| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিহাব ও সমিরের…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৯ – জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

শিহাব ও সমিরের বাবা পদ্মা নদীর ফেরি চালক। তারা প্রতিদিন যাত্রী পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় তারা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, পদ্মা সেতু হয়তো তাদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখবে না। কিন্তু শিহাব ও সমির টেলিভিশন দেখে জানতে পারে পদ্মা সেতুই দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা: ১ জনসমষ্টি, ২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, ৩. সরকার ও ৪. সার্বভৌমত্ব।
জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
জাতি বলতে বোঝায় এমন এক রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন জনসমাজ যারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিবাসী। অন্যদিকে, কোনো জনসমাজের মধ্যে যখন রাজনৈতিক চেতনার সঞ্চার হয় তখন তাকে জাতীয়তা বলে । অর্থাৎ জাতি গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সংগঠন থাকা অপরিহার্য, কিন্তু জাতীয়তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই। জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতা। কিন্তু জাতীয়তা গঠনে স্বাধীনতার প্রয়োজন নেই, বরং মানসিক ঐক্যানুভূতি, অভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতি ও ইতিহাস- ঐতিহ্য থাকা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে টেলিভিশনে প্রচারিত জনগণের মতামতকে জনমত হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাধারণ জনগণের মতামতকে জনমত বলে । কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে জনমত একটি স্বতন্ত্র অর্থ বহন করে। জনমত বলতে জনকল্যাণকর ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রধান প্রধান জাতীয় সমস্যার ওপর জনসাধারণের প্রভাবশালী অংশের মতামতকে বোঝায়।
জাতীয় সমস্যাবলির ওপর রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণির জনগণ বিভিন্ন মত পোষণ করতে পারে। কিন্তু সেটি জনমত বলে বিবেচিত হয় তখনই যখন তা হয় অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ন্যায়সঙ্গত। জনমত সচেতন ও যুক্তিভিত্তিক । জনমত শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়; সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য বিষয়েও গঠিত হতে পারে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, পদ্মা নদীর ফেরী চালক হিসেবে শিহাব ও সমিরের বাবা প্রতিদিন যাত্রী পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করেন । পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় তারা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, পদ্মা সেতু হয়তো তাদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখবে না। কিন্তু শিহাব ও সমির টেলিভিশন দেখে জানতে পারে, পদ্মা সেতুই দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্থাৎ টেলিভিশনের মাধ্যমে পদ্মা সেতু সম্পর্কে জনগণের প্রভাবশালী, ন্যায়সঙ্গত, সচেতন ও যুক্তিভিত্তিক মতামত প্রকাশিত হয়েছে যা জনমতের ধারণার অনূরূপ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে টেলিভিশনে প্রচারিত জনগণের মতামত হলো জনমত।
উদ্দীপকে পদ্মা সেতু নির্মাণে রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক উদ্দেশ্য ফুটে উঠেছে।
মানুষের প্রয়োজনেই রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। মানব জীবনের সামগ্রিক কল্যাণ সাধনই রাষ্ট্রের কাজ। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র প্রধানত দুই ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে। যথা: নিয়ন্ত্রণমূলক ও কল্যাণমূলক। এ দুই ধরনের ভূমিকার ভিত্তিতে আধুনিক রাষ্ট্রের কার্যাবলিকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা: অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি এবং কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কার্যাবলি। উদ্দীপকে বর্ণিত পদ্মা সেতু নির্মাণ রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে প্রত্যেক রাষ্ট্রই কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের দাবি করে। রাজনৈতিক তত্ত্ববিদরা একসময় ভাবতে শুরু করেন যে, রাষ্ট্রের ভূমিকা শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয় । রাষ্ট্রকে অবশ্যই সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে কল্যাণমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। জনকল্যাণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্রের এ কাজগুলো ঐচ্ছিক বা কল্যাণমূলক কাজ। রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক বা কল্যাণমূলক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো— রাষ্ট্রের জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলা, জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া সচল রাখা, শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতি। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে রাস্তাঘাট, সড়ক-রেলপথ নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, নৌ-চলাচল, বিমান যোগাযোগ স্থাপন ইত্যাদি ।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, সেতু নির্মাণ রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। তাই পদ্মা সেতু নির্মাণে রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যই প্রতিফলিত হয়েছে।