| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘শিক্ষাদানকালে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের…’ যশোর বোর্ড ২০২১ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

শিক্ষাদানকালে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বললেন খাদ্য পরিপাকে এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। তিনি আরও বললেন, “খাদ্য পরিপাকে শুধু এনজাইম নয় হরমোন এর ভ‚মিকা অপরিহার্য।।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
পৌষ্টিকতন্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব গ্রন্থি থেকে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক রস নিঃসৃত হয়ে খাদ্য পরিপাকে অংশগ্রহণ করে তাদের পৌষ্টিক গ্রন্থি বলে ।
আদর্শ দৈহিক ওজনের ২০% বা তারও বেশি পরিমাণ মেদ দেহে সঞ্চিত হলে তাকে স্থূলতা বলে। ব্যক্তি পর্যায়ে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, কিন্তু পর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম না করাকে স্থূলতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
প্রোটিন জাতীয় খাদ্য পরিপাকে এনজাইমের ভূমিকা নিম্নরূপ-
আমিষ পরিপাক : গ্যাস্ট্রিক জুসে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক (আমিষ বিশ্লেষী) এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক জুসের HCI-এর সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষের আর্দ্র বিশ্লেষণ ঘটিয়ে প্রোটিওজ ও পেপটোন-এ পরিণত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে।
১. আমিষ + পানি (পেপসিন) → প্রোটিওজ + পেপটোন
২. কেসিন (দুগ্ধ আমিষ) + পানি (রেনিন) → প্যারাকেসিন
৩. প্যারাকেসিন (পেপসিন)→ পেপটোন
ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক: অগ্ন্যাশয় রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, কার্বোক্সিপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইজে, ডাইপেপটাইডেজ, কোলাজিনেজ ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে। এরা আমিষ খাদ্যের উপর নিম্নরূপ ক্রিয়া করে আমিষ পরিপাক সম্পন্ন করে-
প্রোটিওজ ও পেপটোন (ট্রিপসিন / কাইমোট্রিপসিন) → পলিপেপটাইড
পলিপেপটাইড(কার্বোক্সিপেপ্টাইডেজ) → অ্যামিনো এসিড
ট্রাইপেপ্টাইড(ট্রাইপেপ্টাইডেজ) → অ্যামিনো এসিড
ডাইপেপটাইড (ডাইপেপ্টাইডেজ) অ্যামিনো এসিড
কোলাজেন(কোলাজিনেজ) → অ্যামিনো এসিড
এছাড়া আন্ত্রিক রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ইরেপসিন থাকে। এটি ডাইপেপটাইডকে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
ডাইপেপটাইড(ইরেপসিন) → অ্যামিনো এসিড
উদ্দীপকে খাদ্য পরিপাকে এনজাইম নয় হরমোন এর ভূমিকাও অপরিহার্য। খাদ্য পরিপাকে নানা ধরনের এনজাইম যেমন-টায়ালিন, মল্টেজ, পেপসিন রেনিন, ট্রিপসিন ইত্যাদি এনজাইম ভূমিকা রাখলেও এসব এনজাইমকে নিঃসৃত হতে উদ্দীপনা যোগায় এবং নিঃসরণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন ধরনের হরমোন। খাদ্য পরিপাক নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলো হলো-
১. গ্যাস্ট্রিন: পাকস্থলির প্রাচীর হতে গ্যাস্ট্রিন নামক হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে পাকস্থলির প্রাচীরে বিদ্যমান গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি হতে গ্যাস্ট্রিক রস এবং পাকস্থলির প্রাচীর হতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয়।
২. সিক্রেটিন: অন্ত্রের প্রাচীর থেকে সিক্রেটিন হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। এছাড়া এটি পাকস্থলির প্রাচীরকে পেপসিন এনজাইম এবং যকৃতকে পিত্ত ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
৩. কোলেসিস্টোকাইনিন: ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর থেকে কোলেসিস্টোকাইনিন নামক হরমোন ক্ষরিত হয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণকে উদ্দীপিত করে। এছাড়া এটি পিত্তথলি থেকে পিত্তরস বের হতে উদ্দীপনা প্রদান করে।
৪. এন্টেরোকাইনিন: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এন্টেরোকাইনিন হরমোন ক্ষরিত হয়। এ হরমোনের প্রভাবে ইলিয়ামের প্রাচীরে বিদ্যমান আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে মল্টেজ, সুক্রেজ, ইনভারটেজ ও ল্যাকটেজ এনজাইম নিঃসৃত হয়।
৫. পেপটাইড YY: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে অন্ত্রের ভেতর দিয়ে ধীর গতিতে খাদ্য প্রবাহিত হয় যাতে দক্ষতার সাথে খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ সম্পন্ন হয়।
৬. গ্যাস্ট্রিক ইনহ্যাবিটরি পেপটাইড: ডিওডেনামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এটি পাকস্থলি থেকে খাদ্য অন্ত্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার পরিপেক্ষিতে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, পরিপাকে শুধুমাত্র এনজাইম নয় বরং হরমোনও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।