| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘স্বামী পরিত্যক্তা সাহেলা…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪ – মাসি পিসি, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

স্বামী পরিত্যক্তা সাহেলা শহরের অলিগলিতে শাক-সবজি বিক্রি করে জীবন চালায়। অবস্থাসম্পন্ন ঘরে বিয়ে হলেও ভাগ্য তাকে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। জীবনযুদ্ধে হার না মানা সাহেলা দুই সন্তানের লেখাপড়াও চালিয়ে যাচ্ছে। যখন ঘরের বাইরে থাকে, তখন তার চিন্তার শেষ থাকে না সোম ও মেয়ে ময়নার জন্য। আবার রাতেও নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে না গুন্ডা-বদমাশদের অত্যাচারে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৭
'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদির বাবা মহামারি কলেরা রোগে মারা গিয়েছিল।
"নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।"- লালসা-উন্মত্ত পুরুষের দৃষ্টি আহ্লাদির ওপর পড়ায় তার যে মনোভাব সৃষ্টি হয়, উক্তিটির মাধ্যমে তাই রোঝানো হয়েছে।
'মাসি-পিসি' গল্পে পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদি স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ. হয়ে পিতৃগৃহে তার পিসি ও মাসির কাছে আশ্রয় নেয়। তারা ছাড়া আহ্লাদির আর আপন বলতে কেউ নেই। দরিদ্র জীবনেও মাসি-পিসি তাকে পরম যত্নে আগলে রাখে। তরুণ বয়সি আহ্লাদির ওপর সমাজের লালসা-উন্মত্ত জোতদার, গুন্ডা-বদমাশসহ অনেকেরই দৃষ্টি রয়েছে। এছাড়া সে যেখানেই যায় না কেন সেখানেই যেন হীন চরিত্রের পুরুষেরা তার দিকে লালসার দৃষ্টিতে তাকায়। সেসব কথা মনে পড়ায় আহ্লাদির মনের মধ্যে প্রশ্নোক্ত ভাবের উদয় হয়।
উদ্দীপকের সাহেলা 'মাসি-পিসি' গল্পের পিসি চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
মানবজীবনে চলার পথে নানা ধরনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কোনোটার স্মৃতি সুখকর আবার কোনটা দুঃখময়। জীবনে যাই ঘটুক না কেন, সবকিছুকে পাশে রেখে চলার পথে এগিয়ে যেতে হয়।
'মাসি-পিসি' গল্পের এমনই এক চরিত্র হলো পিসি। তার বিয়ে হলেও অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে সে বিধবা হয়। তারপর সে আশ্রয় নেয় ভাইয়ের বাড়ি। এখানে সে আহ্লাদির মাসির সঙ্গে মিলে বাজারে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। সে তার বাবা-মাহারা ভাইয়ের মেয়েকে খুব ভালোবাসে। তাকে নিয়ে নানান দুশ্চিন্তা করে। পিসির যে অবস্থান তার প্রায় সবই পাওয়া যায় উদ্দীপকের সাহেলার মধ্যে। সেও জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবজি বিক্রি করে। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাহেলা 'মাসি-পিসি' গল্পের পিসি চরিত্রকে প্রতিনিধিত্ব করে।
"উদ্দীপকের সাহেলার সংগ্রাম ও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি- পিসির সংগ্রাম একই ধারায় প্রবাহিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
• মানুষের জীবন সব সময় একই ধারায় চলে না। সেই জীবনে নানা সময় নানা ঝড়ের আবির্ভাব হয়। তখন দৃঢ়হস্তে সেই ঝড়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়।
• 'মাসি-পিসি' গল্পের এমনই এক সংগ্রামী জীবন মাসি-পিসির। তারা দুজনই বিধবা। তাদের আবাসস্থলে কোনো পুরুষ মানুষের বসবাস নেই। তাই দুজন নারী হয়েই তারা জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যায়। এর মধ্যে তাদের কাছে আশ্রয় নেই স্বামী দ্বারা নির্যাতিত আহ্লাদি। এই আহ্লাদি যুবতি বলে তাকে নিয়ে তাদের অনেক দুশ্চিন্তা হয়। তারা যখন সবজি বিক্রি করতে শহরে যায় তখন আহ্লাদিকে সঙ্গে নিয়ে যায়। নারী হয়ে তারাই নৌকার দাঁড় বায়। এমনকি রাতে যখন পেয়াদারা তাদের বাড়িতে আক্রমণ করে তখন দুজন মিলেই তা প্রতিহত করে। অর্থাৎ তারা অনেক সংগ্রামী জীবন যাপন করে।
• উদ্দীপকের সাহেলাকেও দেখা যায় সংগ্রামী জীবনযাপন করতে। সেও স্বামী পরিত্যক্তা। নিজে সবজি বিক্রি করে দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগায়। আবার রাতেও ঘুমাতে পারে না গুন্ডা বদমাশদের ভয়ে। সাহেলার সেই জীবনসংগ্রাম যেন মাসি-পিসির জীবনসংগ্রামের প্রতিরূপ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাহেলার সংগ্রাম ও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসির সংগ্রাম একই ধারায় প্রবাহিত।