| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সেই অস্ত্র আমাকে…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – সুচেতনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সেই অস্ত্র আমাকে ফিরিয়ে দাও
যে অস্ত্র ব্যাপ্ত হলে নক্ষত্রখচিত আকাশ থেকে আগুন ঝরবে না।
মানববসতির বুকে মুহূর্তের অগ্ন্যুৎপাত
লক্ষ লক্ষ মানুষকে করবে না পঙ্গু-বিকৃত;
আমাদের চেতনা জুড়ে তারা করবে না আর্তনাদ।
সেই অস্ত্র, যে অস্ত্র উত্তোলিত হলে
বারবার বিধ্বস্ত হবে না ট্রয় নগরী।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
সুচেতনার পথে আলো জ্বেলে পৃথিবীর ক্রমমুক্তি সম্ভব।
"এই পথিবীর রণ রক্ত সফলতা সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।"-পঙ্ক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, সভ্যতার অগ্রগতির পাশাপাশি পৃথিবী তার বুকে যুদ্ধ কিংবা রক্তপাত ধারণ করলেও এই ধ্বংসাত্মক দিক পৃথিবীর শেষ সত্য নয়।
পৃথিবীর বুকে সভ্যতা যেমন এগিয়েছে, বিকশিত হয়েছে, তার পাশাপাশি বহু যুদ্ধ-রক্তপাত-প্রাণহানি সংঘটিত হয়েছে এবং বর্তমান সময়েও হচ্ছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে মানবতা, লোপ পাচ্ছে মানুষের বিবেকবোধ কিংবা চিন্তাচেতনা থেকে উদ্ভূত শুভবোধ। এই ধ্বংসাত্মক বোধ বা দিকটিই একমাত্র সত্য নয়। এর বাইরেও সত্য লুকিয়ে আছে। কবি তাকে সুচেতনা হিসেবে কল্পনা করেছেন।
উদ্দীপকের সেই অস্ত্র 'সুচেতনা' কবিতার কবির প্রার্থিত সুচেতনা প্রত্যয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
'সুচেতনা' কবিতায় কবির প্রার্থিত সুচেতনা দূরতর দ্বীপ-সদৃশ ধারণা যা পৃথিবীর নির্জনতায়, যুদ্ধে, রক্তে নিঃশেষিত নয়। চেতনাগত এই সত্তা বর্তমান পৃথিবীর গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে একটি সাম্য সুন্দর পৃথিবী রচনা করবে।
উদ্দীপকের কবির 'সেই অস্ত্র' একটি কল্যাণময় অনুষঙ্গ, যা পৃথিবীর সব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বিলীন করে দেবে। কবির প্রার্থিত এই অস্ত্রই পৃথিবী শান্ত ও সুশৃঙ্খল বসবাসযোগ্য করে তুলবে। 'সুচেতনা' কবিতায় কবির প্রার্থিত সুচেতনা একটি ধারণা হলেও এটি পৃথিবীকে সুন্দর ও বসবাসযোগ্য করে তুলবে। তাই কবি এই শুভ চেতনাকে কামনা করেন। এদিক থেকে উদ্দীপকের সেই অস্ত্র 'সুচেতনা' কবিতার কবির প্রার্থিত সুচেতনা প্রত্যয়ের অনুরূপ।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি ও 'সুচেতনা' কবিতার কবি উভয়েই সাম্য সুন্দর পৃথিবী রচনার মনোভাব ব্যক্ত করায়, “একটি মানবিক সমাজ প্রত্যেক মানবতাবাদী মানুষের একান্ত কাম্য”-মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুচেতনা' কবিতায় বর্ণিত কবির চেতনাগত সুচেতনা বর্তমান পৃথিবীর গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে একটি সাম্য সুন্দর পৃথিবী রচনা করবে। এভাবে সুচেতনা প্রত্যয়টি মানবসমাজের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করবে।
উদ্দীপকের কবির প্রার্থিত 'সেই অস্ত্র' কোনো ধ্বংসাত্মক অস্ত্র নয়। এটি এক কল্যাণময়ী অনুষঙ্গ যা যুদ্ধ, বিভেদের সীমারেখা ঘুচিয়ে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলবে। 'সুচেতনা' কবিতায়ও কবি প্রার্থিত সুচেতনা পৃথিবীর সকল ব্যাধিকে অতিক্রম করে পৃথিবীর অগ্রযাত্রাকে তির্যক করবে।
উদ্দীপকের কবি ও 'সুচেতনা' কবিতার কবি উভয়েই যুদ্ধ, বিভেদ, বিদ্বেষের রেখা মুছে দিতে চেয়েছেন। উদ্দীপকের কবি 'সেই অস্ত্র' প্রত্যয়ের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তির বার্তা যুক্ত করেছেন। 'সুচেতনা' কবিতায়ও কবি শুভ চেতনার উদ্রেক ঘটাতে চেয়েছেন, যা যুদ্ধ-বিদ্বেষ হানাহানি মুছে দিয়ে সাম্য, সুন্দর ও কল্যাণময় পৃথিবী রচনা করবে। তাই উপর্যুক্ত আলোচার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, “একটি মানবিক সমাজ প্রত্যেক মানবতাবাদী মানুষের একান্ত কাম্য।"- মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।