ষাটোর্ধ আদনান, আফনান এবং রেদোয়ান সাহেব নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গেলে রক্তের রিপোর্টে নিম্নরূপ : ফলাফল দেখা যায় :
(i) আদনান সাহেবের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি।
(ii) আফনান সাহেবের রক্তে LDL এর মাত্রা বেশি।
(iii) রেদোয়ান সাহেবের রক্তে শ্বেতকণিকার মাত্রা বেশি।
নিউরিলেমা: অ্যাক্সনের চারদিকে যে পাতলা আবরণ থাকে তাকে নিউরিলেমা বলে।
উদ্ভিদের যে সকল হরমোনগুলোকে এখনো আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি তাদের পস্টুলেটেড হরমোন বলে। এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন ও ভার্নালিন প্রধান। এ কারণে ভার্নালিনকে পস্টুলেটেড হরমোন বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আফনান সাহেবের রক্তে LDL বৃদ্ধি পেয়েছে। LDL কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয় কারণ এর উচ্চ মাত্রা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। LDL রক্তে বৃদ্ধি পেলে যে ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে তা নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
কোলেস্টেরল রক্তনালীর ভেতরের দেওয়ালে জমা হয়ে প্লাক তৈরি করে - যা রক্তনালিকে সরু ও শক্ত করে তোলে। ধমনিগাত্রে চর্বি জমা হওয়ার কারণে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটে ফলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং খাদ্যসার না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার কারণে বুকে ব্যথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে অ্যানজিনা বলে। ধমনির গায়ে বেশি চর্বি জমা হয়ে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় ফলে করোনারি হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এছাড়াও রক্তনালিতে চর্বি জমে সরু হয়ে গেলে রক্ত পাম্প করার জন্য বেশি চাপ দিতে হয় ফলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে এবং চর্বি জমে বন্ধ হয়ে গেলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আদনান সাহেবের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি, যা ডায়াবেটিস নির্দেশ করে। রেদোয়ান সাহেবের রক্তে শ্বেত কণিকার মাত্রা বেশি, যা সাধারণত সংক্রমণ বা লিউকেমিয়া (রক্তের ক্যান্সার) এর মতো গুরুতর রোগ নির্দেশ করে। এই দুটি পরিস্থিতির মধ্যে রেদোয়ান সাহেবের শ্বেত কণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ। নিম্নে মতামত দেওয়া হলো-
ডায়াবেটিস (আদনান সাহেব): রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি হলে তাৎক্ষণিকভাবে জীবন বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, যদি না এটি মারাত্মকভাবে অনিয়ন্ত্রিত হয়। ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ঔষধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস দীর্ঘমেয়াদে কিডনির সমস্যা, হৃদরোগ, স্ট্রোক, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
শ্বেত কণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (রোদেয়ান সাহেব): শ্বেত কণিকার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হওয়া একটি গুরুতর অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। শরীরের কোনো স্থানে গুরুতর সংক্রমণ হলে শ্বেত কণিকার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি প্রতিক্রিয়া। শ্বেত কণিকার অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি প্রায়শই লিউকেমিয়ার (রক্তের ক্যান্সার) লক্ষণ। লিউকেমিয়া একটি প্রাণঘাতী রোগ, যা দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এই রোগে অস্থিমজ্জায় অস্বাভাবিক শ্বেত কণিকা উৎপন্ন। হয়, যা স্বাভাবিক রক্ত কোষের উৎপাদনকে বাধা গ্রস্ত করে।
যদিও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা সৃষ্টি করে তবুও রক্তে শ্বেত কণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি জীবন-হুমকির কারণ হতে পারে। তাই রেদোয়ান সাহেবের অবস্থা আদনান সাহেবের অবস্থার চেয়ে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ।
