‘শিক্ষাগুবুর মর্যাদা’ কবিতা আমাদের উপলব্ধি করতে শেখায়; শিক্ষা হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষক হলেন কান্ডারি। তিল তিল করে নীরবে-নিভৃতে শিক্ষক তার আদর্শ দ্বারা জাতীয় আকাঙ্ক্ষার উপযোগী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। সমাজ ও দেশের জন্য শিক্ষকের অবদান অপরিসীম।
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের শাসনামলে কবি 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্য রচনা করেন।
"পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না দুইলা মাটিত।" বলতে কবি মায়ের স্নেহ-মমতা ও কল্যাণ দৃষ্টিকেই বড় করে তুলেছেন।
মাতৃস্নেহের তুলনা নেই। প্রতিটি শিশুর পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকাটি মা পালন করে থাকেন। মায়ের সদাজাগ্রত কল্যাণদৃষ্টি সন্তানের জীবনপথের পাথেয়স্বরূপ। শিশুকে মা বহু যত্নে লালন-পালন করেন। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যা লাভকরে শিশু ধীরে ধীরে পরিণত মানুষ হয়ে ওঠে। পিঁপড়ার ভয়ে মা সন্তানকে মাটিতে রাখেননি- এই কথা উল্লেখ করে কবি মায়ের সেই স্নেহ-মমতা ও কল্যাণ দৃষ্টিকেই বড় করে তুলেছেন।
উদ্দীপকে 'বন্দনা' কবিতার কবির শিক্ষকের জ্ঞানদানে মানুষ হয়ে ওঠার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে'।
'বন্দনা' কবিতায় কবি বলেছেন, 'ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হন্তে বাড়'। এখানে শিক্ষকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পেয়েছে, কারণ শিক্ষা ও জ্ঞান মানুষকে মানবিক ও সচেতন করে তোলে। এ কারণে মানুষকে শিক্ষা ও জ্ঞান প্রদান করার দিক দিয়ে শিক্ষককে পিতার চেয়েও বড়ো বলা হয়েছে।।
উদ্দীপকে মানবজীবনে শিক্ষকের মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষার কান্ডারি হলেন শিক্ষক। নীরবে-নিভৃতে শিক্ষক নিজস্ব আদর্শের দ্বারা জাতীয় আকাঙ্ক্ষার উপযোগী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলে সমাজ ও দেশকে উজ্জীবিত রাখেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি বাবা-মায়ের পাশাপাশি জ্ঞানদাতা শিক্ষকের ভূমিকাকে অকুণ্ঠচিত্তে স্মরণ করেছেন। শিক্ষকের হাত ধরে কবি নিজেকে জ্ঞানের রাজ্যে নিয়ে গেছেন, যেটাকে তিনি দ্বিতীয় জন্ম হিসেবে গুরুত্বারোপ করেছেন। কবি তার জীবনে শিক্ষকের তাৎপর্য-উপলব্ধি করে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এভাবে উদ্দীপকে 'বন্দনা' কবিতার এ দিকই প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে শুধু শিক্ষাগুরুর অবদানের বিষয় উল্লেখ থাকায় বলা যায়, উদ্দীপকটি 'বন্দনা' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিনিধিত্ব করে না।
'বন্দনা' কবিতার সারমর্ম হলো- মানবজীবনের মূল ভিত্তি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও দয়া। শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর জীবনের প্রতিটি আশ্রয়কে প্রণামের মাধ্যমে মহিমান্বিত করেছেন।
'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনকে পরিপূর্ণতা দানে মাতা-পিতা ও শিক্ষকের অবদানকে গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করেছেন। শিশু বয়সের অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করে কবি বাবা-মায়ের অবর্ণনীয় ভূমিকাকে অকপটে স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষকের হাত ধরে মনুষ্যত্বের সন্ধানে দ্বিতীয় জন্মের কথা উল্লেখ করেছেন। এ দিক থেকে কবি শিক্ষককে পিতামাতার চেয়েও এগিয়ে রেখেছেন। উদ্দীপকে জাতির কান্ডারি বা পথপ্রদর্শক হিসেবে শিক্ষকের ভূমিকার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গোপন শ্রমের মাধ্যমে শিক্ষক তিলে তিলে জাতি গঠনের কাজটি সম্পন্ন করে আদর্শ মানুষ সৃষ্টিতে অবদান রাখেন।
উদ্দীপকে মানবজীবনে শিক্ষকের অবদানকে স্বীকার করা হলেও বাবা-মায়ের সেবা-যত্ন ও পরিচর্যার বিষয়টি ফুটে ওঠেনি। মানজীবনে পিতামাতার গুরুত্ব সর্বাধিক। নবজাতক অবস্থায় শিশু সর্বাপেক্ষা মায়ের ওপর নির্ভরশীল। বাবা খেয়ে না খেয়ে সন্তানের খাবার-পোশাকের বন্দোবস্ত করেন। 'বন্দনা' কবিতায় তাই কবি নিজের জীবনের বিকাশ ও পরিপূর্ণতায় বাবা-মা ও শিক্ষকের কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। এদিকে উদ্দীপকে কেবল শিক্ষকের অবদানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'বন্দনা' কবিতার সমগ্র মূলভাবকে ধারণ করেনি।
