| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শান্তর রক্তের গ্রুপ…’ ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শান্তর রক্তের গ্রুপ কিন্তু তার বাবা ও মায়ের রক্তের গ্রুপ A এবং BI এছাড়া শান্ত স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন এবং তার ভাই বর্ণান্ধ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
সূদূর অতীতে বিলুপ্তপ্রাপ্ত প্রাণী যাদের নিদর্শন কেবল জীবাশ্মে পাওয়া যায় তাদের সাথে বর্তমানে জীবিত কোনো প্রজাতির প্রাণীর সাদৃশ্য বা মিল থাকলে উক্ত প্রজাতিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিডিং ফসিল বলে।
যখন কোনো প্রাণী ভিন্ন ভিন্ন দুটি শ্রেণির বৈশিষ্ট্য বহন করে তখন তাদেরকে সংযোগকারী প্রাণী বলা হয়। আবার, এদেরকে জীবন্ত জীবাশ্মও বলা হয়। আর্কিওপটেরিক্স এ ধরনের একটি জীবাশ্ম। এতে রয়েছে পাখি এবং সরিসৃপ উভয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য। সে কারণে আর্কিওপটেরিক্সকে সরিসৃপ থেকে পাখি উদ্ভবের এক পর্যায় বা সংযোগকারী যোগসূত্র বলে মনে করা হয়। তাই আর্কিওপটেরিক্সকে সংযোগকারী প্রাণী বলা হয়।
উদ্দীপকের শান্তর পিতা-মাতার রক্তগ্রুপ যথাক্রমে 'A' ও 'B' এবং তার - রক্তগ্রুপ 'O'। নিচে তার এই রক্তগ্রুপের জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-বিজ্ঞানী বার্ণস্টেইন প্রমাণ করেন যে, মানুষের রক্তগ্রুপ নিয়ন্ত্রণকারী তিনটি অ্যালিল রয়েছে। যথা- । একজন মানুষের একটি দেহকোষে উক্ত জিনের যেকোনো দুটি অ্যালিল থাকে। অ্যালিল দুটি লোহিত কণিকায় যথাক্রমে অ্যান্টিজেন-A ও অ্যান্টিজেন-B সৃষ্টির জন্য দায়ী। অপরদিকে অ্যালিল কোনো অ্যান্টিজেন সৃষ্টি করে না এবং অপর দুইটি অ্যালিলের সাপেক্ষে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে। উদ্দীপকে রহিম সাহেবের পিতা ও মাতার রক্তগ্রুপ যথাক্রমে 'A' ও ''B'। যেহেতু জিনতত্ত্বের নিয়মানুসারে পিতার বৈশিষ্ট্য কন্যায় এবং মাতার বৈশিষ্ট্য পুত্রের মধ্যে সঞ্চারিত হয়, তাই শান্তর রক্তগ্রুপ 'O' হওয়ার জন্য তার পিতা-মাতার অ্যালিলযুগল বিশুদ্ধ হওয়া অসম্ভব। অর্থাৎ, পিতার অ্যালিলের জিনোটাইপিক বিন্যাস ও মাতার অ্যালিলের জিনোটাইপিক বিন্যাস । এক্ষেত্রে শান্তর জন্মের সময় তার পিতা ও মাতার রক্তে বিদ্যমান প্রচ্ছন্ন অ্যালিল দুটি সঞ্চারিত হয়ে অ্যালিল গঠন করে।
অর্থাৎ, সংকর অ্যালিলযুক্ত রক্তগ্রুপের পিতামাতা হতে ২৫% সন্তান 'O' রক্তগ্রুপের হয়ে থাকে যা শান্তর রক্তগ্রুপের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
উদ্দীপকের শান্ত স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন হলেও তার ভাই লাল সবুজের পার্থক্য করতে পারে না। অর্থাৎ শান্তর ভাই বর্ণান্ধ। নিচে শান্ত এবং তার ভাইয়ের ভিন্ন রঙের দৃষ্টিভঙ্গির কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
যখন পিতামাতার মধ্যে পিতা স্বাভাবিক দৃষ্টি ও মাতা বর্ণান্ধতার জিন বহন করে তখন ৫০% পুত্র সন্তান অর্থাৎ দুইজন ছেলের একজন স্বাভাবিক ও অন্যজন বর্ণান্ধ হিসেবে জন্মগ্রহণ করে পুরুষের X ক্রোমোসোমে বর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী প্রচ্ছন্ন জিন থাকলে পুরুষ বর্ণান্ধ হয়, কারণ Y ক্রোমোসোমে এর প্রকট অ্যালিল অনুস্থিত। অপরদিকে, স্ত্রীর ক্ষেত্রে যদি দুটি X ক্রোমোসোমেই প্রচ্ছন্ন জিন থাকে তাহলে স্ত্রী বর্ণান্ধ হয়। কিন্তু যদি একটি ক্রোমোসোমে প্রচ্ছন্ন জিন থাকে, তাহলে স্ত্রী স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন কিন্তু বাহক হয়।
ধরি,
স্বাভাবিক দৃষ্টির জিন = X
বর্ণান্ধতার জিন =
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, পিতা স্বাভাবিক দৃষ্টি ও মাতা বর্ণান্ধতা জিন বহন করে বলে শান্ত ও তার ভাই যথাক্রমে স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন ও বর্ণান্ধ হয়।