| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শেক্সপিয়রের নাটক ‘ম্যাকবেথে’…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

শেক্সপিয়রের নাটক ‘ম্যাকবেথে’ রাজা ডানকানকে সেনাপতি ম্যাকবেথ নিমন্ত্রণ করেন। ভোজশেষে রাজা ঘুমাতে গেলে লেডি ম্যাকবেথের প্ররোচনায় নিজে রাজা হওয়ার আশায় ডানকানকে হত্যা করেন ম্যাকবেথ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
১০,০০০ (দশ হাজার) টাকার বিনিময়ে মোহাম্মদি বেগ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে।
"দওলত আমার কাছে ভগবানের দাদামশায়ের চেয়েও বড়। - উক্তিটি দ্বারা উমিচাদের অর্থলোভী মানসিকতা নির্দেশ করা হয়েছে। উমিষ্টাদের ভাষ্যমতে, তিনি দওলতের পূজারি। অর্থের জন্য তিনি যেকোনো জঘন্য কাজই করতে পারেন। অর্থ তার কাছে ঈশ্বরের থেকেও বড়। অর্থের লোভ তাকে এমনই হীন মানুষে পরিণত করেছে। অর্থের লোভে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরোধিতা করতেও তার বাঁধেনি।
উদ্দীপকের ম্যাকবেথ ও লেডি ম্যাকবেথ চরিত্র দুটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম এবং মীরজাফর এর চরিত্রের সঙ্গে মিলে।
ক্ষমতার লোভ মানুষকে অমানুষে পরিণত কর। ক্ষমতালোভীরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই। এজন্য তারা জঘন্য কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। বিশ্বাসঘাতকতা তাদের চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম ক্ষমতার লোভে সিরাজউদ্দৌলার পতন কামনা করেছিলেন। সিরাজউদ্দৌলা সেনাপতি হোসেন কুলি খাঁকে ঘসেটি বেগমের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে হত্যা করলে তিনি নানান কৌশলে নবাব সিরাজের বিশ্বাসঘাতক অমাত্য ও ইংরেজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলেন।বাংলার নবাবের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর মসনদ দখলের লোভে ভিনদেশি ইংরেজ শক্তির সঙ্গে গোপন আঁতাত করে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তাই বলা যায়, আপন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া উদ্দীপকে বর্ণিত চরিত্রে সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর ও ঘসেটি বেগম চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
"অর্থ, ক্ষমতা ও স্বার্থ'-এ তিনই 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ষড়যন্ত্র, হত্যা ও হঠকারিতার জনক।
এই পৃথিবীতে সব মানুষেরই কাম্য বস্তু অর্থ-সম্পদ। কেউ তা পরিশ্রম করে অর্জন করে, আবার কেউ অসৎ উপায়ে অল্প সময়ে বিদ পরিশ্রমে অর্জন করে। স্বার্থের দিকে তাকিয়ে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে দেখা যায় স্বার্থের কারণে মানুষ রক্তের সম্পর্কের আপনজনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের হত্যা করেছে। যা অত্যন্ত ঘৃণিত ও নিন্দিত কাজ।
স্বার্থপর মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। অর্থ-সম্পদ ও ক্ষমতার লোভ তাদের অন্ধ করে দেয়। ফলে তারা একের পর এব বিশ্বাসঘাতকতার দিক অন্যায় করে যায়। এমনকি আপন-পর ভেদাভেদও ভুলে যায়।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকে দেখা যায় নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তাঁর আত্মীয়-পরিজন এবং অমাত্যবর্গ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কীভাবে নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করা যায় এবং নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করা যায় সেই ভাবনা নিয়ে সবাই একাট্টা। তারা প্রত্যেকে দেশরক্ষার শপথ করলেও নবাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এই সুযোগ গ্রহণ করে ইংরেজরা। তারা নবাবকে আক্রমণ করার সুযোগ খোঁজে। এবং পরবর্তীতে তারই আপন মানুষ মোহাম্মদী বেগের হাতে তার মৃত্যু ঘটে।
সুতরাং বলা যায় অর্থ সম্পদ লোভ লালসা বিশ্বাসঘাতকতা এবং আপন মানুষের প্রতি ষড়যন্ত্রই ছিল একমাত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের কারণ।