছুই হোক না কেন- সভা হতে চাইলে ধ্বংস করতে হবে- এরকম চিন্তার প্রতিভূ হলেন হেনরি। অনুরূপ চিন্তা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের ম্যানেজার মহাজনের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হেনরি এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের পরিষ্কার জামা-কাপড় পরা লোকটার উদ্দেশ্য একই সূত্রে গাঁথা।
সারকথা: সভ্যতার নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর দিক থেকে উদ্দীপকের হেনরি এবং গল্পের ম্যানেজারের উদ্দেশ্য একসূত্রে গাঁথা।