সেলিমের নাইট্রোজেন ঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য নিষ্কাশনের শিমবীজের মতো দেখতে অঙ্গটি বিকল হয়ে গিয়েছে। ডাক্তার একটি মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধনের ব্যবস্থা অথবা নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে উক্ত অঙ্গ গ্রহণের পরামর্শ দিলেন।
বৃক্কের ভেতরের দিকের অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস বলে।
গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিসুত তরল উৎপন্ন করে। এই তরলকে বলে আল্ট্রাফিলট্রেট। সেই আল্ট্রাফিলট্রেট রেনাল টিউব্যুলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় আরও কয়েক দফা শোষণ এবং নিঃসরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। সবশেষে যে তরলটি পাওয়া যায়, সেটিই মূত্র, যা সংগ্রাহী নালিকার মধ্য দিয়ে ইউরেটার হয়ে মূত্রথলিতে জমা হতে থাকে। এভাবেই মূত্র তৈরি হয়।
উদ্দীপকে সেলিমের বিকল হওয়া অঙ্গাণুটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের কার্যকরী একক হলো নেফ্রন। নিচে নেফ্রনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকে সেলিম বৃক্ক বিকলজনিত সমস্যার আক্রান্ত। ডাক্তার তাকে ডায়ালাইসিস অথবা বৃক্ক প্রতিস্থাপন করার পরামর্শ দেন।
ডায়ালাইসিস পদ্ধতিতে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এক্ষেত্রে রোগীর এক হাতের ধমনির সাথে ডায়ালাইসিস টিউবের এক প্রান্ত এবং একই হাতের শিরার সাথে ডায়ালাইসিস টিউবের অপর প্রান্ত সংযুক্ত করা হয়। তারপর ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে শিরার মধ্য দিয়ে পুনরায় দেহে প্রবেশ করানো হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় এর আংশিক বৈষম্যভেদ্য প্রাচীর কর্তৃক রক্তের ক্ষতিকর ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি গৃহীত হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্ত পরিশোধন ততটা নিখুঁত হয় না। তাছাড়া এটি ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এটি কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয়।
অপরদিকে বৃক্ক প্রতিস্থাপন চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক ফলপ্রসূ, কারণ দু'টি বৃক্কের পরিবর্তে একটি বৃক্কও যথেষ্ঠ দক্ষতার সাথে রক্ত পরিশোধনে সক্ষম। বৃক্ক প্রতিস্থাপনের পূর্বে দাতা ও গ্রহীতার টিস্যু ম্যাচ করে কি না তা দেখে নিতে হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ বৃক্ক বিকল রোগীর দেহে বৃক্ক সংযোজন বা প্রতিস্থাপন করে তাদের সুস্থ করে তোলা হচ্ছে।
তাই উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সেলিমের জন্য ডায়ালাইসিসের চেয়ে বৃক্ক প্রতিস্থাপন পদ্ধতিটি অধিক টেকসই।
