| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শ্বসনের দুটি প্রক্রিয়ার…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৪ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

শ্বসনের দুটি প্রক্রিয়ার মধ্যে একটিতে অক্সিজোন গৃহীত হয় ও প্রচুর শক্তি তৈরি হয় এবং অন্যটিতে অক্সিজেন প্রয়োজন হয় না ও ইথানল তৈরি হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
ক্লোরোফিল অণুসমূহ, সাথী অ্যান্টেনা পিগমেন্ট অণুসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রন গ্রহীতাসমূহ একসাথে একটি ইউনিট হিসেবে অবস্থান করে ও কাজ করে। এই ইউনিটকে ফটোসিস্টেম বলে।
মাইটোসিসের মেটাফেজ ও অ্যনাফেজের মধ্যে দুটি পার্থক্য:
|
মেটাফেজ |
অ্যানাফেজ |
|
এ পর্যায়ে ক্রোমাটিডগুলো সবচেয়ে বেশি মোটা, খাটো ও স্পষ্ট দেখা যায়। |
ক্রোমোসোমগুলো ইংরেজি V (মেটাসেন্ট্রিক), L (সাবমেটাসেন্ট্রিক), ১ (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) ও। (টেলোসেন্ট্রিক) অক্ষরের মতো দেখায়। |
|
মেটাফেজ পর্যায়ের শেষ ভাগে প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার সম্পূর্ণ বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য সেন্ট্রোমিয়ার সৃষ্টি করে। |
এ পর্যায়ে অপত্য ক্রোমোসোমসমূহ বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরুমুখী চলতে শুরু করে। |
উদ্দীপকে গ্লাকোলাইসিস প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। নিচে প্রবাহ চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো:
শিল্পক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্বসন প্রক্রিয়া অর্থাৎ অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অনেক। কোষের বাইরে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে জাইমেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে গ্লুকোজ অণু অসম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে ইথানল (অ্যালকোহল) বা ল্যাকটিক অ্যাসিড সৃষ্টি ও অল্প পরিমাণ শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ফার্মেন্টেশন বা গাঁজন বলে।
বিভিন্ন শিল্পে অবাত শ্বসন তথা ফার্মেন্টেশনের ব্যবহার: বিভিন্ন অণুজীবের অবাত শ্বসন প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক শিল্প। নিচে সংক্ষেপে এর কয়েকটি উপস্থাপন করা হলো।
(i) বেকারি শিল্পে:
ঈস্টের ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়াকে এই শিল্পে কাজে লাগানো হয়। ময়দা-চিনির সাথে ঈস্ট যোগ করে পাউরুটি তৈরি করা হয়। ময়দা-চিনি ইত্যাদি উপকরণের সাথে মিশ্রিত ঈস্টের অবাত শ্বসনের ফলে সৃষ্টি হয় CO₂ এবং ইথাইল অ্যালকোহল। CO₂ গ্যাস-এর চাপে পাউরুটি ফুলে ফাঁপা হয়; আর অ্যালকোহল তাপে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।
(ii) মদ্য শিল্পে:
ঈস্টের অবাত শ্বসন তথা ফার্মেন্টেশনকে কাজে লাগিয়ে মদ তৈরি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আঙ্গুরের রস থেকে ওয়াইন এবং আপেলের রস থেকে সিডার প্রস্তুত করা হয়।
iii) আলকোহল প্রস্তুতে:
শর্করার সাথে ঈস্টের ফার্মেন্টেশন বিক্রিয়ায় ইথাইল অ্যালকোহল তৈরি হয়। দর্শনা চিনি কলে চিটাগুড় (molasses) থেকে এই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল তৈরি করা হয়। একই প্রক্রিয়ায় বিউটানল, প্রপানল ইত্যাদিও প্রস্তুত করা হয়।
iv) দুধ শিল্পে:
দুধের সাথে Lactobacillus helveticus, Streptococcus lactis ইত্যাদি ব্যাক্টেরিয়া মিশিয়ে ৩-৫ ঘণ্টার মধ্যে (7-38°C) তাপমাত্রায় দই তৈরি করা হয়। এটিও ব্যাক্টেরিয়ার অবাত শ্বসনের ফল। পনির ও মাখন তৈরিতেও
একই প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।
v) আয়ুর্বেদিক ওষুধ শিল্পে:
অনেক আয়ুর্বেদ ওষুধ তৈরিতে বিভিন্ন ড্রাগের মিশ্রণের সাথে চিটাগুড় দিয়ে পাত্র ঢেকে দেয়া হয় (এমনকি মাটির নিচে বেশ কিছুদিন রাখা হয়)। এতে চিটাগুড় থেকে অ্যালকোহল তৈরি হয় যাতে বিভিন্ন ড্রাগের ওষুধিগুণ অ্যালকোহল কর্তৃক শোষিত হয়।
(vi) চা, তামাক ও কফি প্রক্রিয়াজাতকরণে:
Bacillus megatherium নামক ব্যাক্টেরিয়া, চা ও তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণে ফার্মেন্টেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় এবং ফলে সবুজপাতা তাম্র বর্ণ প্রাপ্ত হয় এবং সুগন্ধযুক্ত হয়। কফি শিল্পেও এর প্রয়োগ আছে।
vii) মাংস ও মাছ শিল্পে:
বিভিন্ন ঈস্ট ও কতিপয় ছত্রাক (Penicillium, Aspergillus), ব্যাক্টেরিয়া (Pedicoccus cerevisiae, Bacillus sp.) ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত হচ্ছে মাংসজাত দ্রব্য, যেমন- দক্ষিন আমেরিকায় কিউরেডহ্যাম (Curedham), মাছ হতে তৈরি জাপানে কাতসুবুশি (Katsuobushi) প্রভৃতি।
(viii) ভিটামিন তৈরিতে:
থিয়ামিন ও রিবোফ্ল্যাবিন নামক ভিটামিন B₁ ও B₂ এই প্রক্রিয়ায় ঈস্টের সাহায্যে তৈরি করা হয়।