সেই ছোটকালে নিহান একটি বিড়াল ও একটি ছাগলছানা এনেছিল। তাদের নাম দিয়েছিল মিনি আর রাজা। এখন মিনি আর রাজা অনেক বড় হয়েছে। তাদের নাম ধরে ডাকলে মুহূর্তেই হাজির হয়। মিনি কাছে এসে গা ঘেঁষে বসলেও রাজা দূরত্ব বজায় রেখে লেজ নাড়ায়।
'তন্বী' শব্দের অর্থ ক্ষীণ ও সুগঠিত অঙ্গবিশিষ্ট।
"তাহার মর্ম তাহারা ভাষার অপেক্ষা সহজে বুঝিত"- উক্তিটি দ্বারা সুভার প্রতি গোয়ালের গাভী দুটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে বোঝানো হয়েছে।
'সুভা' গল্পের সুভা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সহজে কেউ তার সঙ্গে মিশতে চাইত না। কিন্তু সুভার গুটিকয়েক অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল। সেই বন্ধু হচ্ছে গোয়ালের দুটি গাভী, যাদের নাম সর্বশী ও পাঙ্গুলি। সুভার মুখে গাভী দুটি কখনো এই নাম শোনেনি। কিন্তু সুভার পদশব্দ তারা চিনত। সুভার কথাহীন যে করুণ সুর ছিল তার মর্ম. এই গাভী দুটি সহজেই বুঝতে পারত। সুভা কখন তাদের আদর করে, কখন ভর্ৎসনা করে, কখন মিনতি করে- তা মানুষের ভাষা অপেক্ষা ভালো বুঝতে পারত গাভী দুটি। তাই লেখক প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
নিহানের সঙ্গে সুভার পোষা প্রাণীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের বৈশিষ্ট্যের দিকটির মিল রয়েছে।
'সুভা' গল্পের সুভা একজন বাক্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না। এই কারণে কথা বলতে পারা মানুষদের জগৎ থেকে সে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। তবে মুখর মানুষদের সঙ্গে মিশতে না পারলেও কথা বলতে না পারা পোষা প্রাণীরা হয়ে উঠেছিল তার অন্তরঙ্গ বন্ধু। এই পোষা প্রাণীদের কাছেই সে মনের অনুভূতি প্রকাশ করত।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, নিহান ছোট থেকেই একটি বিড়াল ও একটি ছাগলছানা পুষতে থাকে। সে তাদের নাম দিয়েছিল মিনি আর রাজা। এই মিনি আর রাজা সময়ের পরিক্রমায় অনেক বড় হয়েছে। নিহান তাদের নাম ধরে ডাকলেই তারা মুহূর্তে নিহানের কাছে উপস্থিত হয়। নিহানের মতো প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি 'সুভা' গল্পের সুভার মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে। বাক্প্রতিবন্ধী সুভা - গোয়ালঘরের দুটি গাভীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। এই পোষা প্রাণীরা সুভার অন্তরের মর্মকথা সহজেই বুঝে উঠতে পারত, যা উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, নিহানের মধ্যে সুভার পোষা প্রাণীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ও গভীর ভালোবাসার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির দিক থেকে বলা যায়, "নিহানের সঙ্গে সুভার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মিল থাকলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি ভিন্ন"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পে বাণীকন্ঠের কন্যা সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। এই বাক্প্রতিবন্ধিতার কারণে তার প্রতি সকলেই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করে। কিন্তু প্রকৃতি যেন সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়, তার হয়ে কথা বলে। কথা বলতে পারা মানুষরা তার সঙ্গে না মিশলেও কথা বলতে না পারা পোষা প্রাণীদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে নিহানের পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। সে একটি বিড়ালছানা ও ছাগলছানা এনে তাদের নাম দেয় মিনি আর রাজা। মিনি আর রাজাকে সে পুষে অনেক বড় করে তুলেছে। এখন তাদের নাম ধরে ডাকলে তারা মুহূর্তেই নিহানের কাছে হাজির হয়। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি নিহান থেকে ভিন্ন। উদ্দীপকের নিহানের পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও আন্তঃসম্পর্ক 'সুভা' গল্পের সুভার মধ্যেও লক্ষ করা যায়। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি ভিন্ন ধরনের। কেননা সুভা ছিল বাক্প্রতিবন্ধী, তার অন্তরঙ্গ বন্ধু গাভী দুটির নাম থাকলেও সে কখনো তাদের নাম ধরে ডাকতে পারেনি। বাক্প্রতিবন্ধী কারণে সে স্বাভাবিক মানুষদের জগৎ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে সে প্রকৃতি ও বাড়ির পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের আশ্রয়ের জগৎ সৃষ্টি করে নেয়। । যার সঙ্গে উদ্দীপকের নিহানের কোনো সাদৃশ্য নেই। তাই বলা যায়, নিহানের মধ্যে সুভার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মিল থাকলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি ভিন্ন।
