স্বামীহারা জাহিদা দুটি কন্যাসন্তানকে নিয়ে ঢাকার বস্তিতে বাস করে। সে গার্মেন্টসে পোশাক কর্মীর কাজ করে। বড়ো মেয়ে আফরোজা নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। প্রতিবেশী রাহেলা জাহিদাকে তাড়াতাড়ি মেয়ে বিয়ে দিয়ে বোঝা কমাতে বলে। এ বিষয়ে জাহিদা কান না দিয়ে আফরোজাকে আরও পড়াশোনার ব্যাপারে উৎসাহ দিতে থাকে। রাহেলার মোটেও এ বিষয়টি পছন্দ লাগে না।
বহিপীরের বাড়ি সুনামগঞ্জ।
টাকার অভাবে হাতেম আলির জমিদারি নিলামে উঠেছিল।
রেশমপুরের জমিদার হাতেম আলি। জমির খাজনা পরিশোধ করতে না পারায় তার জমিদারি নিলামে উঠতে চলেছে সূর্যাস্ত আইনের কবলে পড়ে। বন্ধুর কাছ থেকে টাকা পাওয়ার আশায় তিনি শহরে আসেন, কিন্তু টাকা জোগাড় করতে পারেন না। এ কারণেই হাতেম আলির জমিদারি নিলামে উঠেছিল।
উদ্দীপকের আফরোজার সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা চরিত্রটির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
‘বহিপীর’ নাটকের অন্যতম চরিত্র তাহেরা। বাবা আর সংমায়ের সিদ্ধান্তে মাতৃহীন তাহেরার বিয়ে ঠিক হয় বৃদ্ধ এক পিরের সঙ্গে। তাহেরার মতামতকে অগ্রাহ্য করে পুণ্যের কথা ভেবে তারা জোর করে তাহেরাকে বিয়ে দিতে চায়। এমন অবস্থায় বিয়ে থেকে রেহাই পেতে তাহেরা পালাতে বাধ্য হয়।
উদ্দীপকের আফরোজা নবম শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা বেঁচে নেই। মা জাহিদা দুটি কন্যা সন্তান নিয়ে ঢাকার বস্তিতে বাস করে। তার মা গার্মেন্টেসে পোশাক কর্মীর কাজ করে। প্রতিবেশী রাহেলা একটি কুচক্রী মহিলা। সে আফরোজাকে তাড়াতাড়ি মেয়েদের বিয়ে দিয়ে বোঝা কমাতে বলে। তার এমন নেতিবাচক কথায় সে কর্ণপাত করেনি। আফরোজার ব্যাপারে এমন বক্তব্য থাকলেও তাহেরার ক্ষেত্রে তা নেই। ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা এক দৃঢ়চেতা প্রতিবাদী চরিত্র। কিন্তু আফরোজার মাঝে এমন গুণ ফুটে উঠেনি। তাহেরা একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং আত্মমর্যাদাশীল নারী। যা আফরোজার মাঝে দেখা যায় না। তাহেরার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে ঠিক হলে তা সে মেনে নেয়নি। আর বিয়ের ব্যাপারে আফরোজার কোনো বক্তব্য আসেনি। তাই উদ্দীপকের আফরোজার সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা চরিত্রটির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
""বহিপীর' নাটকের তাহেরার বাবা উদ্দীপকের জাহিদার মতো হলে নাটকের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত।" মন্তব্যটি যথার্থ।
’বহিপীর' নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তাহেরা। তাকে কেন্দ্র করেই নাটকের ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে। অন্ধ পিরভক্তির কারণে তাহেরার বাবা কিশোরী তাহেরাকে একজন অসম বয়সি পিরের সাথে বিয়ে দেয়। তা না হলে পিরের বদদোয়ায় তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।
উদ্দীপকের জাহিদা সময়জ্ঞানসম্পন্ন এক নারী। তার স্বামী বেঁচে নেই কিন্তু দায়িত্ব-জ্ঞান রয়েছে। অভাবের সংসারে তার দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সে ঢাকার এক বস্তিতে বাস করে। সে গার্মেন্টসে চাকরি করে। তার বড়ো মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। রাহেলা তাকে মেয়ের বিয়ে দিয়ে বোঝা কমাতে বলে কিন্তু জাহিদা তার কথায় কান দেয়নি বরং সে বলেছে মেয়ে তার পড়াশোনা করুক। পড়াশোনার ব্যাপারে সে মেয়েকে উৎসাহ দেয়। যা তাহেরার বাবার মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না।
'বহিপীর' নাটকের তাহেরার বাবা একজন নীচ ও কুসংস্কারমনা লোক। তার বাবা তাকে এক বৃদ্ধ পিরের সাথে বিয়ে দেয়। যার ফল ভালো হয়নি। তাহেরা এ অসম বিয়ে মেনে না নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। সে শহরগামী বজরায় চড়ে বসেছে। সে বৃদ্ধর সাথে তার না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। এ হিসেবে তাহেরা একটি অনমনীয় চরিত্র। সবশেষে তাহেরা নতুন জীবনের সন্ধানে হাশেম আলির হাত ধরে চলে যায়। কিন্তু জাহিদার মা মেয়ের ব্যাপারে সচেতন ছিল এবং তাকে পড়াশোনো করতে উৎসাহ দিত। তাই তাহেরার বাবা উদ্দীপকের জাহিদার মতো হলে নাটকের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
