A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘শফিক ঢাকায় একটি…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪ – রানার, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: চট্টগ্রাম বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

শফিক ঢাকায় একটি কোম্পানিতে নাইটগার্ডের চাকরি করে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তার ডিউটি। সারা রাত কোম্পানির মালামালের পাহাড়াদারীর গুরুদায়িত্ব সে বিশ্বস্ততার সাথে পালন করে। ছয় মাস পরপর সে ছুটিতে বাড়ি আসে। এ দিকে তার স্ত্রী-সন্তানেরা তার পথ চেয়ে বসে থাকে। কবে সে ফিরবে। স্বামীর কথা ভাবতে ভাবতে তার স্ত্রীর কতো নির্ঘুম রাত কাটে।

উত্তর:

অবাক রাতের তারারা মিটিমিটি করে চায়।

উত্তর:

রানারের অসামান্য ত্যাগ ও শ্রমনিষ্ঠার বিনিময়ে সামান্য বেতন পাওয়ার বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

রানার ডাক পৌছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারী। এ কাজ করতে গিয়ে ব্যাপক পরিশ্রমের পাশাপাশি তাকে যথেষ্ট সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হয়। তা সত্ত্বেও রানারের পারিশ্রমিক খুবই নগণ্য। রাতের ঘুম বিসর্জন দিয়ে সে যা পায় তাতে তার সংসার চলে না। আলোচ্য চরণটিতে রানারের অসামান্য ত্যাগ ও শ্রমনিষ্ঠার বিপরীতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার এই সামান্য প্রাপ্তির বিষয়টিকেই বোঝানো হয়েছে।

উত্তর:

উদ্দীপকের শফিকের স্ত্রীর মাঝে ‘রানার’ কবিতার স্বামীর চিন্তায় রানারের স্ত্রীর বিনিদ্র রাত্রিযাপনের দিকটি ফুটে উঠেছে।

‘রানার’ কবিতার রানার একজন দায়িত্বশীল ও কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মী। সময়মতো ডাক পৌঁছে দেওয়ার গুরুভার তার কাঁধে। এ কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য সকল বাঁধাকে উপেক্ষা করে তাকে রাত-বিরাতে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটতে হয়। এ কারণে নানা আশংকায় রানারের স্ত্রী বিনিদ্র রাত জাগে।

উদ্দীপকের শফিক নাইটগার্ড হিসেবে একটি কোম্পানিতে কর্মরত। সংগত কারণেই সারারাত ধরে তাকে দায়িত্বের সঙ্গে কর্তব্য পালন করতে হয়। দায়িত্বের কারণে সব সময় বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয় না তার। এ কারণে শফিকের কথা ভাবতে ভাবতে তার স্ত্রী প্রায়শই বিনিদ্র রাত্রিযাপন করে। একইভাবে, ‘রানার’ কবিতার রানারও একজন দায়িত্বশীল কর্মী। ঠিক সময়ে যথাযথভাবে ডাক পৌছাতে গিয়ে পথের বাঁধাকে উপেক্ষা করে রাতভর তাকে ছুটতে হয়। এ সময় পথে নানা বিপদের আশংকা থাকে। রানারের স্ত্রী তাই স্বামীর অনুপস্থিতি, পথের বিপদসহ নানা দুর্ভাবনায় নির্ঘুম রাত কাটায়। এ বিবেচনায়, উদ্দীপকের শফিকের স্ত্রীর মাঝে ‘রানার’ কবিতার স্বামীর চিন্তায় রানারের স্ত্রীর বিনিদ্র রাত্রিযাপনের দিকটিই ফুটে উঠেছে।

উত্তর:

"উদ্দীপকের শফিক ‘রানার’ কবিতার রানারের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ বলেই আমি মনে করি।

‘রানার’ কবিতায় কবি রানারকে উপস্থাপন করেছেন শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে। অত্যন্ত দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সাথে সে নিজের কাজ করে যায়। তবুও সেই শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পায় না সে। সময়মতো ডাক পৌঁছে দিয়ে সকলের মুখে হাসি ফোটালেও তার দুঃখের খবর রাখে না কেউ-ই। ফলে অশেষ মনোযাতনা নিয়ে তাকে দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়।

উদ্দীপকে শফিক নামের এক নাইটগার্ডের কথা বলা হয়েছে। কোম্পানির জানমালের পাহাড়া দেওয়াই তার কাজ। দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার গুণে সে আজ কোম্পানির ভরসার পাত্রে পরিণত হয়েছে। তবে এ কাজ করতে গিয়ে তাকে বিনিদ্র রাত কাটাতে হয়। শুধু তাই নয়, যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পর্যাপ্ত ছুটিও পায় না সে। ফলে তার স্ত্রী-সন্তানরা তার বাড়ি ফেরার আশায় পথ চেয়ে থাকে। শফিকের মাঝে ফুটে ওঠা এই দায়িত্বশীলতার দিকটি আলোচ্য কবিতার রানারের মাঝেও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।

‘রানার’ কবিতায় রানার চরিত্রের মধ্য দিয়ে কবি শ্রমজীবীদের অন্তর্যাতনার দিকটি মমত্বের সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। সারারাত জেগে দায়িত্ব পালন করলেও সেই শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পায় না সে। ফলে ঘরে তার অভাব লেগেই থাকে। তা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত দুঃখ-বেদনাকে বুকে চেপে রেখে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যায় সে। উদ্দীপকের শফিকের মাঝে রানারের এমন দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার প্রতিফলন থাকলেও তার দুঃখ-দারিদ্রের দিকটি সেখানে অনুপস্থিত। তাছাড়া আলোচ্য কবিতাটিতে কবি রানারের মাধ্যমে সকল শ্রমজীবীদের দুঃখের অবসান কামনা করেছেন, যা উদ্দীপকের শফিকের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় না। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘শফিক ঢাকায় একটি…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪ – রানার, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”