| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘স্বাদু পানির জলাশয়ের…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২১ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

স্বাদু পানির জলাশয়ের একটি সাধারণ বৃহদাকৃতির মাছ হলো
রুই। এই মাছের দেহ রূপালি আঁইশে আবৃত। বিভিন্ন কারণে এ
রূপালি সম্পদ আজ হুমকির সম্মুখীন। এ সম্পদ সংরক্ষণে
গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
মাছের পাতলা, চাপা, রশ্মিযুক্ত চলনাঙ্গকে পাখনা বলে।
পটকা মাছের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কারণ-
১. এটি পানির যেকোনো গভীরতায় মাছকে সক্রিয়ভাবে সাঁতারে সহায়তা করে।
২. এইটি ভেতরের গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে চার পাশের পরিবেশের সাথে পানিতে মাছের ভারসাম্য রক্ষা করে।
৩. পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে বায়ু পটকাতে বিদ্যমান গ্যাস সে ঘাটতি পূরণ করে মাছের শ্বসন কাজে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপালি উপাদানটি হলো রুই মাছের আঁইশ।রুই মাছের আঁইশ হচ্ছে সাইক্লয়েড জাতীয় আঁইশ। আঁইশের গঠন নিচে চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
আঁইশের গঠন হচ্ছে পাতলা অস্থিময়। আঁইশ মাছের দেহকে ঢেকে রাখে। এটি চকচকে রূপালি গোলাকার অথবা ডিম্বাকার। আঁইশগুলো ত্বকের ডার্মাল স্তর হতে সৃষ্টি হয়। আঁইশ রাসায়নিকভাবে চুন ও কোলাজেন তন্তু দ্বারা গঠিত। আঁইশের কেন্দ্রে একটি স্বচ্ছ ক্ষুদ্র অংশ থাকে একে ফোকাস বা নিউক্লিয়াস বলে। ফোকাসের চারদিকে বৃত্তাকারে সজ্জিত কতকগুলো আল-সদৃশ রেখা থাকে এগুলো সারকুলি বা বৃদ্ধি রেখা। সারকুলির সাহায্যে মাছের বয়স নির্ণয় করা যায়। আঁইশের আল-বিহীন অঞ্চলকে বলা হয় রেডিই। আঁইশের অগ্র, পশ্চাৎ ও পার্শ্বক্ষেত্র রয়েছে। আঁইশের সম্মুখভাগ তন্তুময় যোজক টিস্যু নির্মিত এবং ডার্মিসের পকেটে প্রবিষ্ট থাকে। আঁইশগুলো পরস্পরকে আংশিক ঢেকে লম্বালম্বি ও কোনাকুনি সারিতে বিন্যস্ত থাকে। আঁইশগুলো সবসময় মিউকাসের পাতলা পিচ্ছিল আস্তরণে আবৃত থাকে ।
উদ্দীপকে নির্দেশিত রূপালি সম্পদ হলো রুই মাছ। এই মূল্যবান সম্পদ রক্ষার জন্য অবশ্যই আমাদেরকে সঠিক ও সময় উপযোগী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রুইমাছ সংরক্ষণের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে-
১. প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ: নদ-নদীগুলোকে নির্দিষ্ট করে মৎস্য অভয়াশ্রম তৈরি করে মাছের প্রজননের সুযোগ করে দিতে হবে ।
২. মা মাছ ধরা বন্ধ করা: ডিমওয়ালা মাছ ধরা নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩ কলকারখানার বর্জ্য: বর্জ্য যাতে নদীর পানিতে না মিশতে পারে সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৪. সেচ নিয়ন্ত্রণ: সেচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে জলাশয় শুকিয়ে না যায় ।
৫. বাজার নিয়ন্ত্রণ: ৯ ইঞ্চির নিচে রুইমাছ যাতে বাজারে বিক্রি না হয় তা লক্ষ রাখতে হবে।
৬ নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি: নাব্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সব ঋতুতে পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে হবে।
৭. জনসচেতনতা সৃষ্টি: সেমিনার, সভা, সিস্ফুজিয়াম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, পেপার পত্রিকার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যাতে রুইমাছ বিলুপ্ত হয়ে না যায়।
৮. মৎস্য আইন: মৎস্য আইনের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার করতে হবে।
৯. হালদা নদী সংরক্ষণ: হালদা নদী সংরক্ষণের মাধ্যমেও রুই মাছ সংরক্ষণ করা যাবে।