| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘সেতু ও মিতু…’ ২০১৬ – শ্রণিকরণ, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সেতু ও মিতু দু’বোন। দু’জনেই নিজেদেরকে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে খুব পছন্দ করে। সেতু তার পড়ার টেবিলে বিভিন্ন লেখকের বই ধরন অনুযায়ী আলাদা-আলাদা সেলফে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, মিতু তার পড়ার ঘরের দক্ষিণ দিকে অপুষ্পক এবং পূর্বদিকে স্বপুষ্পক উদ্ভিদের বাগান করল যা দেখে যে কেউ উদ্ভিদজগৎ সম্বন্ধে একটি সম্যক ধারণা নিতে পারবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে যখন দেখা যায় যে কিছু শ্রেণির মধ্যে একই গুণ ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় বর্তমান রয়েছে তখন ওই গুণের মাত্রা অনুসারে আমরা শ্রেণিকরণ করে থাকি। এ ধরনের শ্রেণিকরণকে ক্রমিক শ্রেণিকরণ বলে।
বৃহত্তম জাতি হলো সর্বোচ্চ জাতি। শ্রেণিকরণে ক্ষুদ্রতর শ্রেণি বা জাতিকে বৃহত্তর শ্রেণি বা জাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে শ্রেণিকরণ করা হয়। বৃহত্তম জাতির চেয়ে আর কেনো বড় জাতি না থাকায় এটিকে অন্যকোনো জাতির অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। তাই বৃহত্তম জাতির 'শ্রেণিকরণ করা যায় না।
উদ্দীপকের সেতুর শ্রেণিকরণ কৃত্রিম শ্রেণিকরণ।
বস্তু বা ঘটনার সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে শ্রেণিকরণ করা হয়। তবে কৃত্রিম শ্রেণিকরণের সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যগুলো কৃত্রিম বা বাহ্যিক হয়ে থাকে। তাই বলা যায়, কোনো ব্যবহারিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যে শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির নির্বাচিত বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে শ্রেণিকরণ করা হয় তাকে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বলে। যেমন- একটি কাপড়ের দোকানের কাপড়গুলোকে যদি বেশি দামের কাপড় ও কম দামের কাপড় এ দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয় তখন তা হয় কৃত্রিম শ্রেণিকরণ। কৃত্রিম শ্রেণিকরণের পিছনে ব্যক্তির বিশেষ ব্যবহারিক উদ্দেশ্য কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মাধ্যমে যেহেতু ব্যবহারিক উদ্দেশ্য সাধন করা যায়, তাই ব্যবহারিক দিক থেকে এ শ্রেণিকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের মিতুর শ্রেণিকরণ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ ও সেতুর শ্রেণিকরণ কৃত্রিম শ্রেণিকরণ। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ কৃত্রিম শ্রেণিকরণ থেকে ভিন্ন। নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
১. প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ করা হয়ে বস্তু বা ঘটনার মধ্যকার মৌলিক ও অপরিহার্য সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে।
অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণের সাদৃশ্যগুলো অমৌলিক, বাহ্যিক ও কৃত্রিম হয়ে থাকে।
২. প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য থাকে সার্বিক বা সাধারণ জ্ঞান লাভ করা। তাই এ জাতীয় শ্রেণিকরণে সকলের উদ্দেশ্য পূরণ হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ করা ব্যক্তির বিশেষ ব্যবহারিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য। তাই কৃত্রিম শ্রেণিকরণ সকলের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ।
৩. প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ মৌলিক ও অপরিহার্য সাদৃশ্যের ভিত্তিতে করা হয় বলে এ জাতীয় শ্রেণিকরণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় না।
অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ অমৌলিক ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে করা হয় বিধায় এ জাতীয় শ্রেণিকরণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।
৪. প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বৈজ্ঞানিক মূল্যে মূল্যবান। এ কারণে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণকে বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণও বলা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, কৃত্রিম-শ্রেণিকরণ বৈজ্ঞানিক মূল্যে মূল্যবান নয়। এ কারণে এ শ্রেণিকরণকে লৌকিক শ্রেণিকরণ বলা হয়ে থাকে।
৫. প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের মাধ্যমে সার্বিক বা সাধারণ জ্ঞান অর্জিত হয়। তাই জ্ঞানগত দিক থেকে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ সার্বিক মূল্যে মূল্যবান। অন্যদিকে, ব্যক্তির বিশেষ উদ্দেশ্যের জন্য কৃত্রিম শ্রেণিকরণ করা হয়। তাই কৃত্রিম শ্রেণিকরণ সার্বিক মূল্যে মূল্যবান নয়।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের মধ্যে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে নেই। তাই কৃত্রিম শ্রেণিকরণ থেকে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।