| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সেলিম একজন কৃষক।…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৩ – ইসলামের অর্থব্যবস্থা, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সেলিম একজন কৃষক। তিনি এ বছর সেচ প্রকল্পের আওতায় তার জমিতে উৎপাদিত ৫০০০ কেজি ধানের মধ্যে ২৫০ কেজি ধান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। সংসারের খরচ শেষে প্রায় ১,০০,০০০ টাকা তিনি ইমাম সাহেবের পরামর্শে জেলা সদরে অবস্থিত সুদবিহীন ব্যাংকে রাখেন। কিন্তু তার প্রতিবেশী মন্টু তাকে বলেন, তোমার টাকা নিকটের যেকোনো ব্যাংকে রাখলেই পারতে। কারণ সব ব্যাংকই এক । কেউ লাভ এবং কেউ সুদ বলে গ্রাহককে সুবিধা দেয় ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
বিবাহ সংঘটিত হওয়ার জন্য কনেপক্ষ বরপক্ষকে পূর্ব চুক্তিমতো যে অর্থসম্পদ প্রদান করে তাকে যৌতুক বলে।
পবিত্রতা ইমানের অর্ধাংশ। পবিত্র সম্পদ হালাল আর অপবিত্র সম্পদ হারাম। ধনসম্পদের জাকাত দিলে অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয়ে যায়। আর জাকাত না দিলে তা অপবিত্র থাকে এবং হালাল হয় না। অতএব, সম্পদ পবিত্রকরণের ক্ষেত্রে জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। বস্তুত সম্পদের জাকাত দিলে তা পবিত্র হয় এবং তাতে বরকত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি তার সম্পদের জাকাত প্রদান করে, তার সম্পদের অপবিত্রতা দূর হয়।” (কানযুল উম্মাহ )
জনাব সেলিমের ধান বণ্টন পদ্ধতি ইসলামের উশর' বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ।
বায়তুল মালের আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে উশর। মুসলিম 1 মালিকানাধীন ভূমির একটি বিরাট অংশের বার্ষিক রাজস্ব প্রদানকে উশর বলা হয় । এ ব্যাপারে কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, এগুলোর ফল খাও যখন ফলবান হয় এবং এগুলোর ফসল কাটার সময় আল্লাহর হক আদায় করো আর সীমা অতিক্রম করো না। (সূরা আল- আনআম : ১৪১) হাদিসে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে; আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেন, যে ভূমির পানি সরবরাহ বৃষ্টি, ঝরনা কিংবা নদী থেকে হয়ে থাকে, তার ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ উশর হিসেবে গ্রহণ করা হবে । আর যে জমিতে (কূপ খনন করে) পানি সেচ করা হয়, তার ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ গ্রহণ করা হবে। ইসলামি শরিয়ত উশরি জমির ধরন ও প্রকৃতি নির্ধারণ করে নিয়েছে- ১. আরব উপদ্বীপের সব জমি । ২. স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে এমন এলাকার জমি। ৩. যুদ্ধ জয়ের পর মুজাহিদদের মাঝে বন্টন করে দেওয়া বিজিত এলাকার জমি। ৪. বৃষ্টি, নদী ও ঝরনার পানিতে সিক্ত পতিত ও খারাজি জমি। ৫. মুসলিমদের আবাদি জমিতে রূপান্তরিত বসতবাড়ি যা উশরি পানি দ্বারা সিক্ত হয়। ৬. সব আবাদি জমি মুসলিমদের মালিকানাভুক্ত। এসব জমিতে উৎপন্ন ফসলের উৎপাদনের ধরনভেদে দশ ভাগের এক ভাগ বা বিশ ভাগের এক ভাগ উশর আদায় করা হবে।
উদ্দীপকে সেলিম তার জমিতে উৎপাদিত ৫০০০ কেজি ধানের মধ্যে ২৫০ কেজি ধান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়। অর্থাৎ সে উৎপন্ন ফসলের ২০ ভাগের এক ভাগ উশর হিসেবে আদায় করে। তাই তার এ বণ্টন পদ্ধতি উপর হিসেবে গণ্য হবে।
সেলিমের প্রতিবেশী মন্টুর বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। কারণ তার মতটি ভুল
নীতি আমাদের দেশে দুই ধরনের ব্যাংক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তা হলো- ১. শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত ইসলামি ব্যাংক ও ২ সুদভিত্তিক ব্যাংক। ইসলামি ব্যাংক শরিয়ত অনুসারে পরিচালিত হয়। এখানে সুদের কোনো স্থান নেই। এখানে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যাবলি সম্পাদিত হয়। পক্ষান্তরে, সুদি ব্যাংক শরিয়তের অনুসরণ করা হয় না। কুরআন-সুন্নাহবিরোধী সুদি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এ ব্যবস্থায় মানুষকে দোযখের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। সুদি ব্যাংক ব্যবস্থায় হারাম জিনিসের ব্যবসায়ও অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। যেমন মদের ব্যবসার, শূকরের ব্যবসায়।
সেলিম ইমাম সাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা ইসলামী ব্যাংকে জমা রাখেন। কিন্তু মন্টু তাকে সুদভিত্তিক ব্যাংকে জমা রাখার কথা বলে। সে মনে করে, সব ব্যাংক একই। কেউ লাভ আবার সুদ বলে গ্রাহককে সুবিধা দেয়। মন্টুর এ ধারণা সঠিক নয়। কারণ ইসলামি ব্যাংক ও সুদভিত্তিক ব্যাংকের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে ।এছাড়া এ দুই ধরনের ব্যাংক পরস্পর বিপরীতমুখী ।
সুতরাং বলা যায়, মন্টুর ধারণা মোটেও সঠিক নয়। তাই তার মতের সাথে একমত হওয়া যায় না ।