| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শীতকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯ – প্রাণীর আচরণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শীতকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিযায়ী পাখি দেখতে গিয়ে নাফিস সেখানে গাছের ডালে কিছু মৌমাছিও দেখতে পেল যারা বিশেষ ধরনের বাসায় বসবাস করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১২
যখন কোন প্রাণী তার চলার পথে স্পর্শ ইন্দ্রিয় দ্বারা নামান্তরে অনুপ্রাণিত হয় তখন তাকে থিগমোট্যাক্সিস বলে।
কিছু প্রাণীর জননগত আচরণে মোটিভেশন উপাদান জড়িত থাকে। যেমন -অনেক প্রজাতির স্ত্রী সদস্য বছরের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া অন্য সময় জনন অংশ নেয় না। এ সময়কালটির প্রাণীদেহে রজঃচক্রের সাথে জড়িত থাকে। তখন নিষেক, গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদান ওই প্রাণীর জন্য নিরাপদ ও অনুকল। এ আচরণগত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তুই বনিক ছন্দ বা বায়োলজিক্যাল রিদম। অনেক প্রজাতির স্ত্রী ও পুরুষ সরদস্যদের ছন্দ মিলে যায়। অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাত্রায় মটিভেশন প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত পরিযায়ী পাখিরা খাদ্য ও নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হল:
বাংলাদেশের প্রধানত শীতকালে পরিযায়ি পাখির আগমনে মুখরিত থাকে। সারা বছরই পরিযায়ি পাখির আনাগোনা অব্যহত থাকে। পাখি দেশের পাখি হতে পারে, বিদেশে পাখিও হতে পারে, ও মাইকাল ভেদে এগুলো গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন পাখি নামে পরিচিত। কিছু পাখি আছে যা অন্য দেশে যাওয়ার আগে দু একদিন বাংলাদেশে অবস্থান করার পর নির্দিষ্ট দেশে উড়াল দেয়। এসব পাখি ট্রান্সিয়েট পরিযায়ীবাংলাদেশের যেসব বিদেশি পাখি পরিযায়ি হয় তার বেশিরভাগ আসে হিমালয় ও বাইরে থেকে। অনেক প্রজাতির আগমন ঘটে ইউরোপ ও দূরপ্রাচ্য থেকে। অর্থাৎ ইউরেশিয়া থেকে দক্ষিণ, দক্ষিণপূর্ব ও পূর্ব এশিয়ায় শীতে পাখি পরিযায়ী হয়। শরৎ ও বসন্তকালে কিছু পাখির যাতায়াত চোখে পড়ে। অনেক বিদেশী পরিযায়ী পাখি রয়েছে যা স্বদেশে বিপণ্য বা অতি বিপন্ন হয়ে আছে এমন পাখিও বাংলাদেশের এসে কিছুদিনের জন্য হলেও স্বচ্ছন্দে কাটিয়ে যায়। সমস্ত হাওর এলাকা পরিযায়ী পাখির জন্য সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে, আইনের বিশেষ বিধান করে এগুলো সুরক্ষার ও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রাণীটি হলো মৌমাছি। নিচে মৌমাছির সামাজিক জীবন বিশ্লেষণ করা হলো:
মৌমাছি সামাজিক জীব। এরা কলোনি বা মৌচাক তৈরি করে বসবাস করে। প্রতিটি মৌচাকে তিন ধরনের মৌমাছি থাকে। এরা হলো ১. রানী মৌমাছি, ২.পুরুষ মৌমাছি, ৩.কর্মী মৌমাছি।
এরা সবাই রানী মৌমাছির সংকেত মোতাবেক কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে কর্মী মৌমাছিরা প্রজননে অক্ষম। স্ত্রী মৌমাছির যত্ন, কলোনির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করে। এদের স্বাধীন সত্তা বলতে কিছু নেই। জন্মের পর থেকে এরা কলোনির জন্য পরিশ্রম করে যায় এমনকি তারা বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ থেকে কলনির সদস্যদের বাঁচাতে নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। মৌমাছির মাতৃতান্ত্রিক সমাজের মধ্যমণি হিসেবে কলোনির পরিচালনা ও প্রজননে অংশগ্রহণ করে। অপরপক্ষে, পুরুষ মৌমাছির একমাত্র কাজ রানী মৌমাছির সঙ্গে মিলিত হওয়া। এ ক্ষেত্রে এক একটি জাত নির্দিষ্ট কর্মে নিয়োজিত থেকে পারস্পরিক কাজে একে অপরকে সাহায্য করে। ফলে এদের মধ্যে যেমন কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায় তেমনি সফলদের সাথে এটি থাকতে সক্ষম হয়।