| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘স্বামী এবং স্ত্রী…’ কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ ২০২৪ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

স্বামী এবং স্ত্রী উভয়েই মূক ও বধির। তাদের সকল সন্তানই স্বাভাবিক কিন্তু বাহক। দুর্ভাগ্যবশত তাদের একটি মেয়ে স্বাভাবিক কিন্তু বাহক পুরুষের সাথে বিয়ের পর ৭:৯ অনুপাতে মূক-বধির এবং স্বাভাবিক সন্তানের জন্ম দেয়৷
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
হৃদপেশি যখন O2 সমৃদ্ধ রক্তের পর্যাপ্ত সরবরাহ পায় না তখন বুক নিষ্পেষিত হচ্ছে বা দম বন্ধ হয়ে আসছে এমন মারাত্মক অস্বস্তি অনুভূত হলে সে ধরনের বুক ব্যথাই হলো অ্যানজাইনা।
X ক্রোমোজোম তথা সেক্স ক্রোমোজোমের মাধ্যমে বংশ পরম্পরায় কোন বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হওয়াকে সেক্স লিংকড ইনহেরিট্যান্স বলে। যেমন-বর্ণান্ধতা একটি সেক্স লিংকড ইনহেরিট্যান্স। মানুষের X ক্রেমোজোমে বিদ্যমান এক ধরনের জিন চোখের বর্ণসংবেদী কোষগুলোর বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। এ জিনের প্রচ্ছন্ন অ্যালিল বর্ণসংবেদী কোষ গঠন ব্যাহত করে । ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি বর্ণান্ধ হয়।
উদ্দীপকের ক্রসটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম, যা দ্বৈত প্ৰচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস নামে পরিচিত। মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো- দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবে সংকরায়ন ঘটালে প্রথম বংশধরে (F1) কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রকাশিত হবে, কিন্তু গ্যামেট সৃষ্টির সময় বৈশিষ্ট্যগুলো জোড়া ভেঙে পরস্পর থেকে স্বতন্ত্র বা স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেটে প্রবেশ করবে।
ধরা যাক, গিনিপিগের হোমোজাইগাস খাটো লোম ও কালো বর্ণের জিনোটাইপ (AABB) এবং লম্বা লোম ও বাদামি বর্ণের জিনোটাইপ
(aabb)। এখানে, খাটো লোমের জন্য দায়ী জিন A, লম্বা লোমের জন্য দায়ী জিন a, কালো বর্ণের জন্য দায়ী জিন B এবং বাদামি বর্ণের জন্য
দায়ী জিন b।
এখানে F2 জনুর ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, খাটো লোম কালো বর্ণ : খাটো লোম' বাদামি বর্ণ : লম্বা লোম কালো বর্ণ : লম্বা লোম বাদামি বর্ণ = ৯:৩:৩:১।
উদ্দীপকে যে দম্পতির কথা বলা হয়েছে তারা উভয়েই মূক ও বধির। এই দম্পতির দ্বিতীয় প্রজন্মের সন্তান ৭:৯ অনুপাতে মূক-বধির এবং স্বাভাবিক হয়।
মানুষের জন্মগত মূকবধিরতা হয় দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিসের কারণে । এতে দুটি ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত দুটি প্রচ্ছন্ন অ্যালিল পরস্পরের প্রকট অ্যালিলকে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়। এক্ষেত্রে জিন দুটো যখন হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে তখন অন্য প্রকট জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়। তাই দুই জন মূক-বধির ব্যক্তির মধ্যে ক্রস করালে ১ম বংশধরে জিনগুলো হেটারোজাইগাস অবস্থায় থাকে বলে সবাই স্বাভাবিক বাক-শ্রবণক্ষম হয় কিন্তু এপিস্ট্যাটিক জিন বহন করে। ফলে দ্বিতীয় বংশধরে বিভিন্ন অনুপাতে স্বাভাবিক ও মূক-বধির সন্তান পাওয়া যাবে। নিচে চেকার বোর্ডের মাধ্যমে F2 জনুর ফলাফল ব্যাখ্যা করা হলো:
F2 জনুতে মূকবধির এবং এবং স্বাভাবিক বাক শ্রবণক্ষম সন্তানের সংখ্যা হলো যথাক্রমে ৭ এবং ৯ অর্থাৎ ৭:৯ অনুপাতে এই বৈশিষ্ট প্রকাশ পায়।