| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শফিক সাহেব, ছোট…’ সরকারি সিটি কলেজ ২০২৫ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

শফিক সাহেব, ছোট ভাই রফিককে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেন। কিন্তু লোভী রফিক জাল দলিল করে পৈতৃক সম্পত্তির কিছু অংশ নিজের নামে করে নেয়। এতে দু’ভাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। একদিন রফিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে শফিক সাহেব সব ভুলে হাসপাতালে ছুটে যান এবং ভাইয়ের চিকিৎসায় সাধ্যমতো সাহায্য করলেন। রফিক অনুতপ্ত হয়ে ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাইল। আবার দু’ভাইয়ের মিলন হলো। অবসান হলো পারিবারিক দ্বন্দ্বের।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
. কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
• "যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ,/আমি দেই তারে বুকভরা গান" বলতে কবি হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা পরার্থে নিবেদন করাকে বুঝিয়েছেন।
• 'প্রতিদান' কবিতায় ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্যের জন্য নিজেকে নিবেদন করার কথা বলা হয়েছে। এখানে প্রতিকূল অবস্থাতেও কবি মানবের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে চেয়েছেন। মানুষের কাছ
থেকে আঘাত পেয়েও মানুষকে বুকে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছেন। কেউ যদি কবিকে বিষে-ভরা বাণ দেয় কবি তাকে বুকভরা গান তথা তাকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসা দেবেন। প্রশ্নোক্ত চরণদ্বয়ে এ কথাই বলা হয়েছে।
• উদ্দীপকের শফিক সাহেবের আচরণের সাথে 'প্রতিদান'-কবিতার নিম্বার্থ, পরোপকারী ও ক্ষমাশীলতার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
• একটি সুখী, সুন্দর ও কল্যাণময় সমাজ প্রতিষ্ঠায় পরার্থপরতার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান সমাজে হিংসা, বিভেদ, হানাহানির মূল কারণই হলো পরার্থপরতার অভাব।
• উদ্দীপকের শফিক সাহেবের আচরণের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি একটি সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের পৃথিবী প্রত্যাশা করেছেন যেখানে মানুষে মানুষে হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একে অন্যের উপকার করবে। উদ্দীপকে দেখা যায়, শফিক সাহেব তার ছোট ভাইকে পড়ালেখা শিখিয়ে বড় করে তোলেন। কিন্তু তার ভাই রফিক লোভের বশবর্তী হয়ে পৈতৃক সম্পত্তির জাল দলিল করে শফিক সাহেবকে ঠকায়। শফিক সাহেব এতে কষ্ট পেলেও তার ভাই অসুস্থ হলে সব ভুলে ঠিকই হাসপাতালে দেখতে যান। সকল অপরাধ ভুলে গিয়ে ভাইকে বুকে জড়িয়ে নেন, যা 'প্রতিদান' কবিতায় কবির কাম্য ছিল। এদিক থেকে শফিক সাহেবের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
•'প্রতিদান' কবিতার কবির চাওয়ার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকে।
• পৃথিবীকে সুন্দর ও ভালোবাসাপূর্ণ করে গড়ে তোলার জন্য মানুষে মানুষে প্রীতিময় সম্পর্ক স্থাপন জরুরি। এর জন্য প্রয়োজন সহনশীল আচরণ, মানবিক মূল্যবোধ এবং পরার্থপরতা।
• উদ্দীপকের শফিক সাহেব একজন সৎ, ক্ষমাশীল ও পরোপকারী মানুষ। তিনি ছোট ভাইকে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও ত্যাগের মাধ্যমে মানুষ করেন। কিন্তু তার ভাই রফিক প্রতারণা করে তাকে ঠকায়। এতে দুই ভাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। রফিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ক্ষমাশীল শফিক সাহেব আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। সব ভুলে ভাইকে দেখতে ছুটে যান এবং তাদের মধ্যে আবার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। শফিক সাহেবের এই ক্ষমাশীল ও সহনশীল আচরণের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার মিল লক্ষ করা যায়।
• উদ্দীপকের শফিক সাহেবের আচরণ 'প্রতিদান' কবিতার কবির চাওয়ার সাথে আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি অসৎ মানুষের প্রতিদান কীভাবে দেওয়া যায় তা বুঝিয়েছেন। কবি দুঃখের সাথে ব্যক্ত করেন যে, যারা কবিকে দূরে ঠেলে দিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে, আঘাতে আঘাতে করেছে জর্জরিত তিনি তাদেরকেই আপন করতে ছুটে চলেন। সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ, হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হয়েও কবিকণ্ঠে প্রতিশোধের বদলে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা, যা উদ্দীপকে নেই। এসব বিবেচনায় দেখা যায়, উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।