| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ষাটোর্ধ বয়সী ‘S’-এর…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

ষাটোর্ধ বয়সী ‘S’-এর পছন্দনীয় খাবার চর্বিযুক্ত মাংস। প্যাথোলজিক্যাল পর্যবেক্ষণ শেষে ডাক্তার তাকে শারীরিক সমস্যার কারণে চর্বিযুক্ত মাংস পরিহার করার পাশাপাশি শর্করাজাতীয় খাদ্য পরিমিত গ্রহণ করার পরামর্শ দিলেন। তিনি আরও বললেন- “খাদ্য পরিপাকে শুধুমাত্র এনজাইম নয় বরং হরমোনও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষির দর্শনের গঠন ও কার্যকরী এককই হলো ওমাটিডিয়াম।
যকৃতে বিভিন্ন ধরনের জৈবরাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে যা দেহের বিপাক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন- শর্করা বিপাক, ফ্যাট বিপাক, প্রোটিন বিপাক, ইউরিয়া প্রস্তুতি, রক্তের প্রোটিন তৈরি, রক্ত জমাট বাঁধানোর উপাদান প্রস্তুতি, চর্বির অসম্পৃক্তকরণ, লোহিত কণিকার গঠন ও ভাঙন ইত্যাদি। এছাড়া হরমোনের ভাঙন, তাপোৎপাদন, ভিটামিন সংশ্লেষ, পিত্ত উৎপাদন ইত্যাদি বহুবিধ বিক্রিয়াসমূহ যকৃতে ঘটে থাকে। এজন্যই যকৃতকে জৈব রসায়নাগার বলা হয়।
উদ্দীপকে ডাক্তার শর্করাজাতীয় খাদ্য পরিমিত গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
পৌষ্টিকনালির অন্যতম অংশ ক্ষুদ্রান্তে শর্করাজাতীয় খাদ্য পরিপাক হয় মূলত অগ্ন্যাশয় রস ও আন্ত্রিক রসের এনজাইমের প্রভাবে। এসব এনজাইমসমূহ নিম্নরূপে পরিপাকে ভূমিকা রাখে:
i. অ্যামাইলেজ এনজাইম স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন জাতীয় জটিল শর্করাকে ভেজো মল্টোজে পরিণত করে।
ii. মল্টেজ এনজাইম মল্টোজ জাতীয় শর্করাকে গ্লুকোজে পরিণত করে।
iii. আইসোমল্টেজ এনজাইম আইসোমল্টোজ জাতীয় শর্করাকে আদ্রবিশিষ্ট করে মল্টোজ ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
iv. সুক্রেজ এনজাইম সুক্রোজ নামক ডাইস্যাকারাইডকে ভেঙে এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু ফ্রুক্টোজ তৈরি করে।
V. ল্যাকটেজ দুধের ল্যাকটোজ নামক ডাইস্যাকারাইডকে ভেঙে এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু গ্যালাকটোজ উৎপন্ন করে।
এভাবেই ক্ষুদ্রান্তে এনজাইমসমূহের ক্রিয়ায় জটিল শর্করা শোষণ উপযোগী সরল উপাদানে বিশ্লিষ্ট হয়।
উদ্দীপকে ডাক্তার শেষোক্ত উক্তির মাধ্যমে মানুষের খাদ্য পরিপাকে এনজাইমের পাশাপাশি হরমোনের বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।
খাদ্য পরিপাকে নানা ধরনের এনজাইম ভূমিকা রাখলেও এসব এনজাইমকে নিঃসৃত হতে উদ্দীপনা যোগায় এবং নিঃসরণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন ধরনের হরমোন। নিচে পরিপাকে হরমোনসমূহের ভূমিকা উল্লেখ করা হলো-
i. গ্যাস্ট্রিন: পাকস্থলির প্রাচীর হতে গ্যাস্ট্রিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়ে পাকস্থলিতে গ্যাস্ট্রিক রস ও HCI ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
ii. সিক্রেটিন: অন্ত্রের প্রাচীর থেকে নিঃসৃত সিক্রেটিন হরমোন এর প্রভাবে অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরিত হয়। এছাড়া এটি রক্ত দ্বারা বাহিত হয়ে পাকস্থলির প্রাচীরকে পেপসিন এনজাইম এবং যকৃতকে পিত্তরস ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
iii . কোলেসিস্টোকাইনিন: ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর হতে কোলেসিস্টোকাইনিন হরমোন ক্ষরিত হয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণে উদ্দীপনা যোগায়। এছাড়া এটি পিত্তথলি থেকে পিত্তরস বের হতে উদ্দীপনা প্রদান করে।
iv. এন্টেরোকাইনিন: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে ক্ষরিত এন্টেরোকাইনিন হরমোনের প্রভাবে ইলিয়ামের প্রাচীরে বিদ্যমান আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে মন্টেজ, সুক্রেজ, ইনভারটেজ ও ল্যাকটেজ এনজাইম নিঃসৃত হয়।
V. পেপটাইড YY: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে অন্ত্রের ভেতর দিয়ে ধীর গতিতে খাদ্য প্রবাহিত হয়, যাতে দক্ষতার সাথে খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ সম্পন্ন হয়।
vi. গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পেপটাইড: ডিউডেনামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এটি পাকস্থলি থেকে খাদ্য অন্ত্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
কাজেই উদ্দীপকে ডাক্তার সাহেব যথার্থই বলেছেন যে, খাদ্য পরিপাকে শুধু এনজাইম নয় বরং হরমোনও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।