| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘স্বার্থান্ধ মানুষের লোভের…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

স্বার্থান্ধ মানুষের লোভের কারণে এই পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ইতিহাস সাক্ষী এসব হত্যাকান্ডের সাথে অর্থলিপ্সা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব যেমন জড়িত তেমনিভাবে জড়িত থাকে খুব কাছের মানুষ এবং অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ব্যক্তিবর্গ। যার উদাহরণ- জুলিয়াস সিজার, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজউদ্দৌলাকে ভগবানগোলায় বন্দি করা হয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতির সাদৃশ্য রয়েছে।
ইতিহাস যেমন ভালো কাজের সাক্ষী হয়ে থাকে, তেমনই আবার জঘন্য কাজের সাক্ষীও হয়ে থাকে। যারা দেশের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত ত্যাগ করে দিতে সদা প্রস্তুত থাকেন সেই তারাই দেশের মানুষের দ্বারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েন, দিতে হয় তাদের জীবন পর্যন্ত।
এমনই এক নির্মমতার বলি হয়েছেন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান চরিত্র সিরাজ। তিনি ছিলেন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব। কিন্তু তাঁর নবাবি নিজ খালা ঘসেটি বেগম সহ্য করতেন না। তাই তিনি সিরাজের বিরুদ্ধে, ষড়যন্ত্র রচনা করেন। সিরাজ ছিলেন দেশমাতৃকার প্রেমের. মূর্ত প্রতীক। তিনি নিজের সম্পর্কে না ভেবে সব সময় দেশের জন্য ভাবতেন। কিন্তু অর্থলিপ্সা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও পরিজনের বিশ্বাসঘাতকতায় তাঁর মৃত্যু হয়। উদ্দীপকেও এমনই কিছু দেশপ্রেমিকের পরিণতির কথা বলা হয়েছে। যাঁরা দেশের জন্য পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই দেশের মানুষের নীলনকশায় তাঁদের প্রাণনাশ হয়। যা সিরাজ চরিত্রের পরিণতির অন্য রূপ। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতির সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চেতনাগত দিক অনেকটাই ধারণ করতে পেরেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
ইতিহাসে অনেক যেমন মহান কাহিনি আছে তেমনই আবার অনেক নৃশংস কাহিনিও আছে। ইতিহাসের এমন অনেক জঘন্য কাহিনি আছে যা আমাদের চেতনাকে নাড়া দেয়। ঘৃণার জন্ম হয় ওইসব ব্যক্তির প্রতি যারা এ হেন ঘটনার মূল হোতা।
'সিরাজউদ্দৌলা', নাটকে এমনই এক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। সিরাজ ছিলেন দেশপ্রেমের মূর্তপ্রতীক। দেশকে ভালোবেসে তিনি পরিবার-পরিজন থেকে অনেক দূরে ছিলেন। তাঁর এই দেশপ্রেমের পুরস্কারস্বরূপ তিনি পেয়েছেন লাঞ্ছনা ও মৃত্যু। নিজ আত্মীয়ের বিশ্বাসঘাতকতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে তিনি জীবন হারিয়েছেন। বিশ্বাসঘাতকতা ও অর্থলিপ্সার কবলে পড়ে একজন দেশপ্রেমিকের মৃত্যুর যে আখ্যান নাট্যকার রচনা 'করেছেন তা আমাদের মধ্যে এক চেতনার সঞ্চার করে।
ঠিক অনুরূপ চেতনার জাগরণ হয় উদ্দীপকটি পাঠ করলে। সেখানেও অর্থলিপ্সা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও খুব কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার এমন কিছু দেশপ্রেমিকের দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। যারা স্বার্থান্ধের কবলে পড়ে তাদের জীবন হারিয়েছেন। অর্থাৎ আলোচ্য নাটক ও উদ্দীপক উভয়েই দেশপ্রেমিকের করুণ মৃত্যুর আখ্যান বর্ণিত হয়েছে। এই বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চেতনাগত দিক অনেকটাই ধারণ করতে পেরেছে।