| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘স্বামীহারা তাহেরা বিবির…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪ – মাসি পিসি, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

স্বামীহারা তাহেরা বিবির নদী তীরের ছোট্ট বাড়িটা বন্যায় তলিয়ে গেলে আরো অনেকের মতো রাস্তার পাশের বাঁধে নতুন আশ্রয় গড়ে তুলেছে। সরকারি ত্রাণ আর জমানো কিছু টাকা নিয়ে অনিশ্চিত জীবনের প্রহর গুনছে সে। চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে জীবন এখন তার কাছে একটা যুদ্ধের মতো। এর মধ্যে দুর্বৃত্তের দল রাতের আঁধারে নিরীহ মানুষের শেষ সম্বলও লুটে নিচ্ছে। তাহেরা জানে, এ যুদ্ধে তাকে জিততেই হবে। তাই সে রামদা হাতে প্রহরীর মতো জেগে থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৭
'মাসি-পিসি' গল্পে বর্ণিত বুড়ো লোকটির নাম রহমান।
মানিকের ‘মাসি-পিসি’ গল্পে দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত প্রবল। চারিদিকের অনাহার, অভাব ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে বিধবা মাসি-পিসি কেবল নিজেদের নয়, বরং আহ্লাদিকেও রক্ষা করার কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে মানুষের অস্তিত্ব যখন বিপন্ন, তখন মাসি-পিসি তাদের অদম্য মানসিক শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। স্বামীর (যোগু) লালসার হাত থেকে আহ্লাদিকে বাঁচাতে এবং দুর্ভিক্ষের অনিশ্চয়তার মধ্যেও টিকে থাকতে তাদের যে নিরন্তর সংগ্রাম, তা-ই এখানে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের তাহেরার সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসির মিল রয়েছে সংগ্রামমুখর জীবনবাস্তবতার দিক থেকে
আমাদের সমাজে গরিব ও অসহায় মানুষেরা নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকে। আর বিধবা হলে তো কথাই নেই। এ ধরনের মহিলাদের সবাই অরক্ষিত বলে মনে করে সর্বদা ঠকানোর চেষ্টা করে। ক্ষেত্রবিশেষে তারা নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতনেরও শিকার হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের বিধবা ও অসহায় তাহেরার বাড়িটা বন্যায় তলিয়ে গেলে বাধ্য হয়ে আরও অনেকের সাথে সে ছেলেমেয়েদের নিয়ে রাস্তার পাশের বাঁধে আশ্রয় নেয়। এমতাবস্থায় একটি দুর্বৃত্তের দল রাতের আঁধারে এসব গরিব পরিবারের সর্বস্ব লুঠ করতে থাকে। আর তাই নিজেদের বাঁচাতে তাহেরা রামদা হাতে রাত জাগে। 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসিও তাহেরার মতোই বিধবা ও অসহায় নারী। সন্তানতুল্য আহ্লাদিকে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচাতে তাদেরকেও বিনিদ্র রাত জাগতে হয়। উদ্দীপকের তাহেরা ও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি- পিসির সংগ্রাম এবং জীবনবাস্তবতা যেন একই রকম। এদিক থেকে তাদের মধ্যে মিল পরিলক্ষিত হয়।
"উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্পের জীবনযুদ্ধ এক হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের দেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করে। তাই তাদের সবার আর্থ-সামাজিক অবস্থা এক রকম নয়। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদেরকে জীবনযাপন করতে হয়।
উদ্দীপকে তাহেরা নামের এক সংগ্রামী নারীর কথা বলা হয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর চার সন্তানকে মানুষ করতে তাকে গলদঘর্ম হতে হয়। এরই মধ্যে তার নদী তীরবর্তী বাড়িটাও বন্যার পানিতে ভেসে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে রাস্তার পাশের বাঁধে তাকে আশ্রয় নিতে হয়। এমতাবস্থায় দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে শুরু হয় একদল দুর্বৃত্তের উৎপাত। ফলে নানামুখী সংকট নিয়ে তাকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। 'মাসি-পিসি' গল্পে মাসি-পিসি অসহায় বিধবা। স্বামীর মৃত্যুর পর আহ্লাদিদের বাড়িতে তাদের আশ্রয় হলেও নিজেদের ভরণপোষণের খরচ জোগাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। এরই ভেতর সন্তান-সম্ভবা আহ্লাদির দায়িত্ব এসে তাদের উপর বর্তায়।
'মাসি-পিসি' গল্পে মাসি-পিসির সঙ্গে তাহেরার জীবনযুদ্ধের দিকটি মিলে গেলেও তার চেয়ে মাসি-পিসির জীবনসংগ্রাম আরও বেশি কঠিন। কেননা, তাহেরাকে সরাসরি দুর্বৃত্তদের সম্মুখীন হতে না হলেও মাসি-পিসিকে আহ্লাদির জন্য নানা রকম বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। আহ্লাদি ও তার বাড়িকে কবজা করতে দুর্বৃত্তরা উঠেপড়ে লাগে। এমতাবস্থায় তাদের হাত থেকে আহ্লাদিকে বাঁচাতে মাসি-পিসিকে লড়াই করতে হয়। সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।