সেতু অল্প বয়সেই টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। তবুও মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার চেষ্টা করে। স্কুলে ভর্তি হলে সহপাঠী এবং শিক্ষকদের কাছ থেকেও সে যথেষ্ট আন্তরিকতা ও সহযোগিতা পায়। ফলে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় সেতু এ প্লাস পেয়ে এক নজির স্থাপন করে।
'সুভা' গল্পে অকর্মণ্য বলা হয়েছে প্রতাপকে।
'প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়'- বলতে প্রকৃতির সঙ্গে সুভার গভীর সম্পর্ক এবং তার ভাষার অভাব পূরণে প্রকৃতির ভূমিকাকে বোঝানো হয়েছে।
নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সে সময় পেলেই নদীর পাড়ে এসে বসে। তখন প্রকৃতির নানান উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা নিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। এই ভাষার বিস্তার যেন বিশ্বব্যাপী। এভাবেই প্রকৃতি বিভিন্ন শব্দের মধ্য দিয়ে সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।
উদ্দীপকের সেতুর সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো অবজ্ঞা ও অসহযোগিতা।
সুভা বাক্প্রতিবন্ধী ছিল। তাই সে সমাজ ও পরিবারে প্রতিনিয়ত অবহেলার শিকার হতো। তার সামনেই সবাই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। তার মা তাকে নিজের ত্রুঢ়িম্বরূপ মনে করতেন। তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে বিরক্ত ছিলেন। কেউ তার সঙ্গে খেলত না। অথচ প্রতিবন্ধী হিসেবে তার পরিবার ও সমাজের কাছে সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রাপ্য ছিল।
উদ্দীপকের সেতু অল্পবয়সেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। বাবা-মা, ভাই-বোন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে এবং শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহয়তায় পড়াশোনা করে এসএসসি পরীক্ষায় সে 'এ' প্লাস পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পে জন্মগত বাক্প্রতিবন্ধী। সে অনুরূপ সুযোগ পায়নি। কারণ তার বাবা তাকে নিয়ে সব সময় চিন্তা করতেন। মা সুভাকে নিজ গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। সমাজ-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের কাছেও সে অবহেলিত হয়েছে। সে স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সেতুর সঙ্গে 'সুভা' গল্পে সুভার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো অসহযোগিতা।
সুভা সেতুর মতো অনুকূল পরিবেশ পেলে তার জীবন আনন্দ ও সাফল্যে ভরে উঠত, তাই "সুভা যদি সেতুর মতো অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে তার জীবন এমন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠত না" মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পের সুভা একজন হতভাগ্য বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। তাই সে ছিল পিতামাতার হৃদয়ভার। সে কথা বলতে পারত না বলে তার সামনেই সবাই এমনভাবে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত যে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপম্বরূপ বিবেচনা করে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে চাইত। এমনকি তার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত ছিলেন। অথচ তার প্রয়োজন ছিল একটু সহযোগিতাপূর্ণ ভালোবাসা।
উদ্দীপকের সেতু টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিকলাঙ্গ এক কিশোরী। এই প্রতিবন্ধিতা তার জীবনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। সকলের সহযোগিতার ফলে অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার জন্যই সেতু 'এ' প্লাস পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও অনুকূল পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। তাই তার জীবন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠেছে।
'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুতা তার মা, আত্মীয়স্বজন থেকে কোনো ধরনের মানসিক সহায়তা ও সহানভূতি পায়নি। বরং মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেছেন। সুভা যদি সবার সহানুভূতি পেত, জীবনযাপনে উৎসাহ লাভ করত, সমাজ তাকে যদি ভৎসনা না করত, প্রতাপ যদি তার মর্ম বুঝত, তাহলে তাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না। তাই বলা যায়, সুভা যদি সেতুর মতো অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে তার জীবন এমন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠত না। মন্তব্যটি যথার্থ।
